
বিশেষ প্রতিনিধি, রাজনীতি ডটকম

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না।
এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। কেউ বলছেন, দল থেকে বহিষ্কার করার ফলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে কেউ বলছেন, সংবিধানে সংসদ সদস্যপদে থাকার যোগ্যতা হারানোর বিষয়ে যেসব অনুচ্ছেদ রয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার কোনোটিই লঙ্ঘিত হয়নি। ফলে তার সংসদ সদস্য পদে থাকতে বাধা নেই।
তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত— যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাতে নৈতিকভাবে তার পক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, তারা জামায়াত থেকে নোটিশ পেলে তারপর ‘আইন অনুযায়ী’ ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে আইন কী বলছে, সেটি স্পষ্ট করে বলেনি ইসি।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গাজী নজরুল ইসলাম উঠে আসেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ ঘটনায় দেশ জুড়ে কড়া সমালোচনা শুরু হয়।
গাজী নজরুল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, রাজধানীর মগবাজারে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বাবার অফিসে তাকে ‘জিম্মি’ করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপর উদ্দেশ্যপ্রাণোদিতভাবে তাদের (তরুণী ও গাজী নজরুল ইসলাম) ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘ঘনিষ্ঠ’ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
‘অন্তরঙ্গ মুহূর্তে’র ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অ্যাক্টিভিস্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তবে দেশের একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায়, ভিডিওটি এআই-জেনারেটেড নয়।
পরে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একই তরুণীকে নিয়ে একটি কক্ষে অবস্থান করার সময় স্থানীয় কয়েকজনের মুখোমুখি হতে দেখা যায় গাজী নজরুল ইসলামকে। সে ভিডিও-ও এরই মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ভিডিওতে স্থানীয়রা গাজী নজরুলকে প্রশ্ন করছিলেন, ‘এই মুরুব্বি, আপনারা কয়দিন আসছেন এখানে? সত্যি করে বলবেন।’ জবাবে গাজী নজরুল বলেন, ‘আমরা তো এই মাত্র ঢুকছি। এই একবারই, বিশ্বাস করেন।’
এরপর আরেকজন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি একজন জামায়াত (নেতা) হয়ে কীভাবে কাজটা করলেন মেয়ে লোক নিয়া?’ জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘না না… আমরা তো এমনিতেই... ঢুকছিই আধা ঘণ্টা হইল।’
এদিকে গাজী নজরুল ফেসবুক পেজে আরও দাবি করেন, তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন ভিডিওতে দেখতে পাওয়া তরুণীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়েছে। তবে এ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তরুণীর একটি বায়োডাটা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ২২ জুন তারিখে গাজী নজরুলের সইয়ের ওপর সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে— ‘জোর সুপারিশ করছি।’ ওই বায়োডাটায় তরুণীটি অবিবাহিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভিডিও ধারণের সময় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। গাজী নজরুল ইসলাম ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করলেও ফুটেজে দৃশ্যমান টাইমস্ট্যাম্পে ধারণের তারিখ দেখা গেছে ‘২০২৩ সালের ১ জুলাই’।
গাজী নজরুলের ভিডিও ভাইরাল হলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনাটি তাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলের সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরে বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের তথ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলন ‘প্রমাণিত’ হয়েছে। এ কারণে তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে জামায়াত।
জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মতামতও মিলছে।
সংবিধানের ৬৬(২), ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬ (২) ও ৭০ দফার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংবিধানের ৬৬(২) ধারা অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কেউ সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।
অন্যদিকে সংবিধানের ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
তবে কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তার ক্ষেত্রে কী হবে, সেটি সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। আর সেটি নিয়েই তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা। কারণ কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি সংবিধানে না থাকায় দল থেকে বহিষ্কার করলেই কারও সংসদীয় আসন শূন্য হবে না। এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত হলো— কোনো ব্যক্তি দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর দল বহিষ্কার করলে তার পক্ষে আর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে থাকার সুযোগ নেই।
জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘যে ঘটনাপ্রবাহ, তাতে সংসদ সদস্যপদ না থাকার কারণ নেই। তবে সেই পরিস্থিতির উদ্ভব হতেও পারে, সে জন্য পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যপদ যাওয়ার ক্ষেত্রে একজন এমপিকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে হবে। জামায়াত তাদে দল থেকে বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্যপদ যাবে না। তবে দল থেকে বহিষ্কার করায় দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করলে বা দলীয় কমিটি থেকে বাদ দিলে তার পক্ষে সংসদ সদস্য থাকাটা এমনিতেই কঠিন। সেক্ষেত্রে তিনি অনেকটা সামাজিক বয়কটের শিকার হবেন এবং এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।’
সংবিধানের ৬৬(২) ধারায় নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন, ফৌজদারি আইনের বিচারে যদি তার সাজা হয় তাহলে সংসদ সদস্যপদ যেতে পারে। এখানে ফৌজদারি অপরাধের কিছু উপকরণ আছে। যদি মেয়েটিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয় এবং মেয়েটি যদি অভিযোগ করে, তাহলে তা অপরাধ। আবার বিয়ে হয়েছে কি না, বিয়ের বয়স হয়েছে কি না, ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে হয়েছে কি না— এমন অনেকগুলো বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
‘তাই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে যায়, তার ওপর সংসদ সদস্যপদ থাকা বা না থাকা নির্ভর করে। তবে ঘটনার যে বিস্তার ও সমালোচনা, তাতে একজন ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের জন্য বিষয়টি হজম করা কঠিন,’— বলেন শাহদীন মালিক।
তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ভিন্নমত পোষণ করছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের পদটি শূন্য হবে। কারণ, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ও এমপি হওয়ার যে যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তা ছিল দলীয় প্রার্থী হিসেবে এবং দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। দল যখন তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে, তখন সংসদ সদস্য হিসেবে পদে থাকার যোগ্যতাও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন, অর্থাৎ তিনি আর এই পদের জন্য যোগ্য নন।’
এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হলো— সংবিধান অনুযায়ী দল থেকে লিখিতভাবে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। পরে নির্বাচন কমিশন সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করবে।’
৬৬(২) ও ৭০ ধারা অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন তা শুনানি ও নিষ্পত্তি করবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সংবিধানে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসি এখনো কোনো নোটিশ পায়নি। নোটিশ পেলে কমিশন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া এবং কোনো সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলন নিয়ে অন্তত তিনটি নজির রয়েছে গত দুই দশকেই। এসব ঘটনা থেকেও গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনই নেই।
এর আগে ২০০৫ সালে স্থানীয় এক মন্ত্রীকে জঙ্গিদের মদতদাতা আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলে অষ্টম জাতীয় সংসদের দলীয় সংসদ সদস্য আবু হেনাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। ওই সময়ও প্রশ্ন ওঠে, আবু হেনা সংসদ সদস্য থাকতে পারেন কি না।
ওই সময়কার স্পিকার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আবু হেনা দল থেকে পদত্যাগ করেননি এবং সংসদে দলের বিপক্ষেও ভোট দেননি। ফলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কোনো আইনি সুযোগ ছিল না। দল থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন এবং অষ্টম সংসদের মেয়াদও পূর্ণ করেন।
এদিকে ২০১৪ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা, দলের সভাপতিমণ্ডলী ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অপসারণের পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ)। দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুপারিশ করে স্পিকারের কাছে চিঠিও দেয় দলটি।
স্পিকার বিষয়টি তখন নির্বাচন কমিশনে পাঠান। কমিশনের শুনানিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তিনি আর দলটির সদস্য নন, তাই সংসদ সদস্য হিসেবে থাকার আইনি অধিকার তার নেই।
ওই সময় লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট সে আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হন। আপিল বিভাগও সে আবেদন খারিজ করেন। এর মধ্যে ইসির শুনানি লতিফ সিদ্দিকী স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফলে ইসিকে নিজে থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হয়নি।
সবশেষ এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথোপকথনে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় ২০২১ সালে মুরাদ হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। ওই রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, মুরাদ হাসান এমপি থাকবেন কি না, এ সিদ্ধান্ত নেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে বলেও জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তার সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না।
এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। কেউ বলছেন, দল থেকে বহিষ্কার করার ফলে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে কেউ বলছেন, সংবিধানে সংসদ সদস্যপদে থাকার যোগ্যতা হারানোর বিষয়ে যেসব অনুচ্ছেদ রয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার কোনোটিই লঙ্ঘিত হয়নি। ফলে তার সংসদ সদস্য পদে থাকতে বাধা নেই।
তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত— যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাতে নৈতিকভাবে তার পক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, তারা জামায়াত থেকে নোটিশ পেলে তারপর ‘আইন অনুযায়ী’ ব্যবস্থা নেবে। তবে এ বিষয়ে আইন কী বলছে, সেটি স্পষ্ট করে বলেনি ইসি।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গাজী নজরুল ইসলাম উঠে আসেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ ঘটনায় দেশ জুড়ে কড়া সমালোচনা শুরু হয়।
গাজী নজরুল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, রাজধানীর মগবাজারে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বাবার অফিসে তাকে ‘জিম্মি’ করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপর উদ্দেশ্যপ্রাণোদিতভাবে তাদের (তরুণী ও গাজী নজরুল ইসলাম) ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘ঘনিষ্ঠ’ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
‘অন্তরঙ্গ মুহূর্তে’র ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অ্যাক্টিভিস্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তবে দেশের একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায়, ভিডিওটি এআই-জেনারেটেড নয়।
পরে গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একই তরুণীকে নিয়ে একটি কক্ষে অবস্থান করার সময় স্থানীয় কয়েকজনের মুখোমুখি হতে দেখা যায় গাজী নজরুল ইসলামকে। সে ভিডিও-ও এরই মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ভিডিওতে স্থানীয়রা গাজী নজরুলকে প্রশ্ন করছিলেন, ‘এই মুরুব্বি, আপনারা কয়দিন আসছেন এখানে? সত্যি করে বলবেন।’ জবাবে গাজী নজরুল বলেন, ‘আমরা তো এই মাত্র ঢুকছি। এই একবারই, বিশ্বাস করেন।’
এরপর আরেকজন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি একজন জামায়াত (নেতা) হয়ে কীভাবে কাজটা করলেন মেয়ে লোক নিয়া?’ জবাবে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘না না… আমরা তো এমনিতেই... ঢুকছিই আধা ঘণ্টা হইল।’
এদিকে গাজী নজরুল ফেসবুক পেজে আরও দাবি করেন, তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে গত ১৭ জুন ভিডিওতে দেখতে পাওয়া তরুণীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়েছে। তবে এ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তরুণীর একটি বায়োডাটা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ২২ জুন তারিখে গাজী নজরুলের সইয়ের ওপর সবুজ কালিতে হাতে লেখা রয়েছে— ‘জোর সুপারিশ করছি।’ ওই বায়োডাটায় তরুণীটি অবিবাহিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভিডিও ধারণের সময় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। গাজী নজরুল ইসলাম ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করলেও ফুটেজে দৃশ্যমান টাইমস্ট্যাম্পে ধারণের তারিখ দেখা গেছে ‘২০২৩ সালের ১ জুলাই’।
গাজী নজরুলের ভিডিও ভাইরাল হলে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনাটি তাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর ও প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলের সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরে বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের তথ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলন ‘প্রমাণিত’ হয়েছে। এ কারণে তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে জামায়াত।
জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন মতামতও মিলছে।
সংবিধানের ৬৬(২), ৬৭ ও ৭০ অনুচ্ছেদে কোনো সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬৬ (২) ও ৭০ দফার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংবিধানের ৬৬(২) ধারা অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কেউ সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।
অন্যদিকে সংবিধানের ৭০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।
তবে কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তার ক্ষেত্রে কী হবে, সেটি সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। আর সেটি নিয়েই তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা। কারণ কেউ কেউ বলছেন, বিষয়টি সংবিধানে না থাকায় দল থেকে বহিষ্কার করলেই কারও সংসদীয় আসন শূন্য হবে না। এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত হলো— কোনো ব্যক্তি দল থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর দল বহিষ্কার করলে তার পক্ষে আর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে থাকার সুযোগ নেই।
জানতে চাইলে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘যে ঘটনাপ্রবাহ, তাতে সংসদ সদস্যপদ না থাকার কারণ নেই। তবে সেই পরিস্থিতির উদ্ভব হতেও পারে, সে জন্য পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যপদ যাওয়ার ক্ষেত্রে একজন এমপিকে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে হবে। জামায়াত তাদে দল থেকে বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্যপদ যাবে না। তবে দল থেকে বহিষ্কার করায় দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করলে বা দলীয় কমিটি থেকে বাদ দিলে তার পক্ষে সংসদ সদস্য থাকাটা এমনিতেই কঠিন। সেক্ষেত্রে তিনি অনেকটা সামাজিক বয়কটের শিকার হবেন এবং এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।’
