ফেনীতে জুলাই শহিদ কাউসারের কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ

ফেনী প্রতিনিধি
কাউসারের কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ওলামা দলের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর পরশুরামে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ইকরাম হোসেন কাউসারের কবরস্থানের নবনির্মিত সীমানা প্রাচীর রাতের আঁধারে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা ওলামা দলের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স অপূর্ব ট্রেডার্সে’র ঠিকাদার এস এম দুলাল ভুঞা। সীমানা প্রাচীরটি ভেঙে ফেলায় বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী (ইট, বালু, সিমেন্ট, খোয়া, রড) নষ্ট হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাতে কাউসারের কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে জানান দুলাল ভুঞা। তিনি বলেন, ‘দেয়াল তোলার কাজ সম্পূর্ণ শেষ করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় ওলামা দলের নেতা পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে এই কাজটি নিয়ে ইতোপূর্বে আমার বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। ধারণা করছি উনিই এই কাজ করেছেন।’

তবে অভিযুক্ত ওলামা দল নেতা ইব্রাহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘যেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে, সেই জায়গাটি আমাদের। আমি শুধু ঠিকাদারকে আমাদের জায়গা ছেড়ে কাজ করতে বলেছিলাম। বাউন্ডারি ওয়ালটি কে বা কারা ভেঙেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

ফেনী জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক জানান, কারো অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না। কেউ এর জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

এর আগে গত ১০ মে জেলা ওলামা দলের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুলাই শহিদ কাউসারের কবরস্থানের উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযুক্তরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপূর্ব ট্রেডার্সের ঠিকাদার দুলাল ভুঞা এবং শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

ওই ঘটনায় প্রতিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে ফেনী জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর গত ১১ মে লিখিত অভিযোগ দেন ঠিকাদার দুলাল ভুঞা। পরবর্তীতে তিনি পুনরায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে তা শেষ করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের ২৯ নম্বর প্যাকেজের আওতায় ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দে পরশুরাম উপজেলার রাজেষপুর গ্রামে জুলাই যোদ্ধা শহিদ ইকরাম হোসেন কাউসারের কবরস্থানের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অপূর্ব ট্রেডার্স।

​অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে বেইস কেটে বিম ঢালাইয়ের সময় গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে উপজেলার পাগলেরকুল (ডাক্তার মমতাজ মিয়ার বাড়ি) এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে এবং জেলা ওলামা দলের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এসে কাজে বাধা প্রদান করেন। তারা লেবার ও ঠিকাদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন।’

গতকাল গভীর রাতে জুলাই শহিদ কাউসারের কবরস্থানের দেয়াল ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফেনী জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালিউল্লাহ মানিক জানান, বিষয়টি সত্যি দুঃখজনক। আমরা জুলাই যোদ্ধারা এর জন্য তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করব এই ঘটনায় যাদের দায় আছে তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনীর পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আসামির মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, ৬ পুলিশসহ আহত ১২

বৃহস্পতিবার স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, রিয়াজ মারা মারা গেছেন। এতে তার স্বজনসহ স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে থানায় হামলা চালান। প্রায় শতাধিক মানুষের হামলায় পুলিশ সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা থানায় কর্তব্যরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করেন।

১৮ ঘণ্টা আগে

পাহাড়ি ঢলে ডুবল গোমতীর চরাঞ্চল, সহস্রাধিক কৃষকের ফসলহানি

সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের শত শত একর সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কিছুটা কমাতে স্থানীয় কৃষকদের কোমর সমান পানিতে নেমে অপরিপক্ব ফসল কেটে ঘরে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

১ দিন আগে

ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোর

১ দিন আগে

কিশোরগঞ্জের হাওরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২টি নৌ ডাকাতি

ভুক্তভোগী সদরঞ্জন দাস জানান, তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রাম থেকে অন্য এক ব্যক্তিসহ নৌকায় করে হাঁসের বাচ্চা কিনতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বর্শিকুড়া-শেরপুর সেতু সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরিহিত সাতজনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের

১ দিন আগে