ধলেশ্বরী-মেঘনার সংযোগস্থলে ভাঙন, ঝুঁকিতে নির্মাণাধীন সড়কসহ শতাধিক বসতভিটা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
তীব্র ভাঙনে বিলীনের মুখে নির্মাণাধীন সড়কসহ নবনির্মিত ইউপি ভবন, বাঙালপাড়া বাজার এবং শতাধিক বসতভিটা। ছবি: রাজনীতি ডটকম
তীব্র ভাঙনে বিলীনের মুখে নির্মাণাধীন সড়কসহ নবনির্মিত ইউপি ভবন, বাঙালপাড়া বাজার এবং শতাধিক বসতভিটা। ছবি: রাজনীতি ডটকম

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী ও মেঘনার সংযোগস্থল গজিয়া খালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও নির্মাণাধীন সড়ক। ইতোমধ্যে সড়কের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে রয়েছে নবনির্মিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাঙালপাড়া বাজার এবং খালপাড়ের শতাধিক বসতভিটা।

সোমবার (১১ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের গজিয়া খালের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বাজার থেকে উছমানপুর পর্যন্ত এলাকায় তীব্র ভাঙন চলছে। খালের পাড় জুড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মুহূর্তেই পাড়ের মাটি ভেঙে খালে পড়ে যাচ্ছে এবং প্রবল স্রোতে তা ভেসে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ভাঙন আতঙ্কে খালের তীরে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা দোয়া-মোনাজাত করছেন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর লাউড়া-মাইজখোলা এলাকায় নদীর নাব্যতা সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে গজিয়া খালে পানির চাপ ও স্রোত বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাঙালপাড়া বাজারের পূর্বাংশ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে বাজারের একমাত্র পণ্য ওঠানামার ঘাটসংলগ্ন সিঁড়ির নিচের মাটিও সরে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সিঁড়িটি ধসে পড়তে পারে। এতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাজার ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে এলাকাবাসী অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।’

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আগেও কাজ করা হয়েছে। এবারও সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। রাস্তা রক্ষায় দ্রুত জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাঙালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে নির্মাণাধীন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’

তিনি আরও জানান, এই সড়কের সঙ্গে ১৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নোয়াগাঁও-চাতলপাড় সেতুর সংযোগ রয়েছে। তাই সড়কটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement