রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ শেষ হচ্ছে আগামীকাল রোববার। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস সরগরম হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে চারবার তপশিল পুনর্বিন্যাস ও দুবার ভোট গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিকভাবে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস রাজনীতির বিষয়ে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানান প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এজন্য নানা শঙ্কার মধ্যেও এখন পুরো ক্যাম্পাসে নির্বাচনমুখী একটা আবহ তৈরি হয়েছে।
পাঁচদিনে মনোনয়ন তুলেছেন ৬৪৩ প্রার্থী: রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পাঁচ দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন ৫৯৩ জন প্রার্থী। রাকসুর কেন্দ্রীয় ২৩টি পদে ১৯৯ জন এবং সিনেটের ৫টি পদে ২৬ জন এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৪২০ জন প্রার্থী মনোনয়ন তুলেছেন। এর আগে গত চারদিনে মনোনয়ন নেন ৫৫৮ জন প্রর্থী।
তপশিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ সময়। কিন্তু পরবর্তীতে তা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন ও ডোপটেস্ট করতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে মনোনয়ন বিতরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তপশিল পুনর্ববিন্যাসে ‘ফোর আউট অব ফোর’: নির্বাচন কমিশন তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারছে না। বারংবার তফসিল পুনর্বিন্যাস, তারিখ পরিবর্তন ও সময়সূচি সংশোধনের মাধ্যমে একাধিকবার পূর্বের ঘোষণাকে পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন । সাড়ে ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার তফসিল পুনর্বিন্যাস ও ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার সময় পরিবর্তন করেছে তারা। প্রথমে ১৭ আগস্ট মনোনয়ন বিতরণ শুরুর কথা থাকলেও আগের রাতে স্থগিত করা হয়। পরদিন নতুন তফসিলে ২৪-২৬ আগস্ট সময় নির্ধারণ করা হলেও ২৬ আগস্ট জরুরি বৈঠকের পর সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।
এরপর গত বুধবার একই দিনে দুইবার তপশিল পরিবর্তন করা হয়—দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্বাচন ১৩ দিন পিছিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে রাতে জরুরি বৈঠক ডেকে আবার পরিবর্তন করে সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয় কমিশন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।
একটি দলের দালালি করতে নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, “সকল শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করছি। আমি মনে করি, এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
রাকসুর ইতিহাসে প্রথমবার প্রার্থী বাছাইয়ে ডোপ টেস্ট: রাকসুর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৮৭ জন প্রার্থীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর রির্পোট দুইদিনের ভিতর দেওয়া হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে গত বুধবার রাতে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডোপ টেস্টের যাবতীয় খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীদের প্রতিবেদন সংগ্রহের পর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট চার দিনে সব হল সংসদ, দুই দিনে রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে পদপ্রার্থীদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এ বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, এক বা দুইদিনের মধ্যে প্রার্থীরা ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পেয়ে যাবেন। সেই প্রতিবেদন নিয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।প্রতিবেদনে পজিটিভ এলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রের প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
প্রভাবশালী ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো প্যানেল গঠনের প্রস্তুতিতে প্রায় চূড়ান্ত করেছে, যদিও বেশিরভাগ সংগঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি।
হলগুলোতে মনোনয়ন তুলেছে ছাত্রশিবির: শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, গত কয়েকদিনে রাকসু এবং হল সংসদে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে ২১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছে। আসন্ন রাকসু নির্বাচন, হল সংসদ নির্বাচনে শিবিরের ইনক্লুসিভ প্যানেল থাকবে, ইনশাআল্লাহ। খুব শীঘ্রই আমরা প্যানেল অফিশিয়ালি প্রকাশ করবো।
জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাম সংগঠনগুলো: ছয়টি বাম সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে জোট থেকে ২৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন। শীঘ্রই প্যানেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ছাত্রজোট।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, এখনো আমাদের অনেক সংগঠনের সাথে আলোচনা চলছে, তারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে, এরকম কথা আছে। এজন্য এখন পর্যন্ত আমরা প্যানেল ঘোষণা করতে পারছি না। আমরা মনোনয়ন জমাদানের পরে, সংবাদ সংবরণের মাধ্যমে প্যানেল ঘোষণা করব।
মনোনয়ন সংগ্রহে শীর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে মনোনয়ন সংগ্রহে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পঞ্চম দিন শেষে কেন্দ্রীয় ২৩ টি মোট ১৯৯ জন মনোনয়ন তুলেছেন, এর মধ্যে বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়ন নিয়েছেন। তবে এখনো ছাত্রদল ছাড়া অন্য বড় ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় পদে মনোনয়ন তোলার তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এজিএস পদে প্রথম মনোনয়ন নেন সজিবুর রহমান। মনোনয়ন দোলনের পর তিনি বলেন, এটা একটা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা দলিল হিসেবে থাকবে। যেকোনো যৌক্তিক বিষয়ে আমি একা হলেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভয়েজ রেইজ করার চেষ্টা করছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শক্তি নিয়ে, সাহস নিয়ে লেজুড়বৃত্তিক, দল, গোষ্ঠীর বাইরে যেয়ে মনোনয়ন নিয়েছি। আমি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই।
প্রথম স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হিসেবে (নারী বিষয়ক সম্পাদক) পদে মনোনয়ন নেওয়া নিশা আক্তার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের রাকসু নির্বাচনে আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে আমি প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। আমার প্রত্যাশা হলো নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের পূর্ণ আবাসিকতার সুযোগ সৃষ্টি করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ শেষ হচ্ছে আগামীকাল রোববার। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস সরগরম হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে চারবার তপশিল পুনর্বিন্যাস ও দুবার ভোট গ্রহণের সময় পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
চব্বিশের জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রাথমিকভাবে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস রাজনীতির বিষয়ে অনাগ্রহী ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানান প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এজন্য নানা শঙ্কার মধ্যেও এখন পুরো ক্যাম্পাসে নির্বাচনমুখী একটা আবহ তৈরি হয়েছে।
পাঁচদিনে মনোনয়ন তুলেছেন ৬৪৩ প্রার্থী: রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পাঁচ দিনে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন ৫৯৩ জন প্রার্থী। রাকসুর কেন্দ্রীয় ২৩টি পদে ১৯৯ জন এবং সিনেটের ৫টি পদে ২৬ জন এবং হল সংসদের বিভিন্ন পদে ৪২০ জন প্রার্থী মনোনয়ন তুলেছেন। এর আগে গত চারদিনে মনোনয়ন নেন ৫৫৮ জন প্রর্থী।
তপশিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ সময়। কিন্তু পরবর্তীতে তা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তন ও ডোপটেস্ট করতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে মনোনয়ন বিতরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তপশিল পুনর্ববিন্যাসে ‘ফোর আউট অব ফোর’: নির্বাচন কমিশন তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারছে না। বারংবার তফসিল পুনর্বিন্যাস, তারিখ পরিবর্তন ও সময়সূচি সংশোধনের মাধ্যমে একাধিকবার পূর্বের ঘোষণাকে পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন । সাড়ে ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার তফসিল পুনর্বিন্যাস ও ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার সময় পরিবর্তন করেছে তারা। প্রথমে ১৭ আগস্ট মনোনয়ন বিতরণ শুরুর কথা থাকলেও আগের রাতে স্থগিত করা হয়। পরদিন নতুন তফসিলে ২৪-২৬ আগস্ট সময় নির্ধারণ করা হলেও ২৬ আগস্ট জরুরি বৈঠকের পর সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।
এরপর গত বুধবার একই দিনে দুইবার তপশিল পরিবর্তন করা হয়—দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাচন কমিশন জানায়, নির্বাচন ১৩ দিন পিছিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে রাতে জরুরি বৈঠক ডেকে আবার পরিবর্তন করে সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয় কমিশন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।
একটি দলের দালালি করতে নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, “সকল শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা এটি প্রত্যাখ্যান করছি। আমি মনে করি, এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
