গণমাধ্যমে সহিংসতার দায়— নূরুল কবীরের বক্তব্যের নিন্দা জামায়াতের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ২৮
নূরুল কবীর ও জামায়াতে ইসলামীর লোগো।

‘ওসমান হাদির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ওসমান হাদির নামে তারই চিন্তাচেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে পত্রপত্রিকা অফিসগুলোতে সহিংসতা করছে’— বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের এমন মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।

দলটি বলছে, নূরুল কবীরের এ অভিযোগ অসত্য। জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না, ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবে না।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে সই করেছেন।

এর আগে রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ‘মুক্তবাক’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নূরুল কবির। সেখানে আলোচনায় তিনি ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ঘিরে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচী ভবনে হামলায় জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।

ওসমান হাদির রাজনীতির কথা তুলে ধরে নিউ এজ সম্পাদক বলেন, ‘ওসমান হাদি মনে করেছিলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে ধরনের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা জারি আছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা (উপদেষ্টা পরিষদ) কাজ করছে, সেগুলো (তার নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য) যথেষ্ট নয়। তার (এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের) জন্য একটি নৈর্বাচনিক উৎক্রমণ (ট্রানজিশন) প্রয়োজন, অর্থাৎ নির্বাচনকে জরুরি মনে করেছেন বলেই তিনি নিজেও নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন।’

‘অথচ তার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ওসমান হাদির নামে ওসমান হাদির চিন্তাচেতনার বিরুদ্ধে গিয়ে পত্রপত্রিকা অফিসগুলোতে সহিংসতা করছে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রগতিশীল চিন্তাচেতনা, গণতন্ত্রপরায়ণ চিন্তাচেতনার পক্ষে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের ওপর আক্রমণ করছে। এবং সবচেয়ে বড় কথা, তারা বলছে যে নির্বাচন প্রয়োজন নাই,’— বলেন নূরুল কবীর।

প্রথিতযশা এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বন্ধুদের কেন নির্বাচন প্রয়োজন নেই, আমরা জানি। একই সঙ্গে জানি, অধ্যাপক ইউনূসের সরকারের মধ্যে এখনো জোর করে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করে রাষ্ট্রক্ষমতা উপভোগ করার যে আনন্দ, সেটি পাওয়ার জন্য (অনেকে বসে আছে)। জামায়াতে ইসলামী যতই ওপরে ওপরে বলুক না কেন যে তারা ক্ষমতায় যাবে, তাদের অ্যাসেসমেন্ট আছে যে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। ফলে তাদের প্রস্তুতির জন্য আরও সময় দরকার।’

নূরুল কবীরের দেওয়া এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামী বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির নাম ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী বুদ্ধিবৃত্তিক মহল পত্রিকা অফিসে সহিংসতা চালাচ্ছে’— তার এমন অভিযোগ অসত্য ও অন্যায্য। জামায়াতে ইসলামী কখনোই এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করতে চায়’— নূরুল কবিরের এ মন্তব্যও বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি বিহীন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানই সর্বপ্রথম আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

জামায়াতের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, নূরুল কবির ইসলামপ্রিয় মানুষকে ‘ইসলাম রক্ষার’ নামে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, আমরা মনে করি এটি গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থি। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন তৈরি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ও কাম্য নয়।

এতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ‘বেহেশতে যাওয়া না যাওয়ার’ সঙ্গে দলকে ভোট দেওয়ার বিষয়টি সম্পৃক্ত করে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, সে অভিযোগও সত্য নয়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কখনো এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

‘এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মোনাফেকি করে আসছে এবং এটি দলের বিকাশের অংশ’— এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে তার মতো একজন প্রবীণ সাংবাদিকের জন্য শোভনীয় নয় বলে জামায়াতে ইসলামী মনে করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যে কারণে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিয়েছে বিএনপি

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, অন্যান্য রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করার কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে তার ক্লিন ইমেজ আর রাজনীতিবিদ হিসেবে দীর্ঘ অবদানের বিষয়টি, তেমনি রয়েছে কৌশলগত দিকও।

১৯ ঘণ্টা আগে

মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ, বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে?

ফখরুলের বিদায়ে বিএনপির মহাসচিবের পদটি শূন্য হচ্ছে। এখন প্রশ্ন, তার জায়গায় কে আসছেন? আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তও হয়নি। তবে দলের গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

১৯ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দিল বিএনপি

‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সই, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, সই সম্বলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতার।

২০ ঘণ্টা আগে

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়ে মন্ত্রিত্ব ও দলের পদ ছাড়লেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দলের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

২১ ঘণ্টা আগে