‘কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে একটি সংস্থার আইনি পদক্ষেপে’
-0cf3d9-480x270.webp)
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগ একটি সংস্থার আইনি পদক্ষেপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার দাবি, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার দেশের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহরটিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও রয়েছে। তবে একটি সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গিয়ে নিষেধাজ্ঞা আনছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সৈকত তীর হয়ে হোটেল রামাদার সামনে দিয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া এ প্রকল্পে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছিল। তবে কাজ শুরুর আগে একটি সংস্থা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
পরিবেশ ও বালিয়াড়ি রক্ষার যুক্তিতে প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সড়ক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সংস্থাটি আদালতে আবেদন করে। শুনানি শেষে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে সড়ক নির্মাণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আদালত।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্মাণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়েও আপত্তি জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রতীরের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি নেই। আবার সমুদ্রতীর থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে কেবল একতলা ভবন নির্মাণের নির্দেশনা রয়েছে। তাঁর মতে, এসব বিধিনিষেধের কারণে পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন হলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত হোটেলকক্ষ নেই বলে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম। পর্যটন নগরীর অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















