দুয়েকটি অঘটনে গোটা ওলামা সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়: জামায়াত আমির
-5a0fee-480x270.webp)
দুয়েকটি অঘটনের কারণে গোটা ওলামা সমাজকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সাদা কাপড়ে দাগ বেশি লাগে। যাদের চরিত্র কালো, ওখান থেকে কিছুই খুঁজে পাবেন না। কিন্তু যার চরিত্র ভালো, ওখানে একটু হালকা দাগ লাগলে দেখা যাবে।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিন আয়োজিত ‘জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে ২০২৬’ এ কথা বলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা।
অনুষ্ঠানে সমবেতদের নিজেদের চরিত্রের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। বলেন, ‘দুয়েকটি অঘটনের কারণে গোটা ওলামা সমাজকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, মাদরাসার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।’
তিনি বলেন, দেশে কওমি ও আলিয়া— দুই ধরনের মাদরাসা রয়েছে। ব্যক্তিগত আত্মপর্যালোচনার পাশাপাশি মাদরাসা, খানকা, মারকাজ, আলিয়া ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতাও চিহ্নিত করতে হবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি আছে— এ ধরনের যুক্তি দিয়ে মাদরাসার ত্রুটি আড়াল করা যাবে না। কারণ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের নামে পরিচালিত হয় না। অন্যদিকে মাদরাসার মূল ধারণাই ইসলামকে কেন্দ্র করে। তাই মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সতর্ক থাকতে হবে।’
‘তাফসিরের চেয়ারে বসার আগে কোন কথাটা বললে আপনার আমলের সাথে মিল থাকবে— এটা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমন কোনো কথা বলা যাবে না— ভালো হলেও না— যে আমল আপনি করেন না। আগে আপনাকে আমল করতে হবে, তারপরে আপনার অধিকার বর্তাবে আরেকজনকে ডাকা,’ যোগ করেন তিনি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রিয় জন্মভূমি মোটেই ভালো নেই। মানুষ বড় কষ্টে। শুধু খাওয়া-পরার দিক থেকে না, ইজ্জতের নিরাপত্তা, জীবনের নিরাপত্তার দিক থেকেও মানুষ কষ্টে। কে কখন কোথায় হারিয়ে যাবে, কাকে অপমান করা হবে তার কোনো ঠিকানা নেই।’ তিনি আলেমদের জাতিকে পথ দেখানোর ‘রাহাবারের’ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয় এমন একটি আইন পাস করা হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানেও দায় এবং দরদ দুইটা নিয়ে আপনারা কথা বলবেন। মানুষ তো, মানুষ তো ভুল করতেই পারে, সামষ্টিকভাবেও ভুল করতে পারে, এককভাবেও করতে পারে। আপনারা সংশোধনের আশায় সমালোচনাটা করবেন।’

















-54d74f-256x144.webp)
