তরুণের সঙ্গে গাছে বেঁধে নির্যাতন, আত্মহত্যার চেষ্টা স্কুলছাত্রীর

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ৩১
নির্যাতনের একটি ভিডিও শুক্রবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ভিডিও থেকে
নির্যাতনের একটি ভিডিও শুক্রবার রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ভিডিও থেকে

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক তরুণের সঙ্গে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক স্কুলছাত্রী। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে স্কুলের বাইরে থেকে এবং এক তরুণকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছিলেন বলে কয়েকজন দাবি করেন। পরে স্কুল প্রাঙ্গণের একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নয়ন বাড়ৈ দাবি করেন, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক তাদের আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের স্কুলে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, অপমান এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণেই ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও তখন ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement