
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরে অনেক কিছুই অর্জন করতে না পারার জন্য নিজেদের অনভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সবকিছু স্বীকার করে নিয়েই তিনি দেশবাসীর কাছে আরেকবার সুযোগও প্রার্থনা করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দেড় বছরে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করতে পারিনি। সে হতাশা, সে ক্ষোভ আমাদের আছে। আমরা আমাদের অনভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিচ্ছি। সবকিছু স্বীকার করে নিয়েই আমরা আপনাদের কাছে আরেকটিবার সুযোগ চাইছি। এবারের নির্বাচনে আপনারা এনসিপি ও ১১-দলীয় জোটকে সমর্থন করুন।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জনগণের উদ্দেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে বিটিভি এ ভাষণ প্রচারের আয়োজন করেছে।
নাহিদ ইসলাম তার ভাষণের শুরুতেই জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই সময় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, বাংলাদেশের শ্রমিক, বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা সবাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিলাম একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য। আমাদের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অর্থনীতি এবং রাজনীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায়ভিত্তিক এক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে সব খাতেই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা সবসময় প্রাধান্য পেয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর গত ৫৫ বছরে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছে তার মূল ভিত্তি ছিল বৈষম্য। এরই পরিণতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরনো কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। এই বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা, আইনের প্রয়োগ এবং সুষময় বণ্টনের প্রতিটি স্তরে গভীরভাবে প্রোথিত। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিল এবং ক্ষমতাসীনদের সংস্পর্শে পৌঁছাতে পেরেছে, তারাই শুধু নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছে। বিপরীতে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী শ্রেণি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সব ক্ষেত্রে বঞ্চিতই থেকে গেছে।
সেই বৈষম্য ও শোষণের নানা রূপের কথা ভাষণে তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। দুর্নীতি, লুটপাট, গুম-খুনের মতো নানা অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ বলেন, দেশবাসী আমাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দিলে বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত লুকিয়ে থাকা সব অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি বিধান করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, হাসিনা ও তার মদতপুষ্ট আওয়ামী ব্যবসায়ী ও আমলারা এই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লুটপাট করা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও তাদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত ফ্যাসিবাদী যুগের সুবিধাভোগী কিছু শীর্ষ আমলা ও বিশেষজ্ঞেরা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করায় এ বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার বিঘ্নিত হয়েছে।
সরকার গঠন করতে পারলে এসব অর্থ ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশবাসী যদি আমাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। খুনি হাসিনার দোসর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, তাদের সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে।
অর্থনীতি, বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিতে নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, জনগণ এনসিপির ওপর আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ঘাটতি এবং কারও ওপর অতি নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা হবে। আমরা অগণতান্ত্রিক শাসকদের নতজানু নীতিকাঠামো ভেঙে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করব। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে সার্ক পুনর্জীবিত করা হবে এবং আসিয়ানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাব।
প্রবাসীদের দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, প্রবাসে থাকা নাগরিকদের সমস্যা সমাধান ও দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পৃথিবীর সব প্রান্তে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা এবং কূটনীতিকের সংখ্যা বাড়ানো হবে। লক্ষ্য হবে, পৃথিবীর সম্ভাবনাময় সব দেশে নামমাত্র খরচে জনবল রপ্তানি করা এবং তারা যেন কোথাও কোনোভাবে হেনস্থার শিকার না হয়, সেই সুরক্ষা দেওয়া।
কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকারের ভূমিকা হবে সক্রিয়ভাবে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের মূল্য সবসময়ই সর্বাধিক। এর কারণ এ দেশে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ নিজেদের পকেটস্থ করে। আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের সিন্ডিকেট ভাঙা হবে। এমন দুষ্টু চক্রের বিরুদ্ধে আইন করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ, কারসাজি ও অবৈধ মজুতদারি প্রমাণিত হলে অপরাধীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।
নাহিদ বলেন, কৃষকেরা যেন তাদের শস্য ও কৃষিপণ্য কাউকে কোনো চাঁদা বা তোলা না দিয়ে বিক্রি করতে পারে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও যেন কাউকে কোথাও এক টাকাও না দিতে হয়, সরকার তা নিশ্চিত করবে। কঠোরভাবে এ পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করা গেলে বাজারে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
পুলিশ বাহিনী প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী কার্যত একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের অত্যাচার ও জুলুমের কারণে মানুষ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মতো পুলিশকেও ‘পুলিশ লীগ’ নামে ডাকতে শুরু করেছিল। দেশে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যারা তখনকার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়নি।
পুলিশ বাহিনীতে যারা অপরাধে জড়িত ছিল তাদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও পুলিশ ব্যাপক নৃশংসতা করেছে। আমরা সরকার গঠন করলে জুলাই বিপ্লবের সময় এবং গত ১৫ বছর ধরে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য হত্যা, নির্যাতন, জুলুম, মিথ্যা মামলা, দস্যুবৃত্তি করে অর্থ লোপাট ও ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় আনা হবে।
আইন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। বলেন, বাংলাদেশ কখনোই আফগানিস্তান হবে না। এটা বাংলাদেশই থাকবে। অনুকরণীয় হতে পারে মালয়েশিয়া বা তুরস্কের মতো ধর্মানুরাগী উদারনৈতিক সমাজ, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ও নাগরিকতা নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থায় সবার সহাবস্থান থাকবে। ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সামাজিক সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গায়। আর রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে।
নারীদের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নারীর অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করাই হবে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাঙ্গন, যানবাহন, জনসমাগমস্থল, এমনকি ঘরের ভেতরেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি চাকরি, রাজনীতি, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকারসহ সব পর্যায়ে নারীদের যৌক্তিক অংশগ্রহণের সুযোগ অবারিত করা হবে। গৃহস্থলে সহিংসতা, যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
কৃষকদের জন্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, সার ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের লুটেরা গোষ্ঠীর কারণে এসব উপকরণ অনেক সময় প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছায় না। আমরা নিশ্চিত করব, যেন কোনো সিন্ডিকেট বা লুটেরা গোষ্ঠী সার ও বীজ বাজারজাতকরণের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে অধিক মূল্য আদায় করতে না পারে।
কৃষি ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ বলেন, দেশে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো— অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত কৃষকদের কাছে এই ঋণ পৌঁছায় না। কৃষি ঋণ নিতে গেলে জমির দলিল, আইডি কার্ড ও নানা কাগজপত্রের নামে কৃষকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। এই জটিলতা ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষক সমাজ কৃষি ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। এনসিপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ঋণ প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রের নামে সব ধরনের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ করা হবে। কৃষি ঋণ সহজলভ্য করা হবে।
এনসিপি ও ১১-দলীয় ঐক্যের ১৮টি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ভাষণে তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের জন্য সুযোগ চেয়ে নাহিদ বলেন, আপনারা গত দেড় বছরে দেখেছেন কারা সংস্কারের বিরোধিতা করেছে, কারা নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে, কারা পুরোনো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছে। আমরা পরিবর্তন ও সংস্কারের রাজনীতি চাই। বাংলাদেশকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাই আমাদের উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্যে আমরা ১১টি দল এবার ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এনসিপির শাপলা কলি মার্কায় ৩০ জন প্রার্থী বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচন করছেন। আমার আহ্বান ও অনুরোধ, আপনারা তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দিন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১১-দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা পরিবর্তন ও ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। আমরা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করব। জুলাইয়ের খুনিদের আমরা বিচার নিশ্চিত করব। গণভোটে আপনারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান নাহিদ। বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন ও আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম হতে হবে। সবার কাছে আমার আহ্বান, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ভোটকেন্দ্রে থাকব। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের ভোটাধিকার কেউই হরণ করতে পারবে না।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত দেড় বছরে অনেক কিছুই অর্জন করতে না পারার জন্য নিজেদের অনভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সবকিছু স্বীকার করে নিয়েই তিনি দেশবাসীর কাছে আরেকবার সুযোগও প্রার্থনা করেছেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত দেড় বছরে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করতে পারিনি। সে হতাশা, সে ক্ষোভ আমাদের আছে। আমরা আমাদের অনভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে নিচ্ছি। সবকিছু স্বীকার করে নিয়েই আমরা আপনাদের কাছে আরেকটিবার সুযোগ চাইছি। এবারের নির্বাচনে আপনারা এনসিপি ও ১১-দলীয় জোটকে সমর্থন করুন।’
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জনগণের উদ্দেশে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে বিটিভি এ ভাষণ প্রচারের আয়োজন করেছে।
নাহিদ ইসলাম তার ভাষণের শুরুতেই জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই সময় বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, বাংলাদেশের শ্রমিক, বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা সবাই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিলাম একটি নতুন বাংলাদেশের জন্য। আমাদের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অর্থনীতি এবং রাজনীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায়ভিত্তিক এক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে সব খাতেই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা সবসময় প্রাধান্য পেয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর গত ৫৫ বছরে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছে তার মূল ভিত্তি ছিল বৈষম্য। এরই পরিণতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরনো কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। এই বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি রাজনৈতিক ক্ষমতা, সামাজিক মর্যাদা, আইনের প্রয়োগ এবং সুষময় বণ্টনের প্রতিটি স্তরে গভীরভাবে প্রোথিত। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা ছিল এবং ক্ষমতাসীনদের সংস্পর্শে পৌঁছাতে পেরেছে, তারাই শুধু নিজেদের ভাগ্য বদলে নিয়েছে। বিপরীতে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী শ্রেণি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সব ক্ষেত্রে বঞ্চিতই থেকে গেছে।
সেই বৈষম্য ও শোষণের নানা রূপের কথা ভাষণে তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। দুর্নীতি, লুটপাট, গুম-খুনের মতো নানা অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ বলেন, দেশবাসী আমাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দিলে বিভিন্ন বাহিনীর ভেতরে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত লুকিয়ে থাকা সব অপরাধীকে শনাক্ত করা হবে। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি বিধান করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, হাসিনা ও তার মদতপুষ্ট আওয়ামী ব্যবসায়ী ও আমলারা এই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় বয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লুটপাট করা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর কথা বললেও তাদের অবহেলা ও অজ্ঞতার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত ফ্যাসিবাদী যুগের সুবিধাভোগী কিছু শীর্ষ আমলা ও বিশেষজ্ঞেরা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করায় এ বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার বিঘ্নিত হয়েছে।
সরকার গঠন করতে পারলে এসব অর্থ ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দেশবাসী যদি আমাদের সরকার গঠনের দায়িত্ব দেয়, তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে লুটপাট ও পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। খুনি হাসিনার দোসর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, তাদের সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে।
অর্থনীতি, বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিতে নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, জনগণ এনসিপির ওপর আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ঘাটতি এবং কারও ওপর অতি নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা হবে। আমরা অগণতান্ত্রিক শাসকদের নতজানু নীতিকাঠামো ভেঙে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আত্মমর্যাদাপূর্ণ ও স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করব। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে সার্ক পুনর্জীবিত করা হবে এবং আসিয়ানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাব।
প্রবাসীদের দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, প্রবাসে থাকা নাগরিকদের সমস্যা সমাধান ও দ্রুত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে পৃথিবীর সব প্রান্তে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা এবং কূটনীতিকের সংখ্যা বাড়ানো হবে। লক্ষ্য হবে, পৃথিবীর সম্ভাবনাময় সব দেশে নামমাত্র খরচে জনবল রপ্তানি করা এবং তারা যেন কোথাও কোনোভাবে হেনস্থার শিকার না হয়, সেই সুরক্ষা দেওয়া।
কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। বলেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে মানুষ যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন সরকারের ভূমিকা হবে সক্রিয়ভাবে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের মূল্য সবসময়ই সর্বাধিক। এর কারণ এ দেশে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ নিজেদের পকেটস্থ করে। আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।
তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও আমলাদের সিন্ডিকেট ভাঙা হবে। এমন দুষ্টু চক্রের বিরুদ্ধে আইন করে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ, কারসাজি ও অবৈধ মজুতদারি প্রমাণিত হলে অপরাধীরা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।
নাহিদ বলেন, কৃষকেরা যেন তাদের শস্য ও কৃষিপণ্য কাউকে কোনো চাঁদা বা তোলা না দিয়ে বিক্রি করতে পারে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও যেন কাউকে কোথাও এক টাকাও না দিতে হয়, সরকার তা নিশ্চিত করবে। কঠোরভাবে এ পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করা গেলে বাজারে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
পুলিশ বাহিনী প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী কার্যত একটি দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের অত্যাচার ও জুলুমের কারণে মানুষ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মতো পুলিশকেও ‘পুলিশ লীগ’ নামে ডাকতে শুরু করেছিল। দেশে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন, যারা তখনকার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়নি।
