বাজেটে ১০ অগ্রাধিকার সরকারের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: পিএমও

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করতে শুরু করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। তার অনুমোদন দিয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাজেটে যে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—

  • সবার জন্য উন্নয়ন
  • সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
  • সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
  • বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
  • বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ
  • আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
  • জ্বালানি নিরাপত্তা
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
  • জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
  • স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, 'আমরা শিক্ষা খাতে আগামী অর্থবছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করে সর্বমোট ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, জিডিপির ০.৫৮ শতাংশ।

কৃষিতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, "আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা। কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর আনতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ আনুষ্ঠানিকভাবে 'কৃষক কার্ড' কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী অর্থবছরে ১০০ উপজেলায় ৪২ লক্ষ ৫০ হাজার কৃষককে 'কৃষক কার্ড' প্রদান করা হবে এবং দেশের সকল কৃষককে পর্যায়ক্রমে 'কৃষক কার্ড' প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে।"

তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকগণ প্রতি বছর একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।

বক্তৃতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সকল নাগরিককে জীবনচক্রভিত্তিক পদ্ধতিতে সুরক্ষার আওতায় আনা, যাতে দারিদ্র্য হ্রাস পায়, বৈষম্য কমে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। এই কাঠামোর মূল দর্শন হলো অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন।'

অর্থমন্ত্রী বলেন, "সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে সরকার বেশকিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, যেমন—

  • সামাজিক সুরক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকল্পে আমাদের সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রাম 'ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি', যার কার্যক্রম সরকার গঠনের ১ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী ব্যাক্তি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।
  • ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে 'ফ্যামিলি কার্ড' কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত করা হবে। ইতোমধ্যে পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লক্ষ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং এর বিপরীতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করছি।
  • বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা অব্যাহত রাখা হবে।
  • ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ ফ্রি এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫% ছাড় দেওয়া হবে।
  • প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লক্ষে বাড়ানো হবে এবং মাসিক ভাতা ১ হাজার টাকা করা হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভাতার সংখ্যা ১ লক্ষে উন্নীত করা হবে এবং স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা করা হবে।
  • মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮.৯৫ লক্ষ মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা দেওয়া হবে।
  • ক্যানসারসহ ৬টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হবে।
  • বেসরকারি কর্মীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ফান্ডের আওতায় অবসর গ্রহণকালে মোট অর্থের ৩০% গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
  • সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকবে।
  • খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠ ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম ৩০ হাজার টাকা, বীর বিক্রম ২৫ হাজার টাকা এবং বীর প্রতীক ২৫ হাজার টাকা করা হবে।
  • জুলাই গণভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারদের মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে আহতদের যথাক্রমে ২০, ১৫ ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অব্যাহত থাকবে।"

এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এই খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এই উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবন নির্ভর, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসাবে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই অর্থ 'স্টার্ট-আপ তহবিল' হিসেবে, নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে, নারী উন্নয়নে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।'

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত রয়েছেন। আরও উপস্থিত রয়েছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যরা।

ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নতুন নীতিমালায় ৬৭ জন পাবেন ‘সেরা করদাতা’ সম্মাননা

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় করদাতাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, করদাতাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

২ ঘণ্টা আগে

রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত, আজ থেকেই কার্যকর

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিছুক্ষণ আগে আমাদের জানিয়েছেন, আজ থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণি বিতান ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।

২ ঘণ্টা আগে

সবাইকে ই-হেলথ কার্ড দেবে সরকার, স্বাস্থ্যে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উত্থাপন করবেন। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষা।

৩ ঘণ্টা আগে

মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই বাজেট বিকেলে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

৩ ঘণ্টা আগে