
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় ৯ ‘দালালের’ বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে দিরাই থানায় মানব পাচার আইনে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন দিরাই উপজেলার নিহত সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান।
মামলায় যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালিপ্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের ছায়েক আহমেদ, ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া।
একই আইনে মানব পাচার চক্রের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।
মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ‘সুনামগঞ্জের ১২ জন নিহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের অভিযোগে দুইটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, আমরা তাদের কয়েকজনের নাম পেয়েছি।’
অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘অভিযুক্তদের কেউ দেশে আছেন, কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। আমরা সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’ এ ছাড়া অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রার ব্যাপারে প্রশাসন স্থানীয়দেরকে সচেতন করার জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে গত শনিবার গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসী মৃত্যুর খবর আসে। নিহতদের ১৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। পরে জানা যায়, ওই ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন।
নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮); রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)।
জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন হলেন— চিলাউড়ার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিঁয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)।
এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের স্বজনরা জানান, ১-৫ মাস আগে তারা লিবিয়া গিয়েছিল। লিবিয়া থেকে তাদেরকে ‘গেইমে তুলে’ গ্রিসের উদ্দেশ্যে বোটে পাচার করা হচ্ছিল। এ জন্য ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালকে দিতে হয়েছে।
চার ব্যক্তিকে আসামি করে দিরাই থানায় করা মামলার বাদী ছালিকুর রহমান বলেন, ‘জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালিপ্রবাসী সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে আমার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তার সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে পাঠিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২২ মার্চ ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। সে তখন বলছিল, আব্বা আমার কষ্ট হচ্ছে। খাবার নেই, পানি নেই। এরপর থেকে আমি দালাল সালেহ আহমদকে ফোন দিলে আর সে ফোন ধরেনি। আমার ছেলের মৃত্যুর খবর জেনে তস্কে ফোন দিলেও সে এখন পর্যন্ত ফোন রিসিভ করেনি।’
একই ব্যক্তি ‘সালেহ আহমদে’র বিরুদ্ধে মাটিয়াপুর গ্রামের নিহত মেহেদী হাসান তায়েফের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে শিপে নেওয়ার জন্য ১২ লাখ টাকার কন্ট্রাক্ট হয়। ছেলেকে সেইফে নিতে আরও এক লাখ টাকা বাড়িয়ে ১৩ লাখ টাকায় কন্ট্রাক্ট করি। কিন্তু দালাল হাওয়ার বোটে তাদেরকে পাঠিয়েছিল। বোটেই খাবার ও পানির অভাবে মারা যায়। আমরা তার বিচার চাই।’

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় ৯ ‘দালালের’ বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে দিরাই থানায় মানব পাচার আইনে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন দিরাই উপজেলার নিহত সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান।
মামলায় যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— তারাপাশা গ্রামের মৃত আকিব উল্লাহর ছেলে মুজিবুর মিয়া, জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালিপ্রবাসী সালেহ আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাও গ্রামের ছায়েক আহমেদ, ছাতক উপজেলার জসিম মিয়া।
একই আইনে মানব পাচার চক্রের পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন উপজেলার নিহত আমিনুর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।
মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ‘সুনামগঞ্জের ১২ জন নিহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের অভিযোগে দুইটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, আমরা তাদের কয়েকজনের নাম পেয়েছি।’
অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘অভিযুক্তদের কেউ দেশে আছেন, কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। আমরা সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’ এ ছাড়া অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রার ব্যাপারে প্রশাসন স্থানীয়দেরকে সচেতন করার জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে গত শনিবার গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসী মৃত্যুর খবর আসে। নিহতদের ১৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। পরে জানা যায়, ওই ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন।
নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, তারা হলেন- কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের সাইদ সরদারের ছেলে নূরুজ্জামান ময়না (৩০), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) ও আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮); রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচর গ্রামের আব্দুল মালিকের ছেলে উপজেলা যুবদলের সদস্য মজিবুর রহমান (৩৮), জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমান এহিয়া (২৮), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (৩০)।
জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন হলেন— চিলাউড়ার শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), একই গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাইম মিয়া (২৪), রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিঁয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়েক আহমদ জনি (২৫), পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬) ও ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২)।
এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমও মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতদের স্বজনরা জানান, ১-৫ মাস আগে তারা লিবিয়া গিয়েছিল। লিবিয়া থেকে তাদেরকে ‘গেইমে তুলে’ গ্রিসের উদ্দেশ্যে বোটে পাচার করা হচ্ছিল। এ জন্য ১২-১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালকে দিতে হয়েছে।
চার ব্যক্তিকে আসামি করে দিরাই থানায় করা মামলার বাদী ছালিকুর রহমান বলেন, ‘জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালিপ্রবাসী সালেহ আহমদের প্রলোভনে পড়ে আমার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তার সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে পাঠিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ২২ মার্চ ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। সে তখন বলছিল, আব্বা আমার কষ্ট হচ্ছে। খাবার নেই, পানি নেই। এরপর থেকে আমি দালাল সালেহ আহমদকে ফোন দিলে আর সে ফোন ধরেনি। আমার ছেলের মৃত্যুর খবর জেনে তস্কে ফোন দিলেও সে এখন পর্যন্ত ফোন রিসিভ করেনি।’
একই ব্যক্তি ‘সালেহ আহমদে’র বিরুদ্ধে মাটিয়াপুর গ্রামের নিহত মেহেদী হাসান তায়েফের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে শিপে নেওয়ার জন্য ১২ লাখ টাকার কন্ট্রাক্ট হয়। ছেলেকে সেইফে নিতে আরও এক লাখ টাকা বাড়িয়ে ১৩ লাখ টাকায় কন্ট্রাক্ট করি। কিন্তু দালাল হাওয়ার বোটে তাদেরকে পাঠিয়েছিল। বোটেই খাবার ও পানির অভাবে মারা যায়। আমরা তার বিচার চাই।’

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার জামতলী, কুতুপালং এবং বালুখালী ক্যাম্পে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় র্যাব জানায়, মহরম দীর্ঘদিন ধরে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন।
১ দিন আগে
মন্দিরের দেখভাল করা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সঞ্জিব বণিককে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ছাড়া বণিক পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে সঞ্জিব বণিক, অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক, শিল্পী চৌধুরীসহ মোট পাঁচজন আহত হন।
২ দিন আগে
দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামে জামায়াতের এক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি জামায়াতের রোকন এবং দলের গুলিস্তান শপিং মার্কেট ইউনিটের সভাপতি। পেশায় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশের ব্যবসায়ী।
২ দিন আগে