পুলিশ বাহিনীতে যারা অপরাধে জড়িত ছিল তাদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও পুলিশ ব্যাপক নৃশংসতা করেছে। আমরা সরকার গঠন করলে জুলাই বিপ্লবের সময় এবং গত ১৫ বছর ধরে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য হত্যা, নির্যাতন, জুলুম, মিথ্যা মামলা, দস্যুবৃত্তি করে অর্থ লোপাট ও ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় আনা হবে।
আইন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। বলেন, বাংলাদেশ কখনোই আফগানিস্তান হবে না। এটা বাংলাদেশই থাকবে। অনুকরণীয় হতে পারে মালয়েশিয়া বা তুরস্কের মতো ধর্মানুরাগী উদারনৈতিক সমাজ, যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ও নাগরিকতা নির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থায় সবার সহাবস্থান থাকবে। ধর্ম থাকবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সামাজিক সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গায়। আর রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আইন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ভিত্তিতে।
নারীদের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, নারীর অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করাই হবে অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। আমরা বিশ্বাস করি, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাঙ্গন, যানবাহন, জনসমাগমস্থল, এমনকি ঘরের ভেতরেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি চাকরি, রাজনীতি, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকারসহ সব পর্যায়ে নারীদের যৌক্তিক অংশগ্রহণের সুযোগ অবারিত করা হবে। গৃহস্থলে সহিংসতা, যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
কৃষকদের জন্য উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, সার ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের লুটেরা গোষ্ঠীর কারণে এসব উপকরণ অনেক সময় প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছায় না। আমরা নিশ্চিত করব, যেন কোনো সিন্ডিকেট বা লুটেরা গোষ্ঠী সার ও বীজ বাজারজাতকরণের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে অধিক মূল্য আদায় করতে না পারে।
কৃষি ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ বলেন, দেশে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো— অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত কৃষকদের কাছে এই ঋণ পৌঁছায় না। কৃষি ঋণ নিতে গেলে জমির দলিল, আইডি কার্ড ও নানা কাগজপত্রের নামে কৃষকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। এই জটিলতা ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষক সমাজ কৃষি ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। এনসিপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ঋণ প্রক্রিয়ায় কাগজপত্রের নামে সব ধরনের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ করা হবে। কৃষি ঋণ সহজলভ্য করা হবে।
এনসিপি ও ১১-দলীয় ঐক্যের ১৮টি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ভাষণে তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের জন্য সুযোগ চেয়ে নাহিদ বলেন, আপনারা গত দেড় বছরে দেখেছেন কারা সংস্কারের বিরোধিতা করেছে, কারা নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে, কারা পুরোনো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছে। আমরা পরিবর্তন ও সংস্কারের রাজনীতি চাই। বাংলাদেশকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাই আমাদের উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্যে আমরা ১১টি দল এবার ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এনসিপির শাপলা কলি মার্কায় ৩০ জন প্রার্থী বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচন করছেন। আমার আহ্বান ও অনুরোধ, আপনারা তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দিন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ১১-দলীয় জোট আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করলে আমরা পরিবর্তন ও ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। আমরা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করব। জুলাইয়ের খুনিদের আমরা বিচার নিশ্চিত করব। গণভোটে আপনারা অবশ্যই ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেবেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান নাহিদ। বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন ও আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম হতে হবে। সবার কাছে আমার আহ্বান, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ভোটকেন্দ্রে থাকব। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের ভোটাধিকার কেউই হরণ করতে পারবে না।

ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আমানুল্লাহ আমান (মাস্টার), নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য মো. ইশতিয়াক আহমেদ হিরা, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সদস্য সরদার আফজাল হোসেন, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ৮ নম্ব
৭ ঘণ্টা আগে
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য নোয়াখালী জেলাধীন সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ মাসুদ, সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আমিন স্বপন, সাখাওয়াত হোসেন সাকু, অম্বরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. শাহজালাল, মৌলভীবাজার জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি হেলেনা চৌধুরী, ম
৮ ঘণ্টা আগে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের বিজয় হলে ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান।
১০ ঘণ্টা আগে
তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন বানচালের জন্য কয়েকটি দল পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল পরিবর্তনের চেষ্টা করা হতে পারে।’ মির্জা আব্বাসের দাবি, ‘নিজেরা যা করবে, তার দায় অন্য দলের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। কারণ তাদের সমর্থিত দল এখন ক্ষমতায় রয়েছে।’
১০ ঘণ্টা আগে