মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে একটি আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলের জামায়াত প্রার্থী, একটিতে এনসিপি প্রার্থী। বাকি একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিজ দলেরই ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জোনায়েদ সাকি তার দল গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি আর ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সে নির্বাচনে জিততে পারেননি তিনি।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম। বেসরকারি ফলাফলে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ৩২ হাজার ৯৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন শ্যামা।
আন্দালিব রহমান পার্থ দাম্পত্য সূত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পারিবারিক আত্মীয়। তার স্ত্রী শেখ সায়রা রহমানের বাবা শেখ হেলাল উদ্দীন সম্পর্কে শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই। অর্থাৎ শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে আন্দালিব পার্থর চাচাশ্বশুর।
ছাত্রজীবনে ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করা আমানউল্লাহ আমান আশির দশকের শেষ ভাগে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০-৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান ছিলেন। এই দলটি বিএনপির শরিক দল হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করেছে। এবারের নির্বাচনে দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
ফলাফলে দেখা যায়, ১১০টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলে এহছানুল হক মিলন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৭৭ ভোট। সে হিসাবে মিলন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৬৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন।
নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আল হেলালের চেয়ে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পেয়েছেন।