এক বিজ্ঞপ্তিতে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, শহীদ ওসমান হাদিকে বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমাগারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। সেখানে তাকে রেখে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে এসে অবস্থান নেবেন।
গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেও
হাদির কফিন ধরে কাঁদতে দেখা যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য নেতাদের।
এর আগে সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ওসমান হাদির কফিন বহনকারী বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর সেখানে তার কফিনের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ডা. জাহিদ হোসেন এ কথা জানান।
আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘এ ধরনের হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক। বিষয়টি আমি ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেছি। আমি আশা করি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজেদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, ওসমান হাদির মরদেহ বিমানবন্দর থেকে হিমাগারে নেওয়া হচ্ছে। হিমাগারে মরদেহ রেখে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেবেন।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজা হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় এ জানাজা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে হাদির মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ছায়ানট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে যাবতীয় সংস্কার কার্যক্রম শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি যেন দ্রুত চালু করা যায় সে ব্যাপারে আর্থিক সহায়তাসহ সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।’