
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন জুলাই শহিদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।
জবানবন্দিতে তিনি এই মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ তার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। ছেলে হত্যার বর্ণনা দেওয়ার তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে শহিদুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জন।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন চারজন, তারা হলেন— সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
নানক, তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টনসহ অন্যরা।
বুধবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তার একমাত্র ছেলে ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে সে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। কলেজ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমন্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে অবস্থান নেয়।
তিনি বলেন, তারা (ছেলে ও বন্ধুরা) ছিল নিরস্ত্র। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপরে নির্বিচারে গুলি চালায়। সেদিন আড়াইটার দিকে তার ছেলের বুকে একটি গুলি লাগে।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক তাকে ফোন করে জানান, ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি তখন মালিবাগে অফিসে অবস্থান করছিলেন। ছেলের গুলির খবর শুনে তিনি তখন প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন দৌড়ে অফিস থেকে নেমে ধানমন্ডি-২৭ এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। রাস্তাঘাটে পরিবহন ছিল না। তিনি কিছুটা পথ হেঁটে, কিছুটা পথ দৌড়ে এবং কিছুটা পথ রিকশায় করে যাওয়ার পথে আরেকটা ফোন আসে যে তার ছেলেকে লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো দেখেন উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ওখানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম। একপর্যায়ে ডাক্তার ওর মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিল এবং কাপড় দিয়ে ওর মুখ ঢেকে দিল। তাতে আমি বুঝলাম, আমার ছেলে আর নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যুসনদ দিয়েছিল, তাতে লেখা ছিল সে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে।’
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য আইনজীবী।
এর আগে গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন জুলাই শহিদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া।
জবানবন্দিতে তিনি এই মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ তার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। ছেলে হত্যার বর্ণনা দেওয়ার তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে শহিদুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জন।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন চারজন, তারা হলেন— সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন ও যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।
নানক, তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টনসহ অন্যরা।
বুধবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তার একমাত্র ছেলে ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে সে বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। কলেজ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে ধানমন্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে অবস্থান নেয়।
তিনি বলেন, তারা (ছেলে ও বন্ধুরা) ছিল নিরস্ত্র। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী, আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপরে নির্বিচারে গুলি চালায়। সেদিন আড়াইটার দিকে তার ছেলের বুকে একটি গুলি লাগে।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক তাকে ফোন করে জানান, ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তিনি তখন মালিবাগে অফিসে অবস্থান করছিলেন। ছেলের গুলির খবর শুনে তিনি তখন প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন দৌড়ে অফিস থেকে নেমে ধানমন্ডি-২৭ এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। রাস্তাঘাটে পরিবহন ছিল না। তিনি কিছুটা পথ হেঁটে, কিছুটা পথ দৌড়ে এবং কিছুটা পথ রিকশায় করে যাওয়ার পথে আরেকটা ফোন আসে যে তার ছেলেকে লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।
লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো দেখেন উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি ওখানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম। একপর্যায়ে ডাক্তার ওর মুখের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিল এবং কাপড় দিয়ে ওর মুখ ঢেকে দিল। তাতে আমি বুঝলাম, আমার ছেলে আর নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে মৃত্যুসনদ দিয়েছিল, তাতে লেখা ছিল সে ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছে।’
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য আইনজীবী।
এর আগে গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় গ্রেপ্তার চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজাখস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে একমত হন।
৪ ঘণ্টা আগে
শ্রম আইনের মামলায় আজ বুধবার সকালে গ্রেপ্তার নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের বিচারক গোলাম আজম এ দিন দুপুরে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
৫ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকল এখন না থাকলেও নকলের ধরন পরিবর্তন হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তাহলে কোনভাবেই এর সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।’
৬ ঘণ্টা আগে
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে