
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজনীতি ডটকম

জুলাই অভ্যুত্থানের পথ বেয়ে দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়বেলা সমাগত। আর সপ্তাহখানেক পরেই জাতীয় নির্বাচন, যার ফল প্রকাশ হলেই নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথের মাধ্যমে অবসান ঘটবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। ঠিক এমন সময়ে এসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ‘গোপন’ শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্গো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও চুক্তি হতে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে সরকার গতকালই চুক্তি সই করেছে জাপান সরকারের সঙ্গে। দেশে ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে।
কেবল বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি নয়, জাতীয় পর্যায়েও সরকারের শেষ মুহূর্তে এসে ‘তড়িঘড়ি করে’ নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে— প্রায় শতভাগ বেতন বাড়িয়ে নবম পে কমিশনের ঘোষণা, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, র্যাবের জন্য যানবাহন কেনা, নতুন অর্থবছরে ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো, ২৫২টি নতুন রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়া এবং প্রশাসনে ব্যাপক পদোন্নতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে এসে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব চুক্তি করছে ও সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে, তার কোনোটিই তাদের বাস্তবায়ন করতে হবে না। এগুলো বাস্তবায়নের ভার গিয়ে পড়বে নতুন নির্বাচিত সরকারের ওপর, যা তাদের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়াবে। এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ।
নির্বাচনের ঠিক আগে যখন অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন কাজে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিয়ে ‘ব্যতিব্যস্ত’ হওয়ার কথা, তখন সরকারের এসব সিদ্ধান্ত রীতিমতো ‘তুঘলকি’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত চুক্তিগুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও।
এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও এসব ‘স্পর্শকাতর’ চুক্তি ও বড় আকারেরব সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ড. ইমতিয়াজ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব কাজ করছে সেগুলো নির্বাচিত সরকারের কাজ নয়। এই সরকার যা করে গেল, তা ভবিষ্যতে প্রিসিডেন্স তৈরি করবে। কাজগুলো মোটেও ঠিক হয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এসব কাজ করে যাবে। প্রকৃতপক্ষে তিন মাস আগেই তাদের এসব কাজ বন্ধ করা উচিত ছিল। আর তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সমীচীন নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার নিয়ম-কানুনের কথা বলে দায়িত্ব নিলো। কিন্তু সেই জায়গায় তারা থাকতে পারল না। তারা প্রতিদিন দেশের ক্ষতি করছে। সরকার সবকিছু ভেঙে দিয়েছে— এটা বলা হলেও যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, তা এই সরকার নষ্ট করে দিয়েছে।’
‘নির্বাচিত সরকারের যেভাবে ম্যান্ডেট থাকে, এই সরকারের তেমন ম্যান্ডেট নেই। তারপরও তারা এমনভাবে কাজ করে যাচ্ছে যেন তাদের সঙ্গে জনগণের ম্যান্ডেট ছিল। এসব বিষয় আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে টিকবে বলে আমার মনে হয় না,’— বলেন ড. ইমতিয়াজ।
অন্তর্বর্তী সরকারের এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্তকে ‘রহস্যজনক’ আখ্যা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। এর কারণ হিসেবে তিলি উল্লেখ করেছেন এগুলোর প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং অংশীজনদের ‘অন্ধকারে’ রাখার কথা।
আনু মুহাম্মদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে অন্তর্বর্তী সরকারের এসব চুক্তি, সমঝোতা বা খসড়া খুবই রহস্যজনক। প্রশ্ন ওঠে— এসব চুক্তি করতে সরকারের দায়বদ্ধতা কোথায় এবং কীসের? এসব খাতসংশ্লিষ্ট মানুষজন, বিশেষ করে প্রধান অংশীদার ব্যবসায়ীরাও অনেকটাই অন্ধকারে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলা হয়নি। আমরা জাতীয় উন্নয়ন বা অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক দেখি না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পরই অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া। সেটা না করে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে সরকার ঝাঁপিয়ে পড়ল, সেটি সঠিক ছিল না। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি— শুল্ক কমাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে হবে, অস্ত্র কিনতে হবে, গোপনীয়তা রাখতে হবে, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সীমারেখা টানতে হবে।’
নির্বাচনের তিন দিন আগে এমন চুক্তি না করলে কি মাথায় বাজ পড়বে বা বাংলাদেশের বড় ধরনের সর্বনাশ হয়ে যাবে?— প্রশ্ন রাখেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের যে দায়িত্ব, তাতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া তার এখতিয়ারে পড়ে না। দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে— এমন কোনো কাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এগুলো করা এক ধরনের অপরাধও বটে।’
