পিলখানা ট্র্যাজেডি: শহিদ সেনা দিবস আজ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৪৪
পিলখানা ট্র্যাজেডি। ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত এক নির্মম উপাখ্যানের দিন। ১৭ বছর আগের এই দিনে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। হত্যাযজ্ঞ চলে পরদিনও।

‘পিলখানা ট্র্যাজেডি’ হিসেবে পরিচিত এ দিনটি জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা ট্র্যাজেডিতে হত্যাযজ্ঞের শিকার সেইসব সেনাসহ বেসামরিক নাগরিকদের স্মরণের দিন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বিজিবি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সকালে রাওয়া ক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে বিচার করে অনেককেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরও ৪২৩ জনকে।

২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়।

হাইকোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাবন্দি দুজনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ জন। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া সাত বছর করে চারজনকে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়।

এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আটজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, চারজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২৯ জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুতসহ সাজা দেওয়া হয় আরও অনেককে।

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রায় দেড় দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনার পুনর্তদন্ত করতে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। সে প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে।

কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড হওয়ার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে ছিল বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ। অনেক টানাপোড়েন ছিল। এ ছাড়া ওই সময়ের সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।

কী ঘটেছিল পিলখানায়

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পিলখানা সদর দপ্তরে শুরু হয় বার্ষিক দরবার। বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিডিআরের কিছু বিদ্রোহী সৈনিক অতর্কিত হামলা চালায় দরবার হলে।

সে দিন বিদ্রোহী সৈনিকরা উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করেন তারা। নানা নাটকীয়তায় পিলখানার ভেতরের নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিদ্রোহের অবসান ঘটলে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ।

২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সন্ধান মেলে একাধিক গণকবরের। সেখানে পাওয়া যায় তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।

এ হত্যাকাণ্ডের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

৫ আগস্ট মানুষ সরকার সরালেও রাষ্ট্র বদলায়নি— সেটাই রাষ্ট্রপতির সাফল্য

রাষ্ট্রপতির এমন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কারের অভিপ্রায় নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান ঘটলেও রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে সাবেক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, যা জনগণের অভিপ্রায়ের অবস্থানের বিরোধ

৯ ঘণ্টা আগে

নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মনজুর মোর্শেদের যোগদানের তারিখ থেকে তার এ নিয়োগ কার্যকর হবেস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো। তার নিয়োগের মেয়াদ হবে এক বছর।

১১ ঘণ্টা আগে

প্রায় ৪০০ রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রায় ৪০০ রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, ওই সময় পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৯৭টি।

১৩ ঘণ্টা আগে

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ ঘণ্টায় অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধার

ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে সচিবালয়ের ওই কর্মচারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানেই সাক্ষাৎ পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ছেলেটিকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

১৩ ঘণ্টা আগে