কুমিরের আক্রমণে মেয়েকে হারানো প্রতিবন্ধী মা ৩ বছর পর ফিরলেন পরিবারে

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১৯: ২৬
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন ফজিলা খাতুনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ছবি: রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন ফজিলা খাতুনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ছবি: রাজনীতি ডটকম

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দীঘির কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার মা ফজিলা খাতুনকে সাড়ে তিন বছর পর ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। মেয়ের মৃত্যুর খবর ও ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর স্বজনরা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর হরিচাঁদ গ্রাম থেকে পরিবারের সদস্যরা বাগেরহাটে এসে ফজিলা খাতুনকে নিয়ে যান। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন ফজিলা খাতুন। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ঝড়-বৃষ্টির এক দিনে ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। একপর্যায়ে তাকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন স্বজনরা।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ফজিলা খাতুন ও তার মেয়ে ফাতেমা বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ফাতেমার মা’ নামে। তবে কেউই তার প্রকৃত পরিচয় জানতেন না।

গত সোমবার রাতে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় শিশু ফাতেমা। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে দীঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর বুধবার সংশ্লিষ্ট কুমিরটিকে দীঘি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ফাতেমার মৃত্যুর খবর ও ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বুধবার তা দেখে স্বজনরা নিশ্চিত হন, নিহত শিশুটি তাদের পরিবারের সদস্য এবং তার সঙ্গে থাকা নারীটি নিখোঁজ ফজিলা খাতুন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাগেরহাটে রওনা দেন।

ফজিলার ভাই হারেজ আলী বলেন, “সকালে এসে দেখি আমার বোন মাজারের পাশে একটি ঘরের সঙ্গে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে। আমাকে দেখে উঠে বসে। পরে তাকে ফাতেমার কবরের কাছে নিয়ে গেলে সে বারবার বলছিল, ‘আমার ফাতেমা আমার কাছে নাই। কুমির আমার বাচ্চাকে খাইছে।’”

ফজিলার মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমার ছয় সন্তানের মধ্যে ফজিলা সবচেয়ে বড়। আমাকে দেখে সে শুধু মেয়ের কথাই বলছিল। নাতনির জন্য এখন আমাদের সবার মন কাঁদে।’ ফজিলার ছেলে বজলুর রহমান বলেন, ‘তিন বছরের বেশি সময় পর মাকে ফিরে পেলাম। কিন্তু ছোট বোনকে আর ফিরে পেলাম না।’

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, পরিবারের দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, নিহত ফাতেমার টিকাকার্ডসহ বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। সব তথ্য যাচাই শেষে ফজিলা খাতুনকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
কুমিরের আক্রমণে মেয়েকে হারানো প্রতিবন্ধী মা ৩ বছর পর ফিরলেন পরিবারে