‘সিনসিয়ার’ হলে মির্জা ফখরুল নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন: জামায়াত

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৩৯
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে জামায়াতে ইসলামী। ছবি: ভিডিও থেকে

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে সব বিষয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। মির্জা ফখরুল ‘সিনসিয়ার’ হলে নিজেকে সেই নিরপেক্ষ জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন বলেও মনে করছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন, শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উনার একটা পবিত্র দায়িত্ব— নিজেকে নিরপেক্ষ জায়গায় নিয়ে যাওয়া। এটা সহজ হবে না। কিন্তু আমি মনে করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের মতো লোক যদি সিনসিয়ার হন, সিরিয়াস হন, তাইলে এটা উনার পক্ষে সম্ভব হবে।’

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল নিয়েই জামায়াত এই ব্রিফিং করে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির কাছে জামায়াতের প্রত্যাশা কী— এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা তো জনগণের প্রত্যাশা। এ দেশের জনগণ কী চায়? জনগণ চায় একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। প্রত্যেকে অবাধভাবে ভোট দিতে পারবে— সে রকম একটা পরিবেশের নির্বাচন।’

‘সে জন্য আমরা প্রত্যাশা করি, উনি এখন থেকে কোনো দলকে প্রতিনিধিত্ব করবেন না। উনি নিরপেক্ষ থাকবেন এবং নির্বাচনও নিরপেক্ষ হবে— এই ভূমিকা উনি নেবেন। না হলে উনি জাতির কাছে বিতর্কিত হবেন,’— বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির।

ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের ফল তুলে ধরে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সরকারি দলের একজন ক্যান্ডিডেট ছিলেন এবং আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও একজন ক্যান্ডিডেট দিয়েছি। আজকে তার ওপর নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, কম ভোট পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত। আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা উনাকে (মির্জা ফখরুল) অভিনন্দন জানাই। যেহেতু নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, উনি সকলের প্রেসিডেন্ট। আমরা আশা করি, উনি প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ করার পর থেকে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত হবেন এবং উনি কোনো দলের পক্ষে কাজ করবেন না। উনি দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবেন। এটা জনগণের প্রত্যাশা প্রেসিডেন্টের কাছে এবং এটা আমাদেরও প্রত্যাশা।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাররা (সংসদ সদস্য) নিজেদের পছন্দে ভোট দিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন সৈয়দ তাহের। জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য আন্দোলন করে যাবে বলেও জানান তিনি।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আজকের নির্বাচনে এমপিদের দলের বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। আমরা যে জুলাই সনদ তৈরি করেছি, সেখানে প্রস্তাব ছিল যে শুধুমাত্র অনাস্থা প্রস্তাব ও বাজেট ছাড়া আর সব বিষয়ে যেকোনো এমপি স্বাধীনভাবে তার মতামত পেশ করতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত যেহেতু জুলাই সনদটি পার্লামেন্টে পাস হয়নি, সে কারণে এই ৭০ অনুচ্ছেদও সংশোধন হয়নি।

‘সে কারণেই যারা ভিন্নমত পোষণ করে, তাদের ভোট দেওয়ার সেই সুযোগটা আমরা দিতে পারিনি, এ জন্য আমরা দুঃখিত। কারণ গণতন্ত্র চর্চার জন্য এমপিদের স্বাধীন মতামত দেওয়ার এই সুযোগ থাকা অত্যন্ত দরকার। আমরা এ নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছি। আমরা এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য মাঠে আছি এবং এরই মধ্যে একটি লং মার্চ কর্মসূচিও ঘোষণা হয়েছে,’— বলেন জামায়াত নেতা তাহের।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও অংশগ্রহণের দুটি কারণ তুলে ধরেন সংসদের বিরোধী দলীয় এই উপনেতা। প্রথমত, দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা থাকা উচিত এবং এসব চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে— এটা তারা আশা করেন। দ্বিতীয়ত, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রত্যেকের যেন তার নিজস্ব মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকে, সে ব্যাপারে তারা সরকারি দলকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। সেটি হলে গণতন্ত্র আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে বলে তারা আশা করেন।

তাহের বলেন, আমরা এটা জানতাম যে আমাদের বিজয়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। তারপরও আমরা নির্বাচন করেছি এ জন্য যে, গণতন্ত্রের চর্চাটা যেন ভালো হয়। দ্বিতীয় কারণ হলো— আমাদের বিপুলসংখ্যক (হিউজ নম্বর) বিরোধী দলের সদস্য ছিল। সুতরাং সেখানেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো সুযোগ যেহেতু আছে, সে জন্য আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষভাবে, দক্ষতার সঙ্গে ও দেশপ্রেম নিয়ে ভূমিকা পালন করবেন বলে আশাবাদ জানান এই জামায়াত নেতা। সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সেখানে ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদ জানান তিনি। বলেন, আমরা আশা করি, সময়ের ব্যবধানে সরকারি দলের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং জনগণের কল্যাণে যা যা প্রয়োজন, এই সংসদে তারা সেসব আইন নিয়ে আসবে এবং তাতে আমাদেরও সমর্থন থাকবে।

সংসদে ১১ দলীয় জোটের ৯০ ভোটের মধ্যে ৮৮টি ভোট পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমাদের একজন (সংসদ সদস্য) বিদেশে আছেন, উনি আসতে পারেননি। আরেকজনকে (গাজী নজরুল ইসলাম) একটি বিশেষ কারণে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করেছি। সুতরাং সেই হিসাব করলে আমাদের প্রায় শতভাগ উপস্থিতি (প্রেজেন্স) আছে।

পূর্ব নির্ধারিত ফলাফলের একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকারের যে খরচ হয়েছে, সেটাকে জামায়াত সমর্থন করে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এখানে খুব বেশি কিছু খরচ হওয়ার মতো নাই। যেটা হয়েছে, সেটা ‘নেগ্লিজিবল’। তাছাড়া গণতন্ত্র চর্চা করতে গেলে কোনো কর্মসূচির জন্য যদি টাকা খরচ হয়, এ টাকা তো আমাদের খরচ করতেই হবে। কারণ আমরা জাতীয় নির্বাচনে তো কোটি কোটি টাকা, শত কোটি টাকা (খরচ করি)। সুতরাং আমি মনে করি এগুলো কোনো মেজর ইস্যু না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল কি না— জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনে যেমন কিছুটা কারচুপির পক্ষে ভূমিকা নিয়েছিলেন, এখানে তেমন হয়েছে বলে মনে হয় না।’ কিছুটা হেসে তিনি বলেন, ‘সুযোগই পায়নি!’

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনেও আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদ, কী বলছে সরকার ও বিরোধী দল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের চেয়ে ১৬৭ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। এই নির্বাচনের দিনেও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ।

৩ ঘণ্টা আগে

২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, অলি পেলেন ৮৮

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

৩ ঘণ্টা আগে

রাজনৈতিক ঐকমত্যে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবি নুরের

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

৪ ঘণ্টা আগে

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন নতুন রাষ্ট্রপতি

শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।

৫ ঘণ্টা আগে