
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থা ও নীতিনির্ধারকরা ব্যস্ত বাজেটের সম্ভাব্য আকার, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, ঘাটতি, ঋণ গ্রহণ, উন্নয়ন ব্যয় এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে হিসাব-নিকাশে।
তবে দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এসব পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য প্রশ্ন— বাজেট ঘোষণার পর বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? সংসারের খরচ সামলানো সহজ হবে, নাকি আরও কঠিন? চাকরির সুযোগ বাড়বে কি? চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা কমবে কি?
অর্থনীতির ভাষায় বাজেট একটি আর্থিক দলিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বাজেট হলো জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বাস্তব বিষয়। কারণ রাষ্ট্রের আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে মানুষের পকেট, বাজারের ঝুড়ি, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত খরচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর।
রাষ্ট্রের বার্ষিক পরিকল্পনা বাজেট
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাজেট হলো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের পরিকল্পনা। সরকার কোথা থেকে কত অর্থ সংগ্রহ করবে এবং সেই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করবে, তারই বিস্তারিত বিবরণ থাকে বাজেটে।
একটি পরিবারের সঙ্গে এর তুলনা করা যেতে পারে। পরিবারে যেমন আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও ঋণের হিসাব থাকে, রাষ্ট্রেরও তেমন হিসাব থাকে। তবে পার্থক্য হলো, পরিবারের বাজেটের প্রভাব সীমিত কয়েকজন মানুষের মধ্যে থাকলেও রাষ্ট্রের বাজেটের প্রভাব পড়ে কোটি কোটি মানুষের ওপর।
সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে হাসপাতাল, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত— সবকিছুর অর্থ আসে এই বাজেট থেকেই। তাই বাজেটকে শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নথি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই;এটি মূলত রাষ্ট্র কোন খাতে গুরুত্ব দেবে এবং নাগরিকদের জন্য কী ধরনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে, তার একটি বার্ষিক রূপরেখা।
বাজেটের আকার বাড়ছে, কী বার্তা দিচ্ছে সরকার?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বাজেটে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রস্তুত করা বাজেটের সার্বিক কাঠামো গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং তাতে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়।
এবারের বাজেটে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ধারণাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল কনটেন্ট, সৃজনশীল শিল্প এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। বাজেটের আকার যত বড়ই হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষের আগ্রহ থাকে একটি বিষয়েই— এর প্রভাব তাদের জীবনে কী হবে? বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমবে নাকি বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে কি না, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা সহনীয় হবে কি না— এসব প্রশ্নই সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের প্রকৃত গুরুত্ব নির্ধারণ করে।
কেন বাজেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?
বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, পরিবহন ব্যয়, চিকিৎসা খরচ এবং শিক্ষা ব্যয়ও বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের আয় যতটা বাড়ছে, তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেট নিয়ে মানুষের আগ্রহের প্রধান কারণ হলো— সরকার মূল্যস্ফীতি কমাতে কী উদ্যোগ নিচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতি শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের জীবনমানের প্রশ্ন। যখন একই আয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য কেনা যায়, তখন প্রকৃত অর্থে মানুষের আয় কমে যায়।
বাজেটের প্রথম প্রভাব পড়ে বাজারে
বাজেটের আলোচনা শুরু হলেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন, সেটি হলো বাজারদর। রাজধানীর একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয়ের বড় অংশই চলে যায় খাদ্যপণ্য কেনার পেছনে। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ কিংবা মাংসের দাম সামান্য বাড়লেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সংসারের বাজেটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট কিংবা অন্যান্য করের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব অনেক সময় বাজারে গিয়ে দেখা যায়। কোনো পণ্যের ওপর কর বাড়লে ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয় ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেন। ফলে দাম বেড়ে যায়।
অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হলে তাত্ত্বিকভাবে দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়। যদিও বাস্তবে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় সেই সুবিধা ভোক্তার কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় না। এ কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার হলো বাজার।
আয়কর না দিলেও কেন সবাই বাজেটের অংশ?