রাকসুর ইতিহাসে প্রথমবার প্রার্থী বাছাইয়ে ডোপ টেস্ট: রাকসুর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৮৭ জন প্রার্থীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর রির্পোট দুইদিনের ভিতর দেওয়া হবে বলে জানায় নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে গত বুধবার রাতে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডোপ টেস্টের যাবতীয় খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীদের প্রতিবেদন সংগ্রহের পর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট চার দিনে সব হল সংসদ, দুই দিনে রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে পদপ্রার্থীদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এ বিষয়ে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, এক বা দুইদিনের মধ্যে প্রার্থীরা ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন পেয়ে যাবেন। সেই প্রতিবেদন নিয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।প্রতিবেদনে পজিটিভ এলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রের প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
প্রভাবশালী ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো প্যানেল গঠনের প্রস্তুতিতে প্রায় চূড়ান্ত করেছে, যদিও বেশিরভাগ সংগঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি।
হলগুলোতে মনোনয়ন তুলেছে ছাত্রশিবির: শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, গত কয়েকদিনে রাকসু এবং হল সংসদে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে ২১৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছে। আসন্ন রাকসু নির্বাচন, হল সংসদ নির্বাচনে শিবিরের ইনক্লুসিভ প্যানেল থাকবে, ইনশাআল্লাহ। খুব শীঘ্রই আমরা প্যানেল অফিশিয়ালি প্রকাশ করবো।
জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বাম সংগঠনগুলো: ছয়টি বাম সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’ নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে জোট থেকে ২৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েছেন। শীঘ্রই প্যানেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ছাত্রজোট।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, এখনো আমাদের অনেক সংগঠনের সাথে আলোচনা চলছে, তারা আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে, এরকম কথা আছে। এজন্য এখন পর্যন্ত আমরা প্যানেল ঘোষণা করতে পারছি না। আমরা মনোনয়ন জমাদানের পরে, সংবাদ সংবরণের মাধ্যমে প্যানেল ঘোষণা করব।
মনোনয়ন সংগ্রহে শীর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে মনোনয়ন সংগ্রহে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পঞ্চম দিন শেষে কেন্দ্রীয় ২৩ টি মোট ১৯৯ জন মনোনয়ন তুলেছেন, এর মধ্যে বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মনোনয়ন নিয়েছেন। তবে এখনো ছাত্রদল ছাড়া অন্য বড় ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় পদে মনোনয়ন তোলার তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এজিএস পদে প্রথম মনোনয়ন নেন সজিবুর রহমান। মনোনয়ন দোলনের পর তিনি বলেন, এটা একটা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা দলিল হিসেবে থাকবে। যেকোনো যৌক্তিক বিষয়ে আমি একা হলেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভয়েজ রেইজ করার চেষ্টা করছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শক্তি নিয়ে, সাহস নিয়ে লেজুড়বৃত্তিক, দল, গোষ্ঠীর বাইরে যেয়ে মনোনয়ন নিয়েছি। আমি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে চাই।
প্রথম স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হিসেবে (নারী বিষয়ক সম্পাদক) পদে মনোনয়ন নেওয়া নিশা আক্তার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের রাকসু নির্বাচনে আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে আমি প্রথম নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। আমার প্রত্যাশা হলো নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের পূর্ণ আবাসিকতার সুযোগ সৃষ্টি করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, “একটি সংগঠনের দাবির ভিত্তিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। যখন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তখন তারা ভর্তি ছিল না, তাই ভোটার হওয়ার যোগ্যতাও ছিল না। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে বর্তমান তফসিল অনুযায়ী এ পরিবর্তন করা যাব
৮ ঘণ্টা আগেপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকালে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভেঙে ফেলেন ও একটি টেবিল উল্টে দেন। এরপর ফটকে তালা মেরে স্লোগান দেন— ‘প্রথম বর্ষের ভোটাধিকার দিতে হবে’, ‘রাকসু ফি দিয়েছি, ভোটার হতে চেয়েছি’, ‘রাকসু আমার অধিকার, তুমি কে বাদ দেওয়ার’ ইত্যাদি।
৯ ঘণ্টা আগেপুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের ঝামাটি গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দোজাহান মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের আমজাদ মিয়ার দুই বছর আগে থেকেই সামাজিক, গ্রাম্য সালিশ ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
১১ ঘণ্টা আগে