
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

দেখতে স্মার্ট, কিন্তু ভেতরটা ফাঁপা, প্রবাদবাক্যে এদেরকে মাকাল ফল বলে। কিন্তু এমন মানুষকে মাকাল ফল কেন বলা হয়? মাকাল ফলের ভেতরটা কি আসলেই কুৎসিত? বাইরে থেকে দেখতে মাকাল ফল কি খুবই সুশ্রী?
কিন্তু কেন? মাকাল ফল কি দেখতে সুন্দর।
আসলেই সুন্দর। এমনকী আপেলের চেয়েও সুন্দর। কাঁচা ফলের এক রকম সৌন্দর্য, ডাসা ফলের আরেকরকম। পাকলে গাঢ় লাল- দেখলেই জীভে পানি চলে আসে।
কিন্তু মানুষকে তাচ্ছিল্য করতে কেন মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়?
কারণ এর মাকাল ফলের ভেতরে চেহারা। ভেতরে কালো কালো বীজ আছে। থকথকে জেলির মাখা বীজ। দেখতে বিড়ালের বিষ্ঠার মতো। অর্থাৎ মাকাল ফলের বাইরের চেহারা যতটা সুন্দর, এর ভেতরটা চেহারা ততটাই বিশ্রী। তেমনি এর স্বাদ। তেতো, মুখে দিলে গা গুলিয়ে আসবে। সুতরাং মাকাল ফল যে প্রবাদ বাক্যে জায়গা করে নিয়েছে, তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।
এই যে বিশ্বাদ, যেটা মানুষের কোনো কাজেই লাগে না, সেটা ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। এক সময় এদেশের মাঠে-পতিত জমিতে, গাঁয়ের ঝোপ-জঙ্গলে মাকাল ফল দেখা যেত। নব্বই দশক থেকেই কমে যেতে শুরু করে। এখন গ্রামের মাঠে বিরল। বনে জঙ্গলে হয়তো কিছু কিছু চোখে পড়ে। তারপরও হয়তো কোনো নদীর তীরে, ঘন-ঝোপ জঙ্গলের ভেতর লেখার সঙ্গে সযুক্ত ছবির মতো কিছু কিছু মাকাল গাছ দেখা যায়। সেটা আসলে উদ্ভিদপ্রেমীদের কাছে সৌভাগ্যই বটে।
ছবির এই গাছটা পাওয়া গিয়েছিল ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী এক গ্রামে। একটা প্রাকৃতিক বাওড়ের কিনারে। বুনো গুল্ম লতায় ঠাঁসা সে জায়গায় ছিল মাঝারি আকারের একটা মেহগনি আর একটা শিশু গাছ। সেই গাছদুটে বেয়ে, জড়িয়ে-কুড়িয়ে ছিল হাজার লতার এই উদ্ভিদ।
সবকটা নাগালের বাইরে, অনেক উঁচুতে। ক্যামেরার সর্বোচ্চ জুম ব্যবহার করে টপটপ কয়েকটা ছবি নিলাম। আশপাশে খুঁজে-পেতে দেখলাম কোনও লাঠি-টাঠি পাওয়া যায় কিনা। মেহগনি-শিশু গাছের যে অবস্থা, বিশেষ করে মাকালের লতা-পাতাগুলো যা করে রেখেছে তাতে গাছে চড়া অসম্ভব। পেলাম একটা মোটা পাটখড়ি। পারভেজ তাতে লতা দিয়ে পেঁচিয়ে একটা আঁকাশি বাঁধল।
আঁকশি দিয়ে টেনে কিছুটা নিচে নামতে সক্ষম হলাম একটা মাকালকে। আরও ক্লোজ ছবি পেলাম। এবার চেষ্টা করলাম একটা ফল পাড়া যায় কিনা। উদ্দেশ্য দুটো। মাকালের ভেতরের ছবি নেয়া। বীজের ছবিও পাওয়া যাবে তাতে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য বাড়ি গিয়ে ছোটদের দেখানো। কিন্তু আঁকাশি গেল ভেঙে। বেশ দূর থেকে খুঁজে পেতে একটা ভেরেল্ডাকচার ডাল নিয়ে এলাম। সেটার সাহায্যে বহু কষ্টে পাড়লাম গোটা তিনেক মাকাল ফল।
কাল ফল লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর লতা ভীষণ শক্ত। লতার রং সাদাটে সবুজ। লতা বেশ মোটা হয়। গোড়ার দিকের লতা ২-৪ ইঞ্চি পর্যন্ত মোটা হতে পারে।