অনেকের ধারণা, যারা আয়কর দেন, বাজেট মূলত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক নাগরিক কোনো না কোনোভাবে কর পরিশোধ করেন।
মোবাইল ফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, পোশাক কেনা, প্রসাধনী ব্যবহার, রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া, পরিবহন সেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর যুক্ত থাকে। বিশেষ করে ভ্যাট এমন একটি কর, যা ধনী-গরিব সবাইকে দিতে হয়। এ কারণেই অর্থনীতিবিদরা ভ্যাটকে অনেক সময় ‘নীরব কর’ বলে থাকেন।
ফলে বাজেটে ভ্যাট বা শুল্কের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষের ওপর পড়ে।
রাজস্ব বাড়ানোর চাপ, কিন্তু মানুষও চাপে
সরকারকে দেশ পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন এবং ঋণের সুদ পরিশোধ— সব মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের গতি সেই হারে বাড়ছে না। ফলে সরকারকে ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সরকারের রাজস্ব প্রয়োজন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন কর আরোপ বা করের হার বাড়ালে তা আবার মানুষের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে নতুন বাজেটের অন্যতম বড় পরীক্ষা।
কর্মসংস্থান বাড়াতে কী ভূমিকা রাখতে পারে বাজেট?
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। তাই একজন শিক্ষিত বেকার তরুণের কাছে বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— চাকরির সুযোগ বাড়বে কি না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, প্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। বাজেটে যদি এসব খাতকে উৎসাহিত করার মতো নীতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয় এমন সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে চাকরির বাজারে।
কৃষকের স্বার্থ মানেই ভোক্তার স্বার্থ
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি কৃষি। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ে। আবার কৃষক যদি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে উৎপাদনে আগ্রহ হারান। তাই কৃষি ভর্তুকি, সেচ সুবিধা, কৃষিঋণ, উন্নত বীজ, যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো শুধু কৃষকের নয়; পুরো দেশের খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষি খাতে সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বাজেট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে এখনও চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। একটি বড় অসুস্থতা অনেক পরিবারকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। একইভাবে শিক্ষার ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে বহু পরিবারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এ কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। একটি দেশ দীর্ঘমেয়াদে তখনই এগিয়ে যেতে পারে, যখন তার জনগণ সুস্থ, দক্ষ এবং শিক্ষিত হয়। ফলে এই দুই খাতের বরাদ্দ সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও মধ্যবিত্তের জন্য তেমন কোনো সহায়তা নেই। আবার উচ্চবিত্তের মতো তাদের অতিরিক্ত সম্পদও নেই।
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার সঞ্চয় ভেঙে চলতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তাই নতুন বাজেটে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ থাকলে তা হবে সবচেয়ে বড় জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি।
মানুষের জীবনমানই বাজেটের মাপকাঠি
বাজেটের আকার কত লাখ কোটি টাকা হলো, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কত নির্ধারণ করা হলো কিংবা ঘাটতির পরিমাণ কত— এসব বিষয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাজেটের ফলে তাদের জীবন কতটা সহজ বা কঠিন হলো।
একজন গৃহিণীর বাজার খরচ, একজন শ্রমিকের মজুরি, একজন কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, একজন তরুণের চাকরির সুযোগ, একজন রোগীর চিকিৎসা ব্যয় এবং একজন অভিভাবকের সন্তানের শিক্ষার খরচ— এসবের মধ্যেই বাজেটের প্রকৃত অর্থ নিহিত।
সুতরাং বাজেটের সাফল্য কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে নয়, মানুষের জীবনমান দিয়ে বিচার করা উচিত। কারণ শেষ পর্যন্ত বাজেট কোনো সংখ্যার খেলা নয়; এটি কোটি মানুষের জীবন, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঙ্গীকার।

ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থা ও নীতিনির্ধারকরা ব্যস্ত বাজেটের সম্ভাব্য আকার, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, ঘাটতি, ঋণ গ্রহণ, উন্নয়ন ব্যয় এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে হিসাব-নিকাশে।
তবে দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এসব পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য প্রশ্ন— বাজেট ঘোষণার পর বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? সংসারের খরচ সামলানো সহজ হবে, নাকি আরও কঠিন? চাকরির সুযোগ বাড়বে কি? চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা কমবে কি?
অর্থনীতির ভাষায় বাজেট একটি আর্থিক দলিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বাজেট হলো জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বাস্তব বিষয়। কারণ রাষ্ট্রের আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে মানুষের পকেট, বাজারের ঝুড়ি, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত খরচ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর।
রাষ্ট্রের বার্ষিক পরিকল্পনা বাজেট
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাজেট হলো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের পরিকল্পনা। সরকার কোথা থেকে কত অর্থ সংগ্রহ করবে এবং সেই অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করবে, তারই বিস্তারিত বিবরণ থাকে বাজেটে।
একটি পরিবারের সঙ্গে এর তুলনা করা যেতে পারে। পরিবারে যেমন আয়, ব্যয়, সঞ্চয় ও ঋণের হিসাব থাকে, রাষ্ট্রেরও তেমন হিসাব থাকে। তবে পার্থক্য হলো, পরিবারের বাজেটের প্রভাব সীমিত কয়েকজন মানুষের মধ্যে থাকলেও রাষ্ট্রের বাজেটের প্রভাব পড়ে কোটি কোটি মানুষের ওপর।
সড়ক নির্মাণ থেকে শুরু করে হাসপাতাল, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত— সবকিছুর অর্থ আসে এই বাজেট থেকেই। তাই বাজেটকে শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি নথি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই;এটি মূলত রাষ্ট্র কোন খাতে গুরুত্ব দেবে এবং নাগরিকদের জন্য কী ধরনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে, তার একটি বার্ষিক রূপরেখা।
বাজেটের আকার বাড়ছে, কী বার্তা দিচ্ছে সরকার?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন বাজেটে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রস্তুত করা বাজেটের সার্বিক কাঠামো গত ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং তাতে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়।
এবারের বাজেটে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ধারণাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল কনটেন্ট, সৃজনশীল শিল্প এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। বাজেটের আকার যত বড়ই হোক, শেষ পর্যন্ত মানুষের আগ্রহ থাকে একটি বিষয়েই— এর প্রভাব তাদের জীবনে কী হবে? বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমবে নাকি বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে কি না, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা সহনীয় হবে কি না— এসব প্রশ্নই সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের প্রকৃত গুরুত্ব নির্ধারণ করে।
কেন বাজেট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে?
বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, পরিবহন ব্যয়, চিকিৎসা খরচ এবং শিক্ষা ব্যয়ও বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের আয় যতটা বাড়ছে, তার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাজেট নিয়ে মানুষের আগ্রহের প্রধান কারণ হলো— সরকার মূল্যস্ফীতি কমাতে কী উদ্যোগ নিচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতি শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, এটি মানুষের জীবনমানের প্রশ্ন। যখন একই আয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য কেনা যায়, তখন প্রকৃত অর্থে মানুষের আয় কমে যায়।
বাজেটের প্রথম প্রভাব পড়ে বাজারে
বাজেটের আলোচনা শুরু হলেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন, সেটি হলো বাজারদর। রাজধানীর একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয়ের বড় অংশই চলে যায় খাদ্যপণ্য কেনার পেছনে। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ কিংবা মাংসের দাম সামান্য বাড়লেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সংসারের বাজেটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট কিংবা অন্যান্য করের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব অনেক সময় বাজারে গিয়ে দেখা যায়। কোনো পণ্যের ওপর কর বাড়লে ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয় ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেন। ফলে দাম বেড়ে যায়।
অন্যদিকে প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হলে তাত্ত্বিকভাবে দাম কমার সুযোগ তৈরি হয়। যদিও বাস্তবে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় সেই সুবিধা ভোক্তার কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় না। এ কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগার হলো বাজার।
আয়কর না দিলেও কেন সবাই বাজেটের অংশ?