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও এসব দিকে সরকারের মনোযোগ বা সক্রিয়তা ততটা নেই। বরং যা তাদের এখতিয়ারে নেই, সেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতেই সরকারের যত আগ্রহ।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলছে না। আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দেখে মনে হয়, তারা কথা বললে কেউ রুষ্ট হতে পারে— এমন ভাবনা তাদের মধ্যে কাজ করছে। তা না হলে জাতীয় স্বার্থবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের চুপ থাকার কথা নয়। এই দায় তাদের ওপরও কিন্তু বর্তাবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে বিদেশি চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন ড. ইমতিয়াজ। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো দেশ কেন এ ধরনের চুক্তি করছে, সেটিও এক রহস্যজনক বিষয়। বাংলাদেশে সরকার আসবে এবং সরকার যাবে, কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের কাস্টডিয়ান প্রকৃতপক্ষে জনগণ। তাদের একাংশকে ক্ষেপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, জনগণের আস্থা নষ্ট করা হচ্ছে।’
‘এই সরকার হয়তো বলবে বা যুক্তি দেবে যে কাজগুলো আগে থেকেই করা আছে। কিন্তু সেই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা চীনকে সরকারের বলা উচিত ছিল যে নির্বাচিত সরকার এসে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। ওইসব দেশ নিয়ম-কানুনের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তারাও যদি নিরুৎসাহিত করত, তাহলে এই সরকার এসব কাজ করতে হয়তো আগ্রহী হতো না,’— বলেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
সরকার অবশ্য এসব চুক্তি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অস্বাভাবিক মনে করছে না। বরং সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে ‘চলমান প্রক্রিয়ার অংশ’ বলে অভিহিত করছে। সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটি চলমান প্রক্রিয়া।’
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হতে যাওয়া শুল্ক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চুক্তির খসড়ায় কী আছে, তা তারা জানেন না। চুক্তির ফলে তারা কী সুফল পাবেন, সেটি নিয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই তাদের।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত মার্কিন পণ্যের বাজার বাড়াতে চান। এর জন্য নানা ধরনের শর্ত রয়েছে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে, যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎস বিধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের অনেক বিষয়। রয়েছে চীন থেকে পণ্য আমদানি কমানোর কথা, চীনের বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য আমদানি বাড়ানোর কথা।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং এসব পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিষয়ক সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না— এমন শর্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির সহজ প্রবেশাধিকারও রয়েছে তাদের শর্তে।
তবে এখন পর্যন্ত এই চুক্তির কোনো কিছুই প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতেও কতটুকু সাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কারণ এই চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে বাংলাদেশ। এ জন্যই ব্যবসায়ীরা এই চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
সরকারের করা নানা ধরনের চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকেই উদ্বেগ জানানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এবং নির্বাচনের ছয় দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। সব যুক্তি, তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া ও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের এ তৎপরতায় অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা ও তাড়াহুড়ো খুবই সন্দেহজনক এবং দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’।
আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোসহ সরকারের অনুমোদনকে ‘অপচয়মূলক বরাদ্দ’ বলে অভিহিত করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। অন্তর্বর্তী সরকারের এসব ‘স্বেচ্ছাচারী’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে এ কমিটি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বাড়তি বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, সরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নতুন পে-স্কেল ঘুষ-দুর্নীতির প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অব্যর্থ হাতিয়ারে পরিণত হবে।
এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যে বেতন-ভাতা বাড়ালে সরকারি খাতে দুর্নীতি কমেছে। বরং যে হারে বেতন বাড়ে, তার চেয়ে বেশি হারে ঘুষসহ অবৈধ লেনদেন বাড়ে। যার বোঝা জনগণকে বইতে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

জুলাই অভ্যুত্থানের পথ বেয়ে দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়বেলা সমাগত। আর সপ্তাহখানেক পরেই জাতীয় নির্বাচন, যার ফল প্রকাশ হলেই নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথের মাধ্যমে অবসান ঘটবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। ঠিক এমন সময়ে এসে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ‘গোপন’ শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্গো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও চুক্তি হতে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে সরকার গতকালই চুক্তি সই করেছে জাপান সরকারের সঙ্গে। দেশে ড্রোন উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে।
কেবল বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তি নয়, জাতীয় পর্যায়েও সরকারের শেষ মুহূর্তে এসে ‘তড়িঘড়ি করে’ নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে— প্রায় শতভাগ বেতন বাড়িয়ে নবম পে কমিশনের ঘোষণা, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, র্যাবের জন্য যানবাহন কেনা, নতুন অর্থবছরে ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো, ২৫২টি নতুন রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়া এবং প্রশাসনে ব্যাপক পদোন্নতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে এসে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব চুক্তি করছে ও সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে, তার কোনোটিই তাদের বাস্তবায়ন করতে হবে না। এগুলো বাস্তবায়নের ভার গিয়ে পড়বে নতুন নির্বাচিত সরকারের ওপর, যা তাদের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়াবে। এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ।
নির্বাচনের ঠিক আগে যখন অন্তর্বর্তী সরকারের রুটিন কাজে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিয়ে ‘ব্যতিব্যস্ত’ হওয়ার কথা, তখন সরকারের এসব সিদ্ধান্ত রীতিমতো ‘তুঘলকি’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত চুক্তিগুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও।
এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও এসব ‘স্পর্শকাতর’ চুক্তি ও বড় আকারেরব সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ড. ইমতিয়াজ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব কাজ করছে সেগুলো নির্বাচিত সরকারের কাজ নয়। এই সরকার যা করে গেল, তা ভবিষ্যতে প্রিসিডেন্স তৈরি করবে। কাজগুলো মোটেও ঠিক হয়নি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এসব কাজ করে যাবে। প্রকৃতপক্ষে তিন মাস আগেই তাদের এসব কাজ বন্ধ করা উচিত ছিল। আর তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সমীচীন নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার নিয়ম-কানুনের কথা বলে দায়িত্ব নিলো। কিন্তু সেই জায়গায় তারা থাকতে পারল না। তারা প্রতিদিন দেশের ক্ষতি করছে। সরকার সবকিছু ভেঙে দিয়েছে— এটা বলা হলেও যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, তা এই সরকার নষ্ট করে দিয়েছে।’
‘নির্বাচিত সরকারের যেভাবে ম্যান্ডেট থাকে, এই সরকারের তেমন ম্যান্ডেট নেই। তারপরও তারা এমনভাবে কাজ করে যাচ্ছে যেন তাদের সঙ্গে জনগণের ম্যান্ডেট ছিল। এসব বিষয় আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে টিকবে বলে আমার মনে হয় না,’— বলেন ড. ইমতিয়াজ।
অন্তর্বর্তী সরকারের এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্তকে ‘রহস্যজনক’ আখ্যা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। এর কারণ হিসেবে তিলি উল্লেখ করেছেন এগুলোর প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং অংশীজনদের ‘অন্ধকারে’ রাখার কথা।
আনু মুহাম্মদ রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে অন্তর্বর্তী সরকারের এসব চুক্তি, সমঝোতা বা খসড়া খুবই রহস্যজনক। প্রশ্ন ওঠে— এসব চুক্তি করতে সরকারের দায়বদ্ধতা কোথায় এবং কীসের? এসব খাতসংশ্লিষ্ট মানুষজন, বিশেষ করে প্রধান অংশীদার ব্যবসায়ীরাও অনেকটাই অন্ধকারে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে ঠিকমতো কথাও বলা হয়নি। আমরা জাতীয় উন্নয়ন বা অর্থনীতির বিকাশের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক দেখি না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পরই অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগের সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া। সেটা না করে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেভাবে সরকার ঝাঁপিয়ে পড়ল, সেটি সঠিক ছিল না। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি— শুল্ক কমাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে হবে, অস্ত্র কিনতে হবে, গোপনীয়তা রাখতে হবে, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের সীমারেখা টানতে হবে।’
নির্বাচনের তিন দিন আগে এমন চুক্তি না করলে কি মাথায় বাজ পড়বে বা বাংলাদেশের বড় ধরনের সর্বনাশ হয়ে যাবে?— প্রশ্ন রাখেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের যে দায়িত্ব, তাতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া তার এখতিয়ারে পড়ে না। দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে— এমন কোনো কাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এগুলো করা এক ধরনের অপরাধও বটে।’
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর এগিয়ে নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কাজ উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও এসব দিকে সরকারের মনোযোগ বা সক্রিয়তা ততটা নেই। বরং যা তাদের এখতিয়ারে নেই, সেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতেই সরকারের যত আগ্রহ।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারের এসব চুক্তি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলছে না। আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দেখে মনে হয়, তারা কথা বললে কেউ রুষ্ট হতে পারে— এমন ভাবনা তাদের মধ্যে কাজ করছে। তা না হলে জাতীয় স্বার্থবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের চুপ থাকার কথা নয়। এই দায় তাদের ওপরও কিন্তু বর্তাবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে বিদেশি চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে আবার প্রশ্ন তুলেছেন ড. ইমতিয়াজ। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো দেশ কেন এ ধরনের চুক্তি করছে, সেটিও এক রহস্যজনক বিষয়। বাংলাদেশে সরকার আসবে এবং সরকার যাবে, কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগের কাস্টডিয়ান প্রকৃতপক্ষে জনগণ। তাদের একাংশকে ক্ষেপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, জনগণের আস্থা নষ্ট করা হচ্ছে।’
‘এই সরকার হয়তো বলবে বা যুক্তি দেবে যে কাজগুলো আগে থেকেই করা আছে। কিন্তু সেই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান বা চীনকে সরকারের বলা উচিত ছিল যে নির্বাচিত সরকার এসে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। ওইসব দেশ নিয়ম-কানুনের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তারাও যদি নিরুৎসাহিত করত, তাহলে এই সরকার এসব কাজ করতে হয়তো আগ্রহী হতো না,’— বলেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
সরকার অবশ্য এসব চুক্তি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অস্বাভাবিক মনে করছে না। বরং সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে ‘চলমান প্রক্রিয়ার অংশ’ বলে অভিহিত করছে। সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটি চলমান প্রক্রিয়া।’
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হতে যাওয়া শুল্ক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, চুক্তির খসড়ায় কী আছে, তা তারা জানেন না। চুক্তির ফলে তারা কী সুফল পাবেন, সেটি নিয়েও স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই তাদের।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত মার্কিন পণ্যের বাজার বাড়াতে চান। এর জন্য নানা ধরনের শর্ত রয়েছে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে, যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি, উৎস বিধি, জাতীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের অনেক বিষয়। রয়েছে চীন থেকে পণ্য আমদানি কমানোর কথা, চীনের বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য আমদানি বাড়ানোর কথা।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং এসব পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মানবিষয়ক সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না— এমন শর্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির সহজ প্রবেশাধিকারও রয়েছে তাদের শর্তে।
তবে এখন পর্যন্ত এই চুক্তির কোনো কিছুই প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতেও কতটুকু সাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কারণ এই চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে বাংলাদেশ। এ জন্যই ব্যবসায়ীরা এই চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
সরকারের করা নানা ধরনের চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকেই উদ্বেগ জানানো হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এবং নির্বাচনের ছয় দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। সব যুক্তি, তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া ও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের এ তৎপরতায় অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা ও তাড়াহুড়ো খুবই সন্দেহজনক এবং দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’।
আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোসহ সরকারের অনুমোদনকে ‘অপচয়মূলক বরাদ্দ’ বলে অভিহিত করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। অন্তর্বর্তী সরকারের এসব ‘স্বেচ্ছাচারী’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে এ কমিটি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও (টিআইবি) সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বাড়তি বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, সরকারি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে নতুন পে-স্কেল ঘুষ-দুর্নীতির প্রিমিয়াম বৃদ্ধির অব্যর্থ হাতিয়ারে পরিণত হবে।
এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যে বেতন-ভাতা বাড়ালে সরকারি খাতে দুর্নীতি কমেছে। বরং যে হারে বেতন বাড়ে, তার চেয়ে বেশি হারে ঘুষসহ অবৈধ লেনদেন বাড়ে। যার বোঝা জনগণকে বইতে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সাময়িকীটি লিখেছে, ‘খ্যাতনামা এক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী মি. রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার।’
১৫ ঘণ্টা আগে
জানুয়ারি মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে আসক জানিয়েছে, মাসজুড়েই সহিংসতার মাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ৮টি সহিংস ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ১৮টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত হন। ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১১ দিনে নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার (
১৬ ঘণ্টা আগে
সভায় সেনাপ্রধান বলেন, কিছু আর্থিক লেনদেন হতে পারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু ক্রিমিনাল থাকতে পারে, তারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিতে পারে। কিন্তু ভোটের দিন সবাই এ ধরনের অপরাধ করবে না।
১৬ ঘণ্টা আগে
গ্রেপ্তারদের মধ্যে লালবাগ থানা একজন, গুলশান থানা দুইজন, সূত্রাপুর থানা তিনজন, মোহাম্মদপুর থানা চারজন, খিলগাঁও থানা একজন, হাজারীবাগ থানা ৯ জন, তুরাগ থানা একজন, চকবাজার থানা একজন, যাত্রাবাড়ী থানা পাঁচজন, রামপুরা থানা একজন, উত্তরখান থানা একজন, ও বনানী থানা একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে