
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে শরিয়া আইন ও ইসলামকে বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি রাষ্ট্র গঠনে ছয় দফার পাশাপাশি তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০ দফাও তুলে ধরেন।
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, শরিয়া কেবলই একটি আইনের নাম নয়; বরং শরিয়া হলো মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসাবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে ইনশাআল্লাহ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জনগণের উদ্দেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে বিটিভি এ ভাষণ প্রচারের আয়োজন করেছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চরমোনাই পির। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সংগঠিত সব আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নেওয়া জাতির সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাম ধারণ করাসহ দলটির গত প্রায় চার দশকের যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র মুফতি রেজাউল করিম তুলে ধরেন ভাষণে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে সবাই একমত যে সংবিধানই প্রধানতম সমস্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করার একটি সুযোগ পেয়েছি।
সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবনার গণভোটকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন চরমোনাই পির। তিনি বলেন, আপনার একটি ভোট মহান স্বাধীনতা ও চব্বিশের জুলাইয়ের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।
স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে ভাষণে বলেন সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আর্থিক সমৃদ্ধি আসেনি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বরং দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হানাহানি, অবিচার, সীমাহীন বৈষম্য, বেকারত্ব আমাদের দেশকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। অতীতে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তাদের কেউই এই দায় এড়াতে পারবে না। এখানে ভোটার হিসাবে আমার-আপনার দায়ও রয়েছে। ভুল নীতি ও নেতাকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।
দেশ পরিচালনায় দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করে রেজাউল করিম বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল দুটি। এক— রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ভুল নীতি গ্রহণ করা এবং দুই— ভুল নেতা বাছাই করা। ভুল নীতির কারণে অনেক ভালো নেতাও দেশকে কাঙ্ক্ষিত মানে নিয়ে যেতে পারেননি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে— আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
ভোটারদের ভোট দেওয়ার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে চরমোনাই পির বলেন, ভোট অর্থ হলো কাউকে আপনার হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া। ভোট অর্থ কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতর বলে সাক্ষ্য দেওয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন— ‘যে ভালো সুপারিশ করবে তা থেকে তার জন্য একটি অংশ থাকবে এবং যে মন্দ সুপারিশ করবে তার জন্য তা থেকে একটি অংশ থাকবে।’ (সূরা আন-নিসা, ৮৫)
কোরআনের এ আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ খুবই স্পষ্ট— আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোনো ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোনো খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে।
এ আয়াতের আলোকে ভোট দিতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেওয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়ই নয়, বরং একই সঙ্গে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।
‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে দলীয় ইশতেহারের কথা তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি— রাষ্ট্র গঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মৌলিক ইশতেহার শিরোনামে ৩০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ভাষণে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা তুলে ধরেন সৈয়দ রেজাউল করিম। এ আট দফা হলো—
এ সময় রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছয় দফা তুলে ধরেন তিনি। এ ছয় দফা হলো—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০টি পয়েন্টও ভাষণে তুলে ধরেন মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। এগুলো হলো—
ইসলামী আন্দোলনের আমির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে ঘোষণা দেন। এই ১২ দফা হলো—
তরুণদের কাছে দলীয় প্রতীক হাতপাখার পক্ষে ভোট চেয়ে চরমোনাই পির বলেন, প্রিয় তারুণ্য, তোমরা এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছ। তোমাদের প্রথম ভোট হোক পরিবর্তনের পক্ষে, হাতপাখা প্রতীকে। আমি কথা দিচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তোমাদের ভোট নিয়ে নিজেদের আখের গুছাবে না; বরং তোমাদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, প্রিয় দেশবাসী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে আমরা সংস্কার কমিশনে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি। জুলাই সনদ কোনো দলের বিপক্ষে না। তাই আগামী ১২ তারিখে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করুন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও দেশবাসীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত। ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখুন। প্রিয় দেশবাসী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে আসুন। সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু মানুষের প্রতীক হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন। কথা দিচ্ছি, শান্তি ও মুক্তি আসবে ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে শরিয়া আইন ও ইসলামকে বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি রাষ্ট্র গঠনে ছয় দফার পাশাপাশি তার দলের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০ দফাও তুলে ধরেন।
মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, শরিয়া কেবলই একটি আইনের নাম নয়; বরং শরিয়া হলো মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসাবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে ইনশাআল্লাহ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জনগণের উদ্দেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে বিটিভি এ ভাষণ প্রচারের আয়োজন করেছে।
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চরমোনাই পির। ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সংগঠিত সব আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নেওয়া জাতির সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নাম ধারণ করাসহ দলটির গত প্রায় চার দশকের যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র মুফতি রেজাউল করিম তুলে ধরেন ভাষণে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে সবাই একমত যে সংবিধানই প্রধানতম সমস্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করার একটি সুযোগ পেয়েছি।
সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবনার গণভোটকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন চরমোনাই পির। তিনি বলেন, আপনার একটি ভোট মহান স্বাধীনতা ও চব্বিশের জুলাইয়ের প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।
স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হলেও বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে ভাষণে বলেন সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আর্থিক সমৃদ্ধি আসেনি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। বরং দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হানাহানি, অবিচার, সীমাহীন বৈষম্য, বেকারত্ব আমাদের দেশকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। অতীতে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তাদের কেউই এই দায় এড়াতে পারবে না। এখানে ভোটার হিসাবে আমার-আপনার দায়ও রয়েছে। ভুল নীতি ও নেতাকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়।
দেশ পরিচালনায় দুটি বড় সমস্যা চিহ্নিত করে রেজাউল করিম বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল দুটি। এক— রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ভুল নীতি গ্রহণ করা এবং দুই— ভুল নেতা বাছাই করা। ভুল নীতির কারণে অনেক ভালো নেতাও দেশকে কাঙ্ক্ষিত মানে নিয়ে যেতে পারেননি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে— আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সম্মান মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
ভোটারদের ভোট দেওয়ার দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে চরমোনাই পির বলেন, ভোট অর্থ হলো কাউকে আপনার হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া। ভোট অর্থ কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতর বলে সাক্ষ্য দেওয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন— ‘যে ভালো সুপারিশ করবে তা থেকে তার জন্য একটি অংশ থাকবে এবং যে মন্দ সুপারিশ করবে তার জন্য তা থেকে একটি অংশ থাকবে।’ (সূরা আন-নিসা, ৮৫)
কোরআনের এ আয়াতের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ খুবই স্পষ্ট— আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোনো ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোনো খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে।
এ আয়াতের আলোকে ভোট দিতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেওয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়ই নয়, বরং একই সঙ্গে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।
‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে দলীয় ইশতেহারের কথা তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি— রাষ্ট্র গঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মৌলিক ইশতেহার শিরোনামে ৩০টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
ভাষণে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত আট দফা ঘোষণা তুলে ধরেন সৈয়দ রেজাউল করিম। এ আট দফা হলো—
এ সময় রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছয় দফা তুলে ধরেন তিনি। এ ছয় দফা হলো—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনি ইশতেহারের মৌলিক ৩০টি পয়েন্টও ভাষণে তুলে ধরেন মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। এগুলো হলো—
ইসলামী আন্দোলনের আমির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে ঘোষণা দেন। এই ১২ দফা হলো—
তরুণদের কাছে দলীয় প্রতীক হাতপাখার পক্ষে ভোট চেয়ে চরমোনাই পির বলেন, প্রিয় তারুণ্য, তোমরা এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছ। তোমাদের প্রথম ভোট হোক পরিবর্তনের পক্ষে, হাতপাখা প্রতীকে। আমি কথা দিচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তোমাদের ভোট নিয়ে নিজেদের আখের গুছাবে না; বরং তোমাদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়ে মুফতি রেজাউল করিম বলেন, প্রিয় দেশবাসী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে আমরা সংস্কার কমিশনে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছি। জুলাই সনদ কোনো দলের বিপক্ষে না। তাই আগামী ১২ তারিখে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করুন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও দেশবাসীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, আপনারা রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত। ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখুন। প্রিয় দেশবাসী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে আসুন। সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু মানুষের প্রতীক হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন। কথা দিচ্ছি, শান্তি ও মুক্তি আসবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি সরকারের গণভোটের গণরায় উপেক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশগুলো বাতিল এবং সমসাময়িক বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
২ দিন আগে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটি দল বিভাজন আনার চেষ্টা করছে। এ বিভাজনগুলো আমাদের সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হিংসা বিদ্বেষ তৈরি করে। একটি শব্দ যেটিকে আমরা ঘৃণা করি। এ শব্দটাকে আমাদের সকলের ঘৃণা করা উচিত। মানুষের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব আরও বেশি করে সৃষ্টি করা উচিত।’
২ দিন আগে
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুব দ্রুত কীভাবে আমরা দলকে কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এটাই ছিল মূল আলোচনা। খুব দ্রুত আমরা দলকে কাউন্সিলের দিকে যেতে চেষ্টা করব।’
২ দিন আগে
আজহারুল ইসলাম বলেন, আজকে আমি সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। আজ আমি এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। জুলাই বিপ্লব একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না।
২ দিন আগে