সংবিধানের ৬৬(২) ধারায় নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন, ফৌজদারি আইনের বিচারে যদি তার সাজা হয় তাহলে সংসদ সদস্যপদ যেতে পারে। এখানে ফৌজদারি অপরাধের কিছু উপকরণ আছে। যদি মেয়েটিকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয় এবং মেয়েটি যদি অভিযোগ করে, তাহলে তা অপরাধ। আবার বিয়ে হয়েছে কি না, বিয়ের বয়স হয়েছে কি না, ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে হয়েছে কি না— এমন অনেকগুলো বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।
‘তাই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে যায়, তার ওপর সংসদ সদস্যপদ থাকা বা না থাকা নির্ভর করে। তবে ঘটনার যে বিস্তার ও সমালোচনা, তাতে একজন ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের জন্য বিষয়টি হজম করা কঠিন,’— বলেন শাহদীন মালিক।
তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ভিন্নমত পোষণ করছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্যের পদটি শূন্য হবে। কারণ, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ও এমপি হওয়ার যে যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন, তা ছিল দলীয় প্রার্থী হিসেবে এবং দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে। দল যখন তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে, তখন সংসদ সদস্য হিসেবে পদে থাকার যোগ্যতাও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন, অর্থাৎ তিনি আর এই পদের জন্য যোগ্য নন।’
এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হলো— সংবিধান অনুযায়ী দল থেকে লিখিতভাবে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। পরে নির্বাচন কমিশন সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করবে।’
৬৬(২) ও ৭০ ধারা অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না, তা নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে নির্বাচন কমিশন তা শুনানি ও নিষ্পত্তি করবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে সংবিধানে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইসি এখনো কোনো নোটিশ পায়নি। নোটিশ পেলে কমিশন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া এবং কোনো সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলন নিয়ে অন্তত তিনটি নজির রয়েছে গত দুই দশকেই। এসব ঘটনা থেকেও গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনই নেই।
এর আগে ২০০৫ সালে স্থানীয় এক মন্ত্রীকে জঙ্গিদের মদতদাতা আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলে অষ্টম জাতীয় সংসদের দলীয় সংসদ সদস্য আবু হেনাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। ওই সময়ও প্রশ্ন ওঠে, আবু হেনা সংসদ সদস্য থাকতে পারেন কি না।
ওই সময়কার স্পিকার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আবু হেনা দল থেকে পদত্যাগ করেননি এবং সংসদে দলের বিপক্ষেও ভোট দেননি। ফলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কোনো আইনি সুযোগ ছিল না। দল থেকে বহিষ্কার হলেও তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন এবং অষ্টম সংসদের মেয়াদও পূর্ণ করেন।
এদিকে ২০১৪ সালে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা, দলের সভাপতিমণ্ডলী ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অপসারণের পাশাপাশি চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ)। দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের সুপারিশ করে স্পিকারের কাছে চিঠিও দেয় দলটি।
স্পিকার বিষয়টি তখন নির্বাচন কমিশনে পাঠান। কমিশনের শুনানিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তিনি আর দলটির সদস্য নন, তাই সংসদ সদস্য হিসেবে থাকার আইনি অধিকার তার নেই।
ওই সময় লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট সে আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হন। আপিল বিভাগও সে আবেদন খারিজ করেন। এর মধ্যে ইসির শুনানি লতিফ সিদ্দিকী স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ফলে ইসিকে নিজে থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হয়নি।
সবশেষ এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথোপকথনে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ায় ২০২১ সালে মুরাদ হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তিনি পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। ওই রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেন, মুরাদ হাসান এমপি থাকবেন কি না, এ সিদ্ধান্ত নেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, বিষয়টি দলের নজরে রয়েছে এবং তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
তারেক রহমান বলেন, আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। কেন কাউকে সরিয়ে দেবো? আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। কেউ একজন বলেছেন, এটা ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না। কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয়, গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম, আমরা ইনশাল্লাহ এক
২ দিন আগে
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বৈঠক শুরুর আগে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী জনশক্তি পার্টির নেতা শেখ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের যমুনায় হাজির হন।
২ দিন আগে
রাশেদ খাঁনকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান
৩ দিন আগে