অনেকের ধারণা, যারা আয়কর দেন, বাজেট মূলত তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক নাগরিক কোনো না কোনোভাবে কর পরিশোধ করেন।
মোবাইল ফোনে কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, পোশাক কেনা, প্রসাধনী ব্যবহার, রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া, পরিবহন সেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর যুক্ত থাকে। বিশেষ করে ভ্যাট এমন একটি কর, যা ধনী-গরিব সবাইকে দিতে হয়। এ কারণেই অর্থনীতিবিদরা ভ্যাটকে অনেক সময় ‘নীরব কর’ বলে থাকেন।
ফলে বাজেটে ভ্যাট বা শুল্কের পরিবর্তন হলে তার প্রভাব সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষের ওপর পড়ে।
রাজস্ব বাড়ানোর চাপ, কিন্তু মানুষও চাপে
সরকারকে দেশ পরিচালনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন এবং ঋণের সুদ পরিশোধ— সব মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ের গতি সেই হারে বাড়ছে না। ফলে সরকারকে ঘাটতি পূরণে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সরকারের রাজস্ব প্রয়োজন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন কর আরোপ বা করের হার বাড়ালে তা আবার মানুষের ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে নতুন বাজেটের অন্যতম বড় পরীক্ষা।
কর্মসংস্থান বাড়াতে কী ভূমিকা রাখতে পারে বাজেট?
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। তাই একজন শিক্ষিত বেকার তরুণের কাছে বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— চাকরির সুযোগ বাড়বে কি না।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, প্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। বাজেটে যদি এসব খাতকে উৎসাহিত করার মতো নীতি গ্রহণ করা হয়, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দেয় এমন সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে চাকরির বাজারে।
কৃষকের স্বার্থ মানেই ভোক্তার স্বার্থ
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি কৃষি। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়লে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ে। আবার কৃষক যদি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে উৎপাদনে আগ্রহ হারান। তাই কৃষি ভর্তুকি, সেচ সুবিধা, কৃষিঋণ, উন্নত বীজ, যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের বিষয়গুলো শুধু কৃষকের নয়; পুরো দেশের খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষি খাতে সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বাজেট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে এখনও চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। একটি বড় অসুস্থতা অনেক পরিবারকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। একইভাবে শিক্ষার ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে বহু পরিবারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
এ কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। একটি দেশ দীর্ঘমেয়াদে তখনই এগিয়ে যেতে পারে, যখন তার জনগণ সুস্থ, দক্ষ এবং শিক্ষিত হয়। ফলে এই দুই খাতের বরাদ্দ সাধারণ মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও মধ্যবিত্তের জন্য তেমন কোনো সহায়তা নেই। আবার উচ্চবিত্তের মতো তাদের অতিরিক্ত সম্পদও নেই।
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার সঞ্চয় ভেঙে চলতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। তাই নতুন বাজেটে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ থাকলে তা হবে সবচেয়ে বড় জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি।
মানুষের জীবনমানই বাজেটের মাপকাঠি
বাজেটের আকার কত লাখ কোটি টাকা হলো, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কত নির্ধারণ করা হলো কিংবা ঘাটতির পরিমাণ কত— এসব বিষয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাজেটের ফলে তাদের জীবন কতটা সহজ বা কঠিন হলো।
একজন গৃহিণীর বাজার খরচ, একজন শ্রমিকের মজুরি, একজন কৃষকের উৎপাদন ব্যয়, একজন তরুণের চাকরির সুযোগ, একজন রোগীর চিকিৎসা ব্যয় এবং একজন অভিভাবকের সন্তানের শিক্ষার খরচ— এসবের মধ্যেই বাজেটের প্রকৃত অর্থ নিহিত।
সুতরাং বাজেটের সাফল্য কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে নয়, মানুষের জীবনমান দিয়ে বিচার করা উচিত। কারণ শেষ পর্যন্ত বাজেট কোনো সংখ্যার খেলা নয়; এটি কোটি মানুষের জীবন, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঙ্গীকার।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা (জিডিপির ০ দশমিক ৫৮%)। এ হিসেবে আসন্ন অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ৩৩ হাজার ৯৩২ কো
১ ঘণ্টা আগে
নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় এমন এক প্যাকেট সিগারেটের ন্যূনতম দাম ধরা হয়েছে ২১০ টাকা বা প্রতি পিস ২১ টাকা। সে হিসাবে একেকটি সিগারেটের দাম বাড়ছে আড়াই টাকা। আর বাজারে থাকা ২০ পিস সিগারেটের এক প্যাকেটের দাম বাড়বে ৫০ টাকা।
২ ঘণ্টা আগে
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৫০ কোটি টাকা। ফলে সুপ্রিম কোর্টের বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
২ ঘণ্টা আগে