ফিরতি বরযাত্রায় নিহত ১৪: প্রশাসনের তদন্ত কমিটি

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৯: ২২
রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে। ছবি: রাজনীতি ডটকম
রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেলে। ছবি: রাজনীতি ডটকম

কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরতি বরযাত্রার মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলের এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মেজবাহ উদ্দীনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন— পুলিশ বিভাগের রামপাল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন পরিদর্শক।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকার কাছে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করবে।

তিনি আরও বলেন, কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল এবং কারও অবহেলা রয়েছে কি না— তা তদন্ত করে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন একটি মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন।

পথে মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় একজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহতরা হলেন— বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল ও তাদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম।

এ ছাড়া কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈমও নিহত হন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement