প্রস্তাবিত বাজেট কথার ফুলঝুড়ি, রাজনৈতিক চমকবাজি: জাসদ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাসদ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কথার ফুলঝুড়ি’ ও ‘রাজনৈতিক চমকবাজি’ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)।

প্রস্তাবিত এ বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটি বলছে, বজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এই বিশালাকৃতির বাজেট অবাস্তব এবং কোনোভাবেই অর্জনযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এক বিবৃতিতে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি বাজেট নিয়ে এমন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

জাসদের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় দেশে ২০২৪ সালে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো হয়। এর মাধ্যমে মবের শাসন চালু হলে তা দেশের রাষ্ট্র-প্রশাসন ও রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজে গভীর ও সর্বগ্রাসী সংকট তৈরি করে।

জাসদ বলছে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও তার মাধ্যমে গঠিত সংসদ ও সরকার সেই গভীর সংকট থেকে জাতিকে পুনরুদ্ধারে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করতে পারেনি। বরং বিএনপি সরকার আগের মতোই মবের শাসন, মগের মুল্লুকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনতে পরেনি।

আইনের শাসন ও সুশাসনের অনুপস্থিতির কারণে দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করার বদলে তাদের পুরাতন শিল্প-কল-কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে জাসদ। এতে বলা হয়েছে, রপ্তানি ও আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায় মারাত্মকভাবে কমেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে রাজস্ব প্রশাসনও বিপর্যস্ত হয়েছে। সেই বিপর্যস্ত প্রশাসন দিয়ে প্রাক্কলিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র।

জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাজেট শুধু অঙ্ক ও পরিসংখ্যানের বিষয় না, বাজেটের পেছনে রাজনৈতিক দর্শন থাকে। ‘বাজেট কল্যাণরাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করবে’ বলে সরকার গালভরা বুলি দিয়েছে। ইউরোপীয় কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণার ভিত্তিই হচ্ছে উদার গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ, অন্তর্ভুক্তি সুশাসন, আইনের শাসন। অথচ ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যেই উদার গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র-সমাজ-রাজনীতি, সুশাসন ও আইনের শাসনকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। এখন সবাই স্বীকার করছে, ২০২৬ সালের একতরফা নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখে দেশে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি রেখে যে বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণের যে আশা করা হয়েছে, তা জাতীয় অর্থনীতিকে আত্মনির্ভরতার পথ থেকে আবার পরনির্ভরতা ও ঋণগ্রস্ততার দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করছে জাসদ। দলটি বলছে, দেশীয় ব্যাংকের ওপর সরকারি ঋণের চাপ ব্যাংকিং খাতকে রক্তশূন্য করে ফেলবে। ব্যাংকের রক্তশূন্যতা ও সংকুচিত অবস্থা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়ে দেবে।

জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০টি নিত্যপণ্যের উৎস কর কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাবে সরকারের নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সদিচ্ছা থাকলেও সিন্ডিকেট দমনে ব্যর্থতা এবং সুশাসন ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতি সরকারের এই সদিচ্ছাকে মূল্যহীন করে দেবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাজেট প্রস্তাবে বর্তমান মূল্যস্ফীতি হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করার যে ইচ্ছা প্রকাশিত হয়েছে, সেই ইচ্ছাও মার খাবে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত বাজারে নিত্যপণ্যের দামের অযৌক্তিক ও লাগামহীন উর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়া, সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ, নতুন টাকা ছাপানো এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণে।

জাসদ বলছে, বাজেটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটাও অবাস্তব। কারণ বিগত অর্থবছরের বাজেট নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৫ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাগজ ও বৈদ্যুতিক মটর আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি শিক্ষা ব্যয় বাড়বে ও প্রকাশনা শিল্পে বড় আঘাত হানবে। তবে বাজেটে মোবাইল ফোনের উৎপাদন ও সংযোজন শিল্পে ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রাখা, মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনে ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানির ওপর কর কমিয়ে আনা; কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, টোনারের উপর শর্তসাপেক্ষ কর কমিয়ে আনা, মোবাইল সিমের উপর ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে দলটি।

সরকারকে ‘আকাশে না উড়ে মাটিতে নেমে বাস্তববাদী হওয়া’র আহ্বান জানিয়ে জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৩ মাসের অদক্ষ, অযোগ্য ও মবের শাসনে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাজেট বাস্তবায়ন তো দূরের কথা সাধারণ স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, উৎপাদন বজায় রাখাই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে দাঁড়াবে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশ, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

৩ দিন আগে

‘সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা বাংলাদেশ-ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে’

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাভাষী মানুষদের বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক ‘পুশইনের’র চেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্র

৩ দিন আগে

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম হাসপাতালে ভর্তি

গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন।

৪ দিন আগে

ঢাবিকে ‘ফোকাস কোচিং সেন্টার’ বানানোর অপচেষ্টা করছে শিবির: রাশেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য শোনার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থীর আগ্রহ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কে কী উপহার দেবে বা খাবারের আয়োজন করবে, এমন সংস্কৃতিতে।

৬ দিন আগে