
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তির একাংশ প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির বিভিন্ন দিক ও সুবিধা তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটির ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের ২ হাজার ৫০০ পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের ট্যারিফ লাইনে মোট পণ্যের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৫৮টি। এর মধ্য থেকে ৩২৬টি বাদে যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪১টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৪২৫৭ জারি করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পারস্পরিক শুল্ক (Reciprocal Tariff) আরোপ করে। এর পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র একটি অভিন্ন পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির খসড়া বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের কাছে প্রেরণ করে। আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে ৩০ আগস্ট সংশোধিত পারস্পরিক শুল্ক (আরটি) হার নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের জন্য তা প্রথমে ২০ শতাংশ নির্ধারিত হলেও, টানা ৯ মাসের গঠনমূলক আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দেয়। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এআরটি চুক্তিতে পণ্য, সেবা বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সহজীকরণ, রুলস অব অরিজিন, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ ও প্রতিযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, এসব বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশ আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ট্রেড-রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অফ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (TRIPS) চুক্তি অনুস্বাক্ষর করায় বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিতে নতুন কোনো শর্ত আরোপিত হয়নি। অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ পূর্বেই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পারস্পরিক শুল্কে এসব চুক্তির বিধানাগুলো বাস্তবায়নে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছে, সেগুলো অন্য উৎস থেকে কেনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য হওয়ায় সে বাজার ধরে রাখার জন্য দেশেটির বাজার থেকে পণ্য কেনার অঙ্গীকার করা হয়েছে; এতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় হবে না। শুধুমাত্র উৎসের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি বাজার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি হওয়া মোট পণ্যের প্রয় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। চুক্তিতে দেশের এ প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক শুল্ক শূন্য হারে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
সরকার বলছে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করলে পোশাক খাতে প্রত্যাশিত সুবিধা নিশ্চিত হবে। এক্ষেত্রে, ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক যোগ হবে না।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—
১. যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫টি দেশের সাথে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি সম্পাদন করেছে। ভারত ও জাপানের সাথে ‘Joint Declaration’ সম্পন্ন হয়েছে, তবে চুক্তি স্বাক্ষর অপেক্ষমান। যেসব চুক্তি অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে মালয়েশিয়া এবং কেম্বোডিয়ার সাথে সম্পাদিত চুক্তির সাথে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেডে’র কিছু মিল রয়েছে।
কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। যেমন— মালয়েশিয়া এবং কেম্বোডিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, দেশ দুটি ডিজিটাল ট্রেড সংক্রান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাইলে সেক্ষেত্রে তাদেরকে উক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করতে হবে। তবে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্তকৃত এআরটির খসড়াতে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।
২. রুলস অব অরিজিনের টেক্সটের মধ্যে বিদেশি (Foreign) বা স্থানীয় মূল্য সংযোজনের (Domestic Value Addition) পরিমাণ নির্ধারিত নেই। ফলে টেক্সট অনুযায়ী পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।
৩. যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মালয়েশিয়া এবং কেম্বোডিয়ার সম্পাদিত চুক্তিতে এ বিষয়টির উল্লেখ নেই। এখানে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
৪. এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৫০০টি পণ্যের শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাষ্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটির ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ট্যারিফ লাইনে মোট পণ্যের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৫৮টি। এর মধ্য থেকে ৩২৬টি বাদে যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪১টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত।
যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই ৪ হাজার ৯২২টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ।
বাকিগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৮টি পণ্যের শুল্কহার পাঁচ বছরের মধ্যে শূন্য করা হবে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুল্কহার ৫০ শতাংশ কমানো হবে। পরের চার বছরে বাকি ৫০ শতাংশ সমানুপাতিক হারে কমিয়ে শূন্যে নামানো হবে।
আর ৬৭২টি পণ্যের শুল্কহার ১০ বছরের মধ্যে শূন্য করবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রথম বছর ৫০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করাসহ পরের নয় বছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশকে সমানুপাতিক হারে কমিয়ে শূন্য করা হবে।
৫. এআরটির আওতায় গুরুত্ব পাওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কাগজবিহীন বাণিজ্য, মেধা সম্পদ অধিকার নিশ্চিতকরণ, ই-কমার্স লেনদেনের ওপর কাস্টমস শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশ, বাণিজ্যে কারিগরি ও অশুল্ক বাধা কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ, কনফর্মিটি অ্যাসেসমেন্ট সার্টিফিকেট, সুশাসন, এবং পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয়। এছাড়া ৯টি আইপিআর-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সমর্থন দিতেও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।
