‘আমাদের বহু স্রোত, মোহনা একটি— গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে সইয়ের আগে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ছবি: ভিডিও থেকে

বিভিন্ন দল বা গোষ্ঠীর নানা ধরনের চাওয়া-পাওয়া থাকলেও সবাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি লক্ষ্য নিয়েই জুলাই সনদে সই করার মাধ্যমে এক মোহনায় মিশেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, আমাদের মতের পার্থক্য থাকবে, পথের পার্থক্য থাকবে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য না থাকলে তা গণতান্ত্রিক হয় না। কিন্তু ঐক্যের জায়গাও থাকতে হবে। যেন আমরা বলতে পারি, আমাদের অনেক স্রোত, মোহনা একটি— একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করা। আমাদের বহু স্রোত, কিন্তু সবাই এক জায়গায়— আমরা যেকোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই দাঁড়িয়ে থাকব।

জুলাই জাতীয় সনদকে সেই স্বপ্ন, সেই প্রত্যাশা, সেই চেষ্টার স্মারকের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। শুক্রবার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই সনদ প্রণয়নে তিনিই কমিশনের পক্ষ থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে আশাবাদ জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, আমরা মনে করি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আমাদের যে চেষ্টা সে চেষ্টা একদিনে সাফল্য অর্জন করবে না। কেবল একটি দলিল সেটার নিশ্চয়তা দেবে না। আমরা আশা করি, এই যে জাতীয় দলিল তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবায়ন ঘটবে। দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন ঘটবে। নাগরিকদের মতামতের মধ্য দিয়ে এই দিক নির্দেশক, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে পরিচালনা করবে। কিন্তু আমাদের অনেকটা পথ যেতে হবে।

জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক অভিহিত করে ঐকমত্য কমিশনের এই সহসভাপতি বলেন, আজকের এই দিন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অভূতপূর্ব ও অনন্য সময়। একটি ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এটি হচ্ছে আমাদের দীর্ঘপথের যাত্রার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লাখো মানুষের আত্মদানের মধ্য দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা শুরু হলেও তা গত ৫৩ বছর ধরে বারবার হোঁচট খেয়েছে বলে উল্লেখ করেন আলী রীয়াজ। পরবর্তী সময়ের নানা আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এসব লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আজ আমরা জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি। আমাদের যে স্বপ্ন, বাংলাদেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা—তাকে ধারণ করে, তাকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবার জন্য একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা, তাতে একটি দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রায় এক বছর ধরে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এই জাতীয় সনদে উপনীত হয়েছেন।

জুলাই সনদ প্রণয়ন ও এতে সই করতে সম্মত হওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান আলী রীয়াজ। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই ধন্যবাদ জানান তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা আজকেও আহত আছেন, জুলাই যোদ্ধারা আজকেও সামগ্রিকভাবে কষ্টকর জীবনযাপন করছেন। তাদের প্রত্যেকের অবদানের মধ্য দিয়ে এই সনদ তৈরি হয়েছে। কেননা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যে আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, যা সাম্য-মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারকে প্রতিষ্ঠা করে, সেই প্রচেষ্টায় আমরা সবাই এক, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। কেননা সেখানে আমি-আপনি-তুমি-সে, এভাবে আমরা বিভক্ত নই। সেই প্রচেষ্টা, সেই সংগ্রাম, সেই প্রয়াস, সেই পথযাত্রা অব্যাহত থাকবে। সেই প্রত্যাশা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের, সেই প্রত্যাশা আমাদের সবার।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

৫ আগস্ট মানুষ সরকার সরালেও রাষ্ট্র বদলায়নি— সেটাই রাষ্ট্রপতির সাফল্য

রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের অভিপ্রায় নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান ঘটলেও রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে সাবেক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা জনগণের অভিপ্রায়ের অবস্থানের বিরোধ

৯ ঘণ্টা আগে

নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মনজুর মোর্শেদের যোগদানের তারিখ থেকে তার এ নিয়োগ কার্যকর হবেস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। তার নিয়োগের মেয়াদ হবে এক বছর।

১০ ঘণ্টা আগে

প্রায় ৪০০ রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রায় ৪০০ রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, ওই সময় পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৯৭টি।

১২ ঘণ্টা আগে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ ঘণ্টায় অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধার

ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে সচিবালয়ের ওই কর্মচারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানেই সাক্ষাৎ পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ছেলেটিকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

১৩ ঘণ্টা আগে