
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জনগণের সরকার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি ‘অলিগার্কদের সরকার’ হয়ে গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সেই সরকারের পরিকল্পনাহীনতা ও জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্তহীনতা থেকেই দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের উৎপত্তি বলে মনে করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম জ্বালানি সংকট পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেছেন, এই সংকট নিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে যেসব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোও সত্য নয়। সংকট থেকে উত্তরণে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদ ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ১৫টি সুপারিশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্টে এসব নিয়ে লিখেছেন নাহিদ ইসলাম। পোস্টে বিএনপি নিজেই নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জ্বালানি খাতের চলমান সংকট সরকারেরই তৈরি অভিযোগ করে নাহিদ লিখেছেন, “বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল জনগণের সরকারের। বাস্তবে গড়ে উঠছে অলিগার্কদের সরকার। ইশতেহার ঘোষণার সময় বিএনপি বলেছিল, ‘লুটপাট নয়, উৎপাদন; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা।’ তাদের দাবি ছিল, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। ছয় মাস পরেই নিজের প্রতিশ্রুত চুক্তি ভেঙে সরকার ঠিক বিপরীত পথে হাঁটছে। প্রাথমিকভাবে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারিকরণের নামে অলিগার্ক বসাতে হীন উদ্যোগ নিয়েছে।’
বিএনপি নিজেই নিজের নির্বাচনি ইশতেহারের খেলাপ করছে অভিযোগ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল— বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল হবে। কারণ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এই দায়মুক্তির আড়ালেই কুইক রেন্টাল ও আইপিপির নামে ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছিল। বিএনপি তখন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অথচ বিএনপি এখন নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই মানছে না।’
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সরকারকে চিঠি দিলে সরকার তড়িঘড়ি করে নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে— গণমাধ্যমের এমন খবরের উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, “একটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নীতিমালার খসড়ার জন্য ‘চার দিন’ হচ্ছে বিএনপির সুসাশনের নমুনা!”
গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। এর ফলে বড় বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারবে না, দরদাতা সংকট তৈরি হবে, দাম বাড়বে এবং সিন্ডিকেটের দরজা খুলে যাবে বলে আশঙ্কা তার।
সারা দেশে লোডশেডিংয়ের চলমান পরিস্থিতি ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির সময়কার লোডশেডিংয়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন নাহিদ। লিখেছেন, ‘বিএনপি সরকারের সঙ্গে লোডশেডিং শব্দটি আবার সমার্থক হয়ে উঠছে। ... দুই দশক পরেও শিক্ষা নেয়নি বিএনপি।’
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো অর্থের জোগান নেই বলে সরকার দাবি করলেও দেশের রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখ করে সে দাবিকে অসত্য বলে অভিহিত করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। সরকারের পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করে লিখেছেন, ‘বাস্তবে ডলার আছে, নেই ক্রয়ের টাইমলি শিডিউল। সময়সূচিভিত্তিক ক্রয় পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী প্রথম কয়েকমাস জ্বালানি এসেছে। এরপর নিজেরা প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে ক্রয়প্রক্রিয়া সচল রাখেনি, বিপর্যয় শুরু সেখান থেকেই।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ক্রয় শিডিউলের অনুমোদন সময়মতো দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম এর পেছনেও ‘অলিগার্ক’দের তোষণনীতি দেখছেন নাহিদ। তার মতে, কৌশলটি এমন— “সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দাও → সংকট তৈরি হোক → বলো ‘সরকারি খাত পারছে না’ → বেসরকারি অলিগার্কের হাতে লাইসেন্স তুলে দাও।’
বিদ্যুৎ খাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ বিতরণেও একই কৌশল। ভুতুড়ে বিল ও জালিয়াতির অভিযোগ, তারপর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণের যুক্তি। পেছনে একটাই উদ্দেশ্য— কমিশন ও রেন্ট সিকিং।’
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে সরকারের পক্ষ থেকে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। একে ‘অজুহাত’ উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘সরকার দায় চাপাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ওপর। কিন্তু পিজিসিবির তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে এপ্রিল মাসেও লোডশেডিং পরিস্থিতি নাজুক ছিল।’
এপ্রিলে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪১ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা, জুলাইয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩২ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা ও চলতি আগস্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। বলেন, ‘অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগেই সংকট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ একমাত্র কারণ নয়।’
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগলে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় জাতীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ দুটি প্রশ্ন করেছেন, ‘এক— রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, তার স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি? প্রতিবেদন কোথায়? দুই— দেশের গ্যাস সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ যে দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, তার একটি বসে গেলে ১৫ দিন লাগল আংশিক পুনরুদ্ধারে, এই ডিজ্যাস্টার রিকভারি সক্ষমতা কি একটি রাষ্ট্রের জন্যগ্রহণযোগ্য?’
যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ জনস্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা, সেই সংস্থা ক্রমেই নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষক হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন নাহিদ ইসলাম। বেসরকারিভাবে আমদানি হওয়ায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম যেমন লাগামছাড়া, জ্বালানি আমদানির অনুমতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিলে ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলও একই পথে হাঁটবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।
যে ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থে নির্ধারিত হতো আর জনগণকে খেসারত দিতে হতো— জুলাই অভ্যুত্থান সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘শাসক বদলানোর জন্য নয়, মানুষ রক্ত দিয়েছে ব্যবস্থা বদলানোর জন্য। বাস্তবে আমরা দেখছি, বিএনপি সরকারের হাতে রাষ্ট্র এখন আর জনগণের প্রতিনিধি নয়, গুটিকয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপক। ফলে বিএনপির হাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান নাই। বিএনপির পরিকল্পনা ও পলিসিই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নতুন সমস্যা সূত্র।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথা আগামী ৩০ দিনে বাস্তবায়নের উপযোগী পাঁচটি প্রস্তাব হলো—
মধ্যমেয়াদ তথা ছয় থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। প্রস্তাবগুলো হলো—
এর বাইরে দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য রোডম্যাপ ও প্রান্তিকভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রাসহ চারটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ। প্রস্তাবগুলো হলো—
জ্বালানি খাতে যেকোনো ভুলের খেসারত দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষটিকেও দিতে হয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকারের মাফিয়া-অলিগার্কদের তোষণের নীতির বিরুদ্ধে তার দল এনসিপি রুখে দাঁড়াবে।
নাহিদ লিখেছেন, ‘সরকারের প্রথম দায় জনগণের প্রতি, কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতি নয়। এই সহজ কথাটি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ভুলে গিয়েছিল। বিএনপি সরকারও ভুলে যাওয়ার পথে। মাফিয়া তোষণের মূল্য বাংলাদেশ একবার দিয়েছে, আর নয়। এবারের ভুল, ব্যর্থতা ও অলিগার্ক তোষণের নীতি এনসিপি রুখে দাঁড়াবে।’

জনগণের সরকার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি ‘অলিগার্কদের সরকার’ হয়ে গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সেই সরকারের পরিকল্পনাহীনতা ও জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্তহীনতা থেকেই দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের উৎপত্তি বলে মনে করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম জ্বালানি সংকট পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেছেন, এই সংকট নিয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে যেসব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোও সত্য নয়। সংকট থেকে উত্তরণে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদ ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ১৫টি সুপারিশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক পোস্টে এসব নিয়ে লিখেছেন নাহিদ ইসলাম। পোস্টে বিএনপি নিজেই নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
জ্বালানি খাতের চলমান সংকট সরকারেরই তৈরি অভিযোগ করে নাহিদ লিখেছেন, “বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল জনগণের সরকারের। বাস্তবে গড়ে উঠছে অলিগার্কদের সরকার। ইশতেহার ঘোষণার সময় বিএনপি বলেছিল, ‘লুটপাট নয়, উৎপাদন; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা।’ তাদের দাবি ছিল, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। ছয় মাস পরেই নিজের প্রতিশ্রুত চুক্তি ভেঙে সরকার ঠিক বিপরীত পথে হাঁটছে। প্রাথমিকভাবে জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারিকরণের নামে অলিগার্ক বসাতে হীন উদ্যোগ নিয়েছে।’
বিএনপি নিজেই নিজের নির্বাচনি ইশতেহারের খেলাপ করছে অভিযোগ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল— বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইনসহ সব কালাকানুন বাতিল হবে। কারণ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এই দায়মুক্তির আড়ালেই কুইক রেন্টাল ও আইপিপির নামে ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছিল। বিএনপি তখন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অথচ বিএনপি এখন নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই মানছে না।’
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সরকারকে চিঠি দিলে সরকার তড়িঘড়ি করে নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে— গণমাধ্যমের এমন খবরের উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, “একটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নীতিমালার খসড়ার জন্য ‘চার দিন’ হচ্ছে বিএনপির সুসাশনের নমুনা!”
গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। এর ফলে বড় বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারবে না, দরদাতা সংকট তৈরি হবে, দাম বাড়বে এবং সিন্ডিকেটের দরজা খুলে যাবে বলে আশঙ্কা তার।
সারা দেশে লোডশেডিংয়ের চলমান পরিস্থিতি ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির সময়কার লোডশেডিংয়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন নাহিদ। লিখেছেন, ‘বিএনপি সরকারের সঙ্গে লোডশেডিং শব্দটি আবার সমার্থক হয়ে উঠছে। ... দুই দশক পরেও শিক্ষা নেয়নি বিএনপি।’
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো অর্থের জোগান নেই বলে সরকার দাবি করলেও দেশের রিজার্ভ ও রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখ করে সে দাবিকে অসত্য বলে অভিহিত করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক। সরকারের পরিকল্পনাহীনতাকে দায়ী করে লিখেছেন, ‘বাস্তবে ডলার আছে, নেই ক্রয়ের টাইমলি শিডিউল। সময়সূচিভিত্তিক ক্রয় পরিকল্পনা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী প্রথম কয়েকমাস জ্বালানি এসেছে। এরপর নিজেরা প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে ক্রয়প্রক্রিয়া সচল রাখেনি, বিপর্যয় শুরু সেখান থেকেই।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ক্রয় শিডিউলের অনুমোদন সময়মতো দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম এর পেছনেও ‘অলিগার্ক’দের তোষণনীতি দেখছেন নাহিদ। তার মতে, কৌশলটি এমন— “সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দাও → সংকট তৈরি হোক → বলো ‘সরকারি খাত পারছে না’ → বেসরকারি অলিগার্কের হাতে লাইসেন্স তুলে দাও।’
বিদ্যুৎ খাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ বিতরণেও একই কৌশল। ভুতুড়ে বিল ও জালিয়াতির অভিযোগ, তারপর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারিকরণের যুক্তি। পেছনে একটাই উদ্দেশ্য— কমিশন ও রেন্ট সিকিং।’
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে সরকারের পক্ষ থেকে ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। একে ‘অজুহাত’ উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘সরকার দায় চাপাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ওপর। কিন্তু পিজিসিবির তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে এপ্রিল মাসেও লোডশেডিং পরিস্থিতি নাজুক ছিল।’
এপ্রিলে দৈনিক সর্বোচ্চ ৪১ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা, জুলাইয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩২ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা ও চলতি আগস্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। বলেন, ‘অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগেই সংকট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ একমাত্র কারণ নয়।’
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগলে এলএনজি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় জাতীয় সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ দুটি প্রশ্ন করেছেন, ‘এক— রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, তার স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি? প্রতিবেদন কোথায়? দুই— দেশের গ্যাস সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ যে দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, তার একটি বসে গেলে ১৫ দিন লাগল আংশিক পুনরুদ্ধারে, এই ডিজ্যাস্টার রিকভারি সক্ষমতা কি একটি রাষ্ট্রের জন্যগ্রহণযোগ্য?’
যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ জনস্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা, সেই সংস্থা ক্রমেই নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষক হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন নাহিদ ইসলাম। বেসরকারিভাবে আমদানি হওয়ায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম যেমন লাগামছাড়া, জ্বালানি আমদানির অনুমতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিলে ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলও একই পথে হাঁটবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।
যে ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থে নির্ধারিত হতো আর জনগণকে খেসারত দিতে হতো— জুলাই অভ্যুত্থান সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল উল্লেখ করে নাহিদ লিখেছেন, ‘শাসক বদলানোর জন্য নয়, মানুষ রক্ত দিয়েছে ব্যবস্থা বদলানোর জন্য। বাস্তবে আমরা দেখছি, বিএনপি সরকারের হাতে রাষ্ট্র এখন আর জনগণের প্রতিনিধি নয়, গুটিকয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপক। ফলে বিএনপির হাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার কার্যকর কোনো সমাধান নাই। বিএনপির পরিকল্পনা ও পলিসিই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নতুন সমস্যা সূত্র।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথা আগামী ৩০ দিনে বাস্তবায়নের উপযোগী পাঁচটি প্রস্তাব হলো—
মধ্যমেয়াদ তথা ছয় থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ছয়টি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। প্রস্তাবগুলো হলো—
এর বাইরে দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য রোডম্যাপ ও প্রান্তিকভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রাসহ চারটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ। প্রস্তাবগুলো হলো—
জ্বালানি খাতে যেকোনো ভুলের খেসারত দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষটিকেও দিতে হয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকারের মাফিয়া-অলিগার্কদের তোষণের নীতির বিরুদ্ধে তার দল এনসিপি রুখে দাঁড়াবে।
নাহিদ লিখেছেন, ‘সরকারের প্রথম দায় জনগণের প্রতি, কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতি নয়। এই সহজ কথাটি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ভুলে গিয়েছিল। বিএনপি সরকারও ভুলে যাওয়ার পথে। মাফিয়া তোষণের মূল্য বাংলাদেশ একবার দিয়েছে, আর নয়। এবারের ভুল, ব্যর্থতা ও অলিগার্ক তোষণের নীতি এনসিপি রুখে দাঁড়াবে।’

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও দলের মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। বিএনপির বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও তাকেই রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্যতম ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
১ দিন আগে
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধান যেমন কিছুদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন, সেরকম সরকারি সফরে ‘র’ প্রধান এবার ঢাকায় এসেছেন। এটা দুই প্রতিবেশী দেশের স্বাভাবিক যোগাযোগের অংশ।’
১ দিন আগে
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
২ দিন আগে
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সোমবার (১০ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
২ দিন আগে