মাকালের পাতা চাল কুমড়োর পাতার মতো। তিনটি ফলকে বিভক্ত। গোলাকার। পাতার বোঁটা থেকে শীর্ষ ফলক পর্যন্ত দৈর্ঘ ৬ ইঞ্চি। আড়াআড়ি ব্যাস ৫ ইঞ্চি। পাতা খসখসে। বেশ পুরু। নরম। পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। বোঁটার দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই ইঞ্চি। বোঁটা ১ ইঞ্চি মোটা।
মাকালের ফুল সাদা রঙের। লম্বা। মাইকাকৃতির। লাউফুলের সাথে মিল আছে। মঞ্জরি এক পুষ্পক। ফুল গন্ধহীন। লাউয়ের মতোই ফুলের গোড়ায় ফল ধরে।
মাকালের মূল সৌন্দর্যই এর ফলে। ফল গোলগাল। মসৃণ। অসম্ভব সুন্দর। কাঁচা ফলের রং সবুজ। ফল আপেলের মতো মোটা হয়। পূর্ণঙ্গ ফলের ওজন ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম। ফল পাকার আগে হলুদ রং ধারণ করে। পাকালে টকটকে লাল। বেশ শক্ত। খোসা পুরু। ফলের ভেতরে জেলির মতো থকথকে এক ধরনের পদার্থ থাকে। তার ভেতরে কালচে কদাকার বীজ।
বারোমাসি ফল। সারা বছর ফুল-ফল হয়। পানি পেলে সারা বছর চারা গজায়। মাকালের বৈজ্ঞানিক নাম: Trichosanthes tricuspidata

দেখতে স্মার্ট, কিন্তু ভেতরটা ফাঁপা, প্রবাদবাক্যে এদেরকে মাকাল ফল বলে। কিন্তু এমন মানুষকে মাকাল ফল কেন বলা হয়? মাকাল ফলের ভেতরটা কি আসলেই কুৎসিত? বাইরে থেকে দেখতে মাকাল ফল কি খুবই সুশ্রী?
কিন্তু কেন? মাকাল ফল কি দেখতে সুন্দর।
আসলেই সুন্দর। এমনকী আপেলের চেয়েও সুন্দর। কাঁচা ফলের এক রকম সৌন্দর্য, ডাসা ফলের আরেকরকম। পাকলে গাঢ় লাল- দেখলেই জীভে পানি চলে আসে।
কিন্তু মানুষকে তাচ্ছিল্য করতে কেন মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করা হয়?
কারণ এর মাকাল ফলের ভেতরে চেহারা। ভেতরে কালো কালো বীজ আছে। থকথকে জেলির মাখা বীজ। দেখতে বিড়ালের বিষ্ঠার মতো। অর্থাৎ মাকাল ফলের বাইরের চেহারা যতটা সুন্দর, এর ভেতরটা চেহারা ততটাই বিশ্রী। তেমনি এর স্বাদ। তেতো, মুখে দিলে গা গুলিয়ে আসবে। সুতরাং মাকাল ফল যে প্রবাদ বাক্যে জায়গা করে নিয়েছে, তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।
এই যে বিশ্বাদ, যেটা মানুষের কোনো কাজেই লাগে না, সেটা ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। এক সময় এদেশের মাঠে-পতিত জমিতে, গাঁয়ের ঝোপ-জঙ্গলে মাকাল ফল দেখা যেত। নব্বই দশক থেকেই কমে যেতে শুরু করে। এখন গ্রামের মাঠে বিরল। বনে জঙ্গলে হয়তো কিছু কিছু চোখে পড়ে। তারপরও হয়তো কোনো নদীর তীরে, ঘন-ঝোপ জঙ্গলের ভেতর লেখার সঙ্গে সযুক্ত ছবির মতো কিছু কিছু মাকাল গাছ দেখা যায়। সেটা আসলে উদ্ভিদপ্রেমীদের কাছে সৌভাগ্যই বটে।
ছবির এই গাছটা পাওয়া গিয়েছিল ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী এক গ্রামে। একটা প্রাকৃতিক বাওড়ের কিনারে। বুনো গুল্ম লতায় ঠাঁসা সে জায়গায় ছিল মাঝারি আকারের একটা মেহগনি আর একটা শিশু গাছ। সেই গাছদুটে বেয়ে, জড়িয়ে-কুড়িয়ে ছিল হাজার লতার এই উদ্ভিদ।
সবকটা নাগালের বাইরে, অনেক উঁচুতে। ক্যামেরার সর্বোচ্চ জুম ব্যবহার করে টপটপ কয়েকটা ছবি নিলাম। আশপাশে খুঁজে-পেতে দেখলাম কোনও লাঠি-টাঠি পাওয়া যায় কিনা। মেহগনি-শিশু গাছের যে অবস্থা, বিশেষ করে মাকালের লতা-পাতাগুলো যা করে রেখেছে তাতে গাছে চড়া অসম্ভব। পেলাম একটা মোটা পাটখড়ি। পারভেজ তাতে লতা দিয়ে পেঁচিয়ে একটা আঁকাশি বাঁধল।
আঁকশি দিয়ে টেনে কিছুটা নিচে নামতে সক্ষম হলাম একটা মাকালকে। আরও ক্লোজ ছবি পেলাম। এবার চেষ্টা করলাম একটা ফল পাড়া যায় কিনা। উদ্দেশ্য দুটো। মাকালের ভেতরের ছবি নেয়া। বীজের ছবিও পাওয়া যাবে তাতে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য বাড়ি গিয়ে ছোটদের দেখানো। কিন্তু আঁকাশি গেল ভেঙে। বেশ দূর থেকে খুঁজে পেতে একটা ভেরেল্ডাকচার ডাল নিয়ে এলাম। সেটার সাহায্যে বহু কষ্টে পাড়লাম গোটা তিনেক মাকাল ফল।
কাল ফল লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর লতা ভীষণ শক্ত। লতার রং সাদাটে সবুজ। লতা বেশ মোটা হয়। গোড়ার দিকের লতা ২-৪ ইঞ্চি পর্যন্ত মোটা হতে পারে।
মাকালের পাতা চাল কুমড়োর পাতার মতো। তিনটি ফলকে বিভক্ত। গোলাকার। পাতার বোঁটা থেকে শীর্ষ ফলক পর্যন্ত দৈর্ঘ ৬ ইঞ্চি। আড়াআড়ি ব্যাস ৫ ইঞ্চি। পাতা খসখসে। বেশ পুরু। নরম। পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। বোঁটার দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই ইঞ্চি। বোঁটা ১ ইঞ্চি মোটা।
মাকালের ফুল সাদা রঙের। লম্বা। মাইকাকৃতির। লাউফুলের সাথে মিল আছে। মঞ্জরি এক পুষ্পক। ফুল গন্ধহীন। লাউয়ের মতোই ফুলের গোড়ায় ফল ধরে।
মাকালের মূল সৌন্দর্যই এর ফলে। ফল গোলগাল। মসৃণ। অসম্ভব সুন্দর। কাঁচা ফলের রং সবুজ। ফল আপেলের মতো মোটা হয়। পূর্ণঙ্গ ফলের ওজন ৭৫ থেকে ১০০ গ্রাম। ফল পাকার আগে হলুদ রং ধারণ করে। পাকালে টকটকে লাল। বেশ শক্ত। খোসা পুরু। ফলের ভেতরে জেলির মতো থকথকে এক ধরনের পদার্থ থাকে। তার ভেতরে কালচে কদাকার বীজ।
বারোমাসি ফল। সারা বছর ফুল-ফল হয়। পানি পেলে সারা বছর চারা গজায়। মাকালের বৈজ্ঞানিক নাম: Trichosanthes tricuspidata

ঢাকা মহানগরীতে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ-কে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
২১ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। উদ্ধার অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজের তথ্য পেলে ফের উদ্ধার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
১ দিন আগে
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, অতীতে রাজনীতি বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের যে ব্যর্থতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠে আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষকে সুবিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে চাই।
১ দিন আগে
চিঠিতে রাজা চার্লস বলেন, আপনাদের জাতীয় দিবসের এই আনন্দময় মুহূর্তে আমি ও আমার স্ত্রী রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে আমাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সেই চিরস্থায়ী অংশীদারিত্বের কথা স্মরণ করছি, যা আমাদের কমনওয়েলথকে সংজ্ঞায়িত করে এমন
১ দিন আগে