আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ— প্রজ্ঞাপন জারি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১২ মে ২০২৫, ১৮: ৫৫
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব ধরনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা-১৮(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব দল ও সংগঠন এবং এদের নেতাকর্মীদের বিচার হওয়ার আগ পর্যন্ত।

সোমবার (১২ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা-২ শাখা থেকে এ প্রজ্ঞাপন। এতে সই করেছেন সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।

প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ছয়টি কারণ দেখানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে—

২০০৯ সালে ৬ জানুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্য ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলা, গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন নিপীড়নমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে;

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে গুম, খুন, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, গণহত্যা, বেআইনি আটক, অমানবিক নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং এসব অভিযোগ দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে;

এসব অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের ফৌজদারি আদালতে বহুসংখ্যক মামলা বিচারাধীন;

এ সব মামলার বিচারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো, বাংলাদেশের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, উসকানিমূলক মিছিল আয়োজন, রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেট বিতরণ এবং ভিনদেশে পলাতক তাদের নেত্রীসহ অন্য নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরাধমূলক বক্তব্য প্রদান, ব্যক্তি ও প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের প্রচেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়েছে;

এ সব কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, দলটি এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মনে ভীতির সঞ্চার করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিচার বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে ও সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে;

সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাসহ জনমনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনের মতো বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে; এবং

সরকার যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করে যে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ‍বিরুদ্ধে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সমীচীন।

এসব কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগসহ এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ‍বিরুদ্ধে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব সংগঠনের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম-অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা কিংবা মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। ওই আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ নেতারাসহ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ গণহত্যায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এরই মধ্যে দলটির প্রধান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা জারির দিনই (সোমবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার মামলায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত দল।

৯ মাস ধরে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি থাকলেও গত বৃহস্পতিবার এ দাবিতে মাঠে নামেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও পরে শাহবাগ মোড়ে তারা এ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ আরও কিছু রাজনৈতিক দল ও সংগঠন সে কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত রাজপথে থাকতে আন্দোলনকারীদের ঘোষণার মধ্যে শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৈঠক শেষে রাত ১১টার দিকে সরকার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে জানায়, ওই বৈঠক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচারের আগ পর্যন্ত দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই বিবৃতিতেই জানানো হয়, দল হিসেবে যেন আওয়ামী লীগের বিচার করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনেও সংশোধনী আনা হচ্ছে। এর আগে ট্রাইব্যুনাল আইনে ব্যক্তির বিচারের বিধান থাকলেও কোনো দলকে বিচার করার বিধান ছিল না।

এদিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও কোনো দল বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ না করে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল না। রোববার (১১ মে) এই আইনেরও একটি সংশোধনী অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে। তাতে কেবল দল নিষিদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কোনো দলের বিরুদ্ধে সরকারকে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বীর হত্যার ঘটনায় মামলা

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৩-৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে এই মামলা করেন।

১৫ ঘণ্টা আগে

জকসুতেও ভিপি-জিএস-এজিএসের জয় শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ভিপি পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম পাঁচ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার পরিষদ-সমর্থিত প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন চার হাজার ৬৮৮ ভোট।

১ দিন আগে

জকসুর ৩৩ কেন্দ্রে শীর্ষ ৩ পদেই এগিয়ে শিবিরের প্যানেল

ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি পদে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম চার হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার পরিষদ-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন তিন হাজার ৭৭৭ ভোট। সে হিসাবে রাকিবের চেয়ে ৬৫৫ ভোটে এগিয়ে আছেন রিয়াজুল।

১ দিন আগে

হলফনামায় আয় নিয়ে ‘বিভ্রান্তি’, ব্যাখায় যা বললেন নাহিদ ইসলাম

বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যা

১ দিন আগে