
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ইরান যুদ্ধের জের ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমোদন দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
বুধবার (১১ মার্চ) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, আইইএর ৩২টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে তাদের ‘জরুরি তেলের রিজার্ভ’ থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর তেলের বাজার যেভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে, আইইএর এ পদক্ষেপ তাকে কিছুটা হলেও শান্ত করতে পারে। তবে এ পদক্ষেপ বারবার নেওয়া সম্ভব না। ফলে এটি বৈশ্বিক তেল সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে রয়েছে, যে ৪০ কিলোমিটারের পথটি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন করে থাকে। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যে তেল যায়, তার প্রায় পুরোটাই এ রুটের ওপর নির্ভরশীল। ইরানও যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।
সবশেষ বুধবারও তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছাতে দেবে না।
বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি ট্যাংকারে হামলার প্রসঙ্গ টেনে জোলফাকারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অনুগত যেকোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। এশিয়া-ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকার তেলের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। গ্লোবাল পেট্রল প্রাইসেসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৮৫টি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
এর মধ্যে গত ৯ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এটিই জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম।
খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র জোলফাকারি তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি ব্যারেল তেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ তেলের দাম এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, যা আপনারা নষ্ট করেছেন।’
তেলের বৈশ্বিক বাজারের এমন অস্থিরতার মধ্যেই কিছুটা সুখব হয়ে আসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরলের ঘোষণা। বুধবার তিনি বলেন, ‘তেলের বাজারে আমরা যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, তা সত্যিই আগে কখনো দেখা যায়নি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি পরিস্থিতিতে আইইএর সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে একটি জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।’
ফাহিত বিরলের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘সম্মিলিত জরুরি পদক্ষেপ’টি হলো— আইইএর ৩২টি সদস্য দেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা তাদের জরুরি ‘রিজার্ভ’ বা মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করবে। আইইএ জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘যথোপযুক্ত সময়সীমার মধ্যে’ এই জরুরি মজুত বাজারে ছাড়া হবে।
জরুরি রিজার্ভ বা মজুত থেকে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত অবশ্য এই প্রথম নয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর মধ্যে সংঘটিত উপসাগরীয় যুদ্ধের মধ্যে ১৯৯১ সালে প্রথম আইইএর সদস্য দেশগুলো নিজেদের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ে।
এরপর ২০০৫ ও ২০১১ সালে একবার করে এবং ২০২২ সালে দুবার আইইএ সমন্বিতভাবে তেলের মজুত ছাড়ার অনুমোদন দেয়। এবার সপ্তমবারের মতো তারা এই তেলের মজুত ছাড়ছে।
আইইএর তথ্য বলছে, তাদের সদস্যদেশগুলোর কাছে ১০২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেলের জরুরি মজুত রয়েছে। এ ছাড়া শিল্প খাতের কাছে সরকারের বাধ্যবাধকতার আওতায় মজুত আছে আরও ৬০ কোটি ব্যারেল তেল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশই নিজেদের জরুরি সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজন মেটাতে তেল মজুত রাখে, যেটিকে জরুরি ‘রিজার্ভ’ বা ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বলা হয়ে থাকে। জি-৭ভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকায় তারা এই মজুত থেকে বাজারে তেল ছাড়ার বিষয়টিকে সমর্থন করছে।
কিন্তু এই তেলের মজুত কোথায় থাকে এবং এটা ছাড়লে কী পরিবর্তন হতে পারে বাজারে?
বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য সব দেশেরই ৯০ দিনের জন্য তেল মজুত করে রাখা বাধ্যতামূলক। তবে এই তেল নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অবস্থানে রাখা হয় না।
যেমন— যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে শেল বা বিপির মতো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন টার্মিনাল ও শোধনাগারে এই তেল মজুত করে রাখে। অন্য কোনো জায়গায় মজুত করে রাখা তেলকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে যুক্তরাজ্য সরকার। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
এই মজুত থেকে তেল ছাড়লে বাজারে হঠাৎ করে তেলের সরবরাহ অনেক বেড়ে যাবে কি না— এমন প্রশ্ন অনেকেরই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে না। তবে এর মাধ্যমে উৎপাদনকারীরা শোধনাগারগুলোর জন্য বাজারে আরও বেশি তেল সহজলভ্য করে দেবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু তেল শোধনের সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে, তাই এই মজুত থেকে তেল ছেড়ে দেওয়া মানেই পেট্রোল বা জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো ‘ম্যাজিক সুইচ’ নয়।
তাছাড়া প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেলের মজুত থেকে কয়েক শ কোটি ব্যারেল ছেড়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বারবার নেওয়া সম্ভব না। তাই এই তেল ছাড়ার বিষয়ে ‘প্রস্তুত থাকা’ বা ‘নীতিগতভাবে সম্মত হওয়া’ কিংবা মজুত থেকে তেল ছেড়ে দেওয়াও প্রকৃতপক্ষে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বাজারকে আশ্বস্ত করার একটি কৌশল মাত্র।
তেলের এই মজুত ছাড়ার বিষয়টি আসলে একটি সংকেত, যার মাধ্যমে সরকারগুলো বোঝাতে চায় যে তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, এসব ‘রিজার্ভ’ থেকে সরবরাহের ফলে তেলের দাম হয়তো কমবে না, তবে দাম আরও অনেক বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ পরিবহন বন্ধ থাকায় তেলের বাজার যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে আপাতত অনেক বেশি দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকানোকেও আপাত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি, আইইএ, আল-জাজিরা

ইরান যুদ্ধের জের ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমোদন দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
বুধবার (১১ মার্চ) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, আইইএর ৩২টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে তাদের ‘জরুরি তেলের রিজার্ভ’ থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর তেলের বাজার যেভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে, আইইএর এ পদক্ষেপ তাকে কিছুটা হলেও শান্ত করতে পারে। তবে এ পদক্ষেপ বারবার নেওয়া সম্ভব না। ফলে এটি বৈশ্বিক তেল সংকটের স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে রয়েছে, যে ৪০ কিলোমিটারের পথটি বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন করে থাকে। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যে তেল যায়, তার প্রায় পুরোটাই এ রুটের ওপর নির্ভরশীল। ইরানও যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে।
সবশেষ বুধবারও তেহরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের অংশীদারদের কাছে ‘এক লিটার তেলও’ পৌঁছাতে দেবে না।
বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি ট্যাংকারে হামলার প্রসঙ্গ টেনে জোলফাকারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অনুগত যেকোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। এশিয়া-ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকার তেলের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। গ্লোবাল পেট্রল প্রাইসেসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৮৫টি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
এর মধ্যে গত ৯ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এটিই জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম।
খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র জোলফাকারি তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি ব্যারেল তেল ২০০ ডলার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। কারণ তেলের দাম এই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল, যা আপনারা নষ্ট করেছেন।’
তেলের বৈশ্বিক বাজারের এমন অস্থিরতার মধ্যেই কিছুটা সুখব হয়ে আসে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরলের ঘোষণা। বুধবার তিনি বলেন, ‘তেলের বাজারে আমরা যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, তা সত্যিই আগে কখনো দেখা যায়নি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এমন একটি পরিস্থিতিতে আইইএর সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে একটি জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।’
ফাহিত বিরলের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘সম্মিলিত জরুরি পদক্ষেপ’টি হলো— আইইএর ৩২টি সদস্য দেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা তাদের জরুরি ‘রিজার্ভ’ বা মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করবে। আইইএ জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘যথোপযুক্ত সময়সীমার মধ্যে’ এই জরুরি মজুত বাজারে ছাড়া হবে।
জরুরি রিজার্ভ বা মজুত থেকে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত অবশ্য এই প্রথম নয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই ইরাক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর মধ্যে সংঘটিত উপসাগরীয় যুদ্ধের মধ্যে ১৯৯১ সালে প্রথম আইইএর সদস্য দেশগুলো নিজেদের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ে।
এরপর ২০০৫ ও ২০১১ সালে একবার করে এবং ২০২২ সালে দুবার আইইএ সমন্বিতভাবে তেলের মজুত ছাড়ার অনুমোদন দেয়। এবার সপ্তমবারের মতো তারা এই তেলের মজুত ছাড়ছে।
আইইএর তথ্য বলছে, তাদের সদস্যদেশগুলোর কাছে ১০২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেলের জরুরি মজুত রয়েছে। এ ছাড়া শিল্প খাতের কাছে সরকারের বাধ্যবাধকতার আওতায় মজুত আছে আরও ৬০ কোটি ব্যারেল তেল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশই নিজেদের জরুরি সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজন মেটাতে তেল মজুত রাখে, যেটিকে জরুরি ‘রিজার্ভ’ বা ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বলা হয়ে থাকে। জি-৭ভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকায় তারা এই মজুত থেকে বাজারে তেল ছাড়ার বিষয়টিকে সমর্থন করছে।
কিন্তু এই তেলের মজুত কোথায় থাকে এবং এটা ছাড়লে কী পরিবর্তন হতে পারে বাজারে?
বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য সব দেশেরই ৯০ দিনের জন্য তেল মজুত করে রাখা বাধ্যতামূলক। তবে এই তেল নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অবস্থানে রাখা হয় না।
যেমন— যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে শেল বা বিপির মতো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন টার্মিনাল ও শোধনাগারে এই তেল মজুত করে রাখে। অন্য কোনো জায়গায় মজুত করে রাখা তেলকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে যুক্তরাজ্য সরকার। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
এই মজুত থেকে তেল ছাড়লে বাজারে হঠাৎ করে তেলের সরবরাহ অনেক বেড়ে যাবে কি না— এমন প্রশ্ন অনেকেরই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে না। তবে এর মাধ্যমে উৎপাদনকারীরা শোধনাগারগুলোর জন্য বাজারে আরও বেশি তেল সহজলভ্য করে দেবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু তেল শোধনের সক্ষমতায় ঘাটতি রয়েছে, তাই এই মজুত থেকে তেল ছেড়ে দেওয়া মানেই পেট্রোল বা জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর কোনো ‘ম্যাজিক সুইচ’ নয়।
তাছাড়া প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেলের মজুত থেকে কয়েক শ কোটি ব্যারেল ছেড়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বারবার নেওয়া সম্ভব না। তাই এই তেল ছাড়ার বিষয়ে ‘প্রস্তুত থাকা’ বা ‘নীতিগতভাবে সম্মত হওয়া’ কিংবা মজুত থেকে তেল ছেড়ে দেওয়াও প্রকৃতপক্ষে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বাজারকে আশ্বস্ত করার একটি কৌশল মাত্র।
তেলের এই মজুত ছাড়ার বিষয়টি আসলে একটি সংকেত, যার মাধ্যমে সরকারগুলো বোঝাতে চায় যে তারা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, এসব ‘রিজার্ভ’ থেকে সরবরাহের ফলে তেলের দাম হয়তো কমবে না, তবে দাম আরও অনেক বেশি বেড়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ পরিবহন বন্ধ থাকায় তেলের বাজার যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে আপাতত অনেক বেশি দাম বেড়ে যাওয়া ঠেকানোকেও আপাত পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি, আইইএ, আল-জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে দেশের ডলারের বাজারে। আজ মঙ্গলবার ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দামে প্রবাসী আয় কিনেছে ব্যাংকগুলো। ফলে আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
২ দিন আগে
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (৯ মার্চ) সকালে লেনদেন শুরু হতেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে শিল্প খাতে শক্তিশালী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা বেশি বলে এসব দেশে তেলের বাজারের অস্থিরতার প্রভাব বেশি।
৩ দিন আগে
আজ সোমবার (৯ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম আজ ব্যারেলপ্রতি ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে পরক্ষণে কিছুটা কমে ১১২.৯৮ ডলারে লে
৩ দিন আগে
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস প্রতি ব্যারেলের দাম ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে ১৮ দশমিক ৩৫ ডলার বেড়ে দাম দাঁড়ায় ১১১ দশমিক শূন্য চার ডলার।
৩ দিন আগে