
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত এক নির্মম উপাখ্যানের দিন। ১৭ বছর আগের এই দিনে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। হত্যাযজ্ঞ চলে পরদিনও।
‘পিলখানা ট্র্যাজেডি’ হিসেবে পরিচিত এ দিনটি জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা ট্র্যাজেডিতে হত্যাযজ্ঞের শিকার সেইসব সেনাসহ বেসামরিক নাগরিকদের স্মরণের দিন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বিজিবি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সকালে রাওয়া ক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে বিচার করে অনেককেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরও ৪২৩ জনকে।
২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়।
হাইকোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাবন্দি দুজনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ জন। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া সাত বছর করে চারজনকে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়।
এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আটজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, চারজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২৯ জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুতসহ সাজা দেওয়া হয় আরও অনেককে।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রায় দেড় দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনার পুনর্তদন্ত করতে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। সে প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে।
কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড হওয়ার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে ছিল বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ। অনেক টানাপোড়েন ছিল। এ ছাড়া ওই সময়ের সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পিলখানা সদর দপ্তরে শুরু হয় বার্ষিক দরবার। বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিডিআরের কিছু বিদ্রোহী সৈনিক অতর্কিত হামলা চালায় দরবার হলে।
সে দিন বিদ্রোহী সৈনিকরা উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করেন তারা। নানা নাটকীয়তায় পিলখানার ভেতরের নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিদ্রোহের অবসান ঘটলে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ।
২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সন্ধান মেলে একাধিক গণকবরের। সেখানে পাওয়া যায় তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।
এ হত্যাকাণ্ডের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত এক নির্মম উপাখ্যানের দিন। ১৭ বছর আগের এই দিনে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হন। হত্যাযজ্ঞ চলে পরদিনও।
‘পিলখানা ট্র্যাজেডি’ হিসেবে পরিচিত এ দিনটি জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে জাতীয় শহিদ সেনা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা ট্র্যাজেডিতে হত্যাযজ্ঞের শিকার সেইসব সেনাসহ বেসামরিক নাগরিকদের স্মরণের দিন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বিজিবি বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। শহিদ পরিবারের পক্ষ থেকে আজ সকালে রাওয়া ক্লাবে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাহিনীর নিজস্ব আইনে বিচার করে অনেককেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরও ৪২৩ জনকে।
২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আটজনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চারজনকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়।
হাইকোর্টে আপিল চলার সময়ে কারাবন্দি দুজনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ জন। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া সাত বছর করে চারজনকে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়।
এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে আরও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আটজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, চারজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২৯ জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুতসহ সাজা দেওয়া হয় আরও অনেককে।
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রায় দেড় দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনার পুনর্তদন্ত করতে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে। সে প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে।
কমিশনের প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড হওয়ার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে ছিল বিডিআরের মধ্যে ক্ষোভ। অনেক টানাপোড়েন ছিল। এ ছাড়া ওই সময়ের সরকার তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় পিলখানা সদর দপ্তরে শুরু হয় বার্ষিক দরবার। বিডিআর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিডিআরের কিছু বিদ্রোহী সৈনিক অতর্কিত হামলা চালায় দরবার হলে।
সে দিন বিদ্রোহী সৈনিকরা উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করেন তারা। নানা নাটকীয়তায় পিলখানার ভেতরের নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞ শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিদ্রোহের অবসান ঘটলে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ।
২৭ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সন্ধান মেলে একাধিক গণকবরের। সেখানে পাওয়া যায় তৎকালীন বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ সেনা কর্মকর্তাদের লাশ।
এ হত্যাকাণ্ডের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

নাগরিক সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে জনতা ব্যাংক পিএলসি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মধ্যে নাগরিক সেবা বিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সই হয়েছে। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করেছে ভিএফএস গ্লোবাল। আজ বুধবার রাজধানীর বনানীতে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আবেদনকারীরা অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে এই কেন্দ্রে ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন।
৯ ঘণ্টা আগে
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব বোর্ডের সনদকে সরকারি ও বেসরকারি মাদরাসার দুটি নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের যোগ্যতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও সংসদকে জান
১০ ঘণ্টা আগে
এলপিজির দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সয়াবিন তেলের দামে বাড়ল চাপ। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে বোতলে ভরা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে