স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও শোষণ-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে পারিনি: মাসুদ সাঈদী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮: ৪৭
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‎বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রম করলেও আমরা আজও সেই কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারিনি। যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং সর্বশেষ ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে আরেকটি সফল গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে অতীতের সরকারগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ কারণেই হাজার হাজার শহীদের তাজা প্রাণের বিনিময়ে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা আয়োজিত বিজয় র‍্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, প্রতিটি আন্দোলন ও অভ্যুত্থানে যারা নিজেদের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের একটিই চাওয়া ছিল আর তা হলো পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, একটি মর্যাদাশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

মুক্তিযুদ্ধের ‎চেতনার কথা বলে চেতনার ব্যবসা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‎আমরা একটি শোষণ-বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে চাই। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যারা কেবল মুখে মুখে স্বাধীনতার চেতনার কথা বলেন, তারা সেই চেতনাকে অন্তরে ধারণ করেন না। যারাই তথাকথিত চেতনার কথা বলেন, তাদের অনেকেই দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, ডাকাত ও সন্ত্রাসী। তারা চেতনার কথা বলে দুর্নীতি করে দেশ থেকে হাজার, লক্ষ, লোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন, তারা চেতনার কথা বলে দেশ শাসনের নামে শোষণ করেছেন, তারা দুর্নীতিতে বাংলাদেশকে চাম্পিয়ন বানিয়েছেন। তারা খুন, গুম, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণ করে দেশের মানুষের ওপর জুলুম করেছেন। তারা মূলত দেশপ্রেমিক নন, তারা চেতনা ব্যবসায়ী।

তিনি আরও বলেন, ‎আমরা স্বাধীনতার চেতনাকে শুধু কথায় নয়, অন্তরে ধারণ করি। প্রকৃত দেশপ্রেম মানে সততা, ন্যায় ও জবাবদিহিতা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেশের কোনো থানায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা টেন্ডারবাজির মামলা নেই। এটাই প্রমাণ করে প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনা কী এবং প্রকৃত দেশপ্রেম কাকে বলে। ‎আজ যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন প্রকৃত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মুক্তিযুদ্ধের যোদ্ধারা ও জুলাই যোদ্ধারা এই দেশের সূর্যসন্তান। তাদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন যোদ্ধা তৈরি হবে না।

‎শরীফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, হাদির ওপর হামলা কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এর বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন ফরিদ। ‎সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটাররি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম, পিরোজপুর পৌর আমির ইসহাক আলী খান, ‎পিরোজপুর সদর উপজেলা আমির মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি মো. ইমরান হোসেন।

বিজয় ‎সমাবেশের পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি পিরোজপুরের ‍সিও অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন ক্লাব রোডে এসে শেষ হয়।

এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত প্যারেড ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠানে যোগ দেন মাসুদ সাঈদী। পরে বিকেলে জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা একাদশ ও উপজেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’, প্রতিহতের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিভিন্ন গোষ্ঠী ‘আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে’ উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সবসময় সবকিছু সোজা পথে পাই না। আজকে আবার বিভিন্নভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা বিভিন্নভাবে সমস্যা তৈরি করছেন, আইনশৃঙ্খলা পর

৪ দিন আগে

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন— জবাবে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সাংবাদিকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ও হাস্যরসের জন্ম দেয়।

৪ দিন আগে

‘জিয়াউর রহমান আর ১০ বছর বাঁচলে বাংলাদেশ অনন্য দেশ হতো’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি রাষ্ট্রকে টেনে তুলেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তার। তিনি আরও ১০ বছর বেঁচে থাকলে আজকে বাংলাদেশ একটি অনন্য দেশ হিসেবে গড়ে উঠতো এবং সমাজে এতো নেতিবাচকতা তৈরি হতো না

৬ দিন আগে

সরকার স্বস্তি দিতে চায়, বিরোধীদল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাজেটের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে চাইলেও বিরোধীদল তা মানছে না; তবে ভোটের কালি শুকানোর আগেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

৮ দিন আগে