৬. এ চুক্তিতে ই-কমার্সে শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফার্মাসিউটিক্যালস আমদানিতে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যামিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সনদ থাকা সাপেক্ষে মার্কেট অথরাইজেশনের জন্য পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।
পুনরুৎপাদন করা পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা; খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি উদ্যোগকে স্বীকৃতি প্রদান; ডেইরি পণ্য, মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতে মার্কিন সনদকে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়সমূহের উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে।
কৃষি বায়ো-টেকনোলজি নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন, উক্ত প্রযুক্তির খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যকে (নন-লিভিং মডিফাইড অরগানিজম না থাকা শর্তে) স্বীকৃতি; জীবন্ত পোল্ট্রি ও এর সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিটকে স্বীকৃতি; প্ল্যান্ট এ প্ল্যান্ট পণ্য আমদানিতে বাজার প্রবেশ প্রক্রিয়া ২৪ মাসের মধ্যে সম্পাদন করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তিতে ইন্স্যুরেন্স, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগে ইকুইটি সীমা উদার করা, দুর্নীতিবিরোধী-সংক্রান্ত বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ, ডব্লিউটিও-এর অ্যাগ্রিমেন্ট অন ফিশারিজ সাবসিডিকে গ্রহণ করা ও অবৈধ আনরিপোর্টেড ও আন্ডাররেগুলেটেড (আইইউইউ)-এর ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান না করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম-সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম আইনকে হালনাগাদ করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. ডিজিটাল ট্রেড ও প্রযুক্তিতে ক্রস-বর্ডার প্রাইভেসি রুলস, প্রাইভেসি রিকগনিশন ফর প্রসেসরস, পার্সোনাল ডাটা প্রটেকশন ইত্যাদি বিষয়কে স্বীকৃতি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশটি হতে বোয়িং ক্রয়, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম, তুলা, সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করার বিষয়সমূহ খসড়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, কোনো দেশের পক্ষেই প্রাথমিক খসড়ায় চুক্তি বাতিলের সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে ‘এক্সিট ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাসহ বিশ্বের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তির একাংশ প্রকাশ করেছে সরকার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির বিভিন্ন দিক ও সুবিধা তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটির ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের ২ হাজার ৫০০ পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের ট্যারিফ লাইনে মোট পণ্যের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৫৮টি। এর মধ্য থেকে ৩২৬টি বাদে যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪১টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৪২৫৭ জারি করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পারস্পরিক শুল্ক (Reciprocal Tariff) আরোপ করে। এর পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাসের অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র একটি অভিন্ন পারস্পরিক শুল্ক চুক্তির খসড়া বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের কাছে প্রেরণ করে। আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে ৩০ আগস্ট সংশোধিত পারস্পরিক শুল্ক (আরটি) হার নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশের জন্য তা প্রথমে ২০ শতাংশ নির্ধারিত হলেও, টানা ৯ মাসের গঠনমূলক আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে তা ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নেতৃত্ব দেয়। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এআরটি চুক্তিতে পণ্য, সেবা বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বাণিজ্য সহজীকরণ, রুলস অব অরিজিন, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ ও প্রতিযোগিতাসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, এসব বিষয়ের মধ্যে বাংলাদেশ আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ট্রেড-রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অফ ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (TRIPS) চুক্তি অনুস্বাক্ষর করায় বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিতে নতুন কোনো শর্ত আরোপিত হয়নি। অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ পূর্বেই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। পারস্পরিক শুল্কে এসব চুক্তির বিধানাগুলো বাস্তবায়নে সম্মতি দেওয়া হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতে বিশেষ সুবিধা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য কেনার অঙ্গীকার করেছে, সেগুলো অন্য উৎস থেকে কেনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য হওয়ায় সে বাজার ধরে রাখার জন্য দেশেটির বাজার থেকে পণ্য কেনার অঙ্গীকার করা হয়েছে; এতে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় হবে না। শুধুমাত্র উৎসের পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি বাজার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি হওয়া মোট পণ্যের প্রয় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক। চুক্তিতে দেশের এ প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে পারস্পরিক শুল্ক শূন্য হারে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ থাকবে।
সরকার বলছে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করলে পোশাক খাতে প্রত্যাশিত সুবিধা নিশ্চিত হবে। এক্ষেত্রে, ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক যোগ হবে না।
চুক্তির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—
১. যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫টি দেশের সাথে পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি সম্পাদন করেছে। ভারত ও জাপানের সাথে ‘Joint Declaration’ সম্পন্ন হয়েছে, তবে চুক্তি স্বাক্ষর অপেক্ষমান। যেসব চুক্তি অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে মালয়েশিয়া এবং কেম্বোডিয়ার সাথে সম্পাদিত চুক্তির সাথে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেডে’র কিছু মিল রয়েছে।
কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। যেমন— মালয়েশিয়া এবং কেম্বোডিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, দেশ দুটি ডিজিটাল ট্রেড সংক্রান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাইলে সেক্ষেত্রে তাদেরকে উক্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করতে হবে। তবে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চূড়ান্তকৃত এআরটির খসড়াতে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।
২. রুলস অব অরিজিনের টেক্সটের মধ্যে বিদেশি (Foreign) বা স্থানীয় মূল্য সংযোজনের (Domestic Value Addition) পরিমাণ নির্ধারিত নেই। ফলে টেক্সট অনুযায়ী পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।
৩. যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তুলা এবং কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মালয়েশিয়া এবং কেম্বোডিয়ার সম্পাদিত চুক্তিতে এ বিষয়টির উল্লেখ নেই। এখানে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে।
৪. এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২ হাজার ৫০০টি পণ্যের শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাষ্টিক, কাঠ ও কাঠজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটির ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ট্যারিফ লাইনে মোট পণ্যের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৫৮টি। এর মধ্য থেকে ৩২৬টি বাদে যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। গত ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪১টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত।
যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া ৭ হাজার ১৩২টি পণ্যের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই ৪ হাজার ৯২২টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ।
বাকিগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৮টি পণ্যের শুল্কহার পাঁচ বছরের মধ্যে শূন্য করা হবে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুল্কহার ৫০ শতাংশ কমানো হবে। পরের চার বছরে বাকি ৫০ শতাংশ সমানুপাতিক হারে কমিয়ে শূন্যে নামানো হবে।
আর ৬৭২টি পণ্যের শুল্কহার ১০ বছরের মধ্যে শূন্য করবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রথম বছর ৫০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস করাসহ পরের নয় বছরে অবশিষ্ট ৫০ শতাংশকে সমানুপাতিক হারে কমিয়ে শূন্য করা হবে।
৫. এআরটির আওতায় গুরুত্ব পাওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কাগজবিহীন বাণিজ্য, মেধা সম্পদ অধিকার নিশ্চিতকরণ, ই-কমার্স লেনদেনের ওপর কাস্টমস শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশ, বাণিজ্যে কারিগরি ও অশুল্ক বাধা কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ, কনফর্মিটি অ্যাসেসমেন্ট সার্টিফিকেট, সুশাসন, এবং পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ক্রয়। এছাড়া ৯টি আইপিআর-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সমর্থন দিতেও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।
৬. এ চুক্তিতে ই-কমার্সে শুল্ক আরোপে স্থায়ী স্থগিতাদেশকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফার্মাসিউটিক্যালস আমদানিতে ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যামিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সনদ থাকা সাপেক্ষে মার্কেট অথরাইজেশনের জন্য পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।
পুনরুৎপাদন করা পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা; খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি উদ্যোগকে স্বীকৃতি প্রদান; ডেইরি পণ্য, মাংস ও পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতে মার্কিন সনদকে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়সমূহের উল্লেখ রয়েছে চুক্তিতে।
কৃষি বায়ো-টেকনোলজি নিবন্ধন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন, উক্ত প্রযুক্তির খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যকে (নন-লিভিং মডিফাইড অরগানিজম না থাকা শর্তে) স্বীকৃতি; জীবন্ত পোল্ট্রি ও এর সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিটকে স্বীকৃতি; প্ল্যান্ট এ প্ল্যান্ট পণ্য আমদানিতে বাজার প্রবেশ প্রক্রিয়া ২৪ মাসের মধ্যে সম্পাদন করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া চুক্তিতে ইন্স্যুরেন্স, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগে ইকুইটি সীমা উদার করা, দুর্নীতিবিরোধী-সংক্রান্ত বিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ, ডব্লিউটিও-এর অ্যাগ্রিমেন্ট অন ফিশারিজ সাবসিডিকে গ্রহণ করা ও অবৈধ আনরিপোর্টেড ও আন্ডাররেগুলেটেড (আইইউইউ)-এর ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান না করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম-সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম আইনকে হালনাগাদ করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. ডিজিটাল ট্রেড ও প্রযুক্তিতে ক্রস-বর্ডার প্রাইভেসি রুলস, প্রাইভেসি রিকগনিশন ফর প্রসেসরস, পার্সোনাল ডাটা প্রটেকশন ইত্যাদি বিষয়কে স্বীকৃতি, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশটি হতে বোয়িং ক্রয়, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম, তুলা, সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা করার বিষয়সমূহ খসড়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, কোনো দেশের পক্ষেই প্রাথমিক খসড়ায় চুক্তি বাতিলের সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে ‘এক্সিট ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বিডি-ইউএস রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাসহ বিশ্বের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত অপর দু’জন হলেন— সনি র্যাংগসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরাম হোসেনের ভাই ও কোম্পানিটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) বিনাস হোসেন এবং তাদের মা সাচিমি ওগাওয়ারা হোসেন।
৩ ঘণ্টা আগে
নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ দেশের এক সন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্দে বিশাল দায়িত্ব পড়েছে; আমি তার ভার মেটানোর চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ এবং অতিতে যেভাবে কাজ করেছি সে একইভাবে কাজ করব; আপনারা সবাই সহায়তা করবেন।’
৪ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরো রমজান মাসজুড়ে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও অনন্য ভূমিকার কারণে জাতীয় নির্বাচন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
৫ ঘণ্টা আগে