গান গাইতে না পারায় ক্ষোভ, ধর্মীয় শিক্ষকের লাঠিপেটায় আহত শিক্ষার্থী

অলীপ ঘটক, বাগেরহাট
আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ২৭
আহত শিক্ষার্থী নেওয়াজ তালুকদারের গায়ে লাঠির আঘাতের চিহ্ন। ছবি: রাজনীতি ডটকম
আহত শিক্ষার্থী নেওয়াজ তালুকদারের গায়ে লাঠির আঘাতের চিহ্ন। ছবি: রাজনীতি ডটকম

বাগেরহাটের রামপালে ক্লাসে গান গাইতে না পারায় এক শিক্ষার্থীকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থীর নাম নেওয়াজ তালুকদার, সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের সন্ন্যাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নেওয়াজ তালুকদার জানায়, ধর্মীয় ক্লাসে শিক্ষক আমিন গাজী তাকে গান গাওয়ার জন্য ডাকেন। তবে সে গান জানেন না বলে জানালে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে তাকে লাঠি দিয়ে একটি আঘাত করেন। পরে সে বেঞ্চে বসতে গেলে অন্য এক সহপাঠী নিচু স্বরে গান গেয়ে ওঠে।

তখন শিক্ষক আমিন গাজী কে গায় গেয়েছে জানতে চাইলে সহপাঠীরা নেওয়াজকে দায়ী করে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নেওয়াজকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার হাত, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পড়ে। পরে বাড়িতে ফিরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় সে।

শিক্ষার্থীর বাবা রাজু তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘তুচ্ছ কারণে আমার ছেলেকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাঠির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমার সন্তানের শরীরে মারধরের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সন্ন্যাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার পালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় জানার পরে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ধর্মীয় শিক্ষক আমিন গাজীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাগেরহাট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেত বা লাঠির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দিতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement