বেঁচে থাকতেই ‘চল্লিশা’ আয়োজন, ৬ হাজার মানুষকে দাওয়াত রফিকুলের

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২১: ১৩
নিজের চল্লিশার আয়োজনে রফিকুল ইসলাম (বাঁয়ে) এবং খাবার খেতে আসা মানুষদের পালাক্রমে খাওয়ানো হচ্ছে (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
নিজের চল্লিশার আয়োজনে রফিকুল ইসলাম (বাঁয়ে) এবং খাবার খেতে আসা মানুষদের পালাক্রমে খাওয়ানো হচ্ছে (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

জীবিত থাকতেই নিজের ‘চল্লিশা’ করে ফেললেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের রফিকুল ইসলাম। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য আয়োজন করেন তিনি। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ ‘গণমেজবানে’ অংশ নেন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।

৬২ বছর বয়সী রফিকুল উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। শুক্রবার তার বাড়ির পাশের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দল বেঁধে খাবার খেতে আসছেন। কয়েক দফায় তাদের খাবার পরিবেশন করা হয়। ছিল গরু ও খাসির মাংস, ভাত, খিচুড়ি, মাছসহ নানা পদ। অতিথিদের আনাগোনায় পুরো বাড়িতে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

রফিকুলের এমন আয়োজনের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি পাওয়া কিছু অর্থ। স্থানীয় লোকজন জানান, এলাকায় বিত্তশালী হিসেবে পরিচিত রফিকুলের জমিজমা রয়েছে। সরকারি রাস্তা নির্মাণের জন্য সম্প্রতি তার একটি দোকান ও জমির বড় অংশ অধিগ্রহণ করা হয়। এর বিনিময়ে তিনি অর্থ পান। এরপরই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশা করার পরিকল্পনা করেন।

রফিকুলের চাচাতো ভাই আবদুস সালাম জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রফিকুল নিজে গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় দাওয়াত দেন। শুক্রবার বাড়ির পাশে শামিয়ানা টানিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগের রাতেই কয়েকটি গরু ও খাসি জবাই করা হয়েছিল।

কেন নিজের চল্লিশা নিজেই আয়োজন করলেন— এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রফিকুল। তার ভাষ্য, বয়স হয়েছে এবং শারীরিকভাবেও আগের মতো শক্তি নেই। পরিবারের সদস্যরাও যার যার অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের টাকা পাওয়ায় হাতে একসঙ্গে কিছু অর্থ আসে। স্ত্রী বেগম আক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে এই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

রফিকুল বলেন, ‘আমি মারা যাওয়ার পর হয়তো আমার স্বজনরা সবাইকে ডেকে এভাবে খাওয়ানোর আয়োজন না–ও করতে পারেন। তাই নিজের ইচ্ছায় জীবিত অবস্থাতেই আয়োজনটি করেছি।’

আয়োজনে অংশ নেওয়া একই গ্রামের নূরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত কারও মৃত্যুর ৪০ দিন পর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও দরিদ্র মানুষকে খাওয়াতে চল্লিশার আয়োজন করা হয়। রফিকুলের আয়োজনটি সে কারণে ব্যতিক্রম। তার ধারণা, মৃত্যুর পর স্বজনরা বড় পরিসরে এমন আয়োজন করতে পারবেন না— এই চিন্তা থেকেই হয়তো রফিকুল আগেই নিজের ইচ্ছা পূরণ করেছেন।

তবে ইসলামে জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশা আয়োজনের কোনো বিধান নেই বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান। তার মতে, একজন মানুষের মৃত্যু কখন বা কীভাবে হবে, তা আগে থেকে জানা কারও পক্ষে সম্ভব নয়। আবার মৃত্যুর ৪০ দিন পর চল্লিশা করাও ইসলামের বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নয়।

খলিলুর রহমান বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে খাওয়ানো কিংবা মৃত ব্যক্তির বন্ধু-স্বজনদের আপ্যায়ন করা যেতে পারে। কিন্তু জীবিত অবস্থায় নিজের মৃত্যুর পরের চল্লিশাকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন আয়োজন করা ইসলাম সমর্থন করে না।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement