
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত জেনেও কেন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, জয়-পরাজয় নয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সামনে আনতেই তাদের জোট প্রার্থী দিয়েছে। একই সঙ্গে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে অলি আহমদের জন্য জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম নেওয়া হয়। এরপর নির্বাচন ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
এক সাংবাদিক জানতে চান, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত, এরপরও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিচ্ছে। জবাবে আযাদ বলেন, ‘এখানে জয়-পরাজয়টি বিষয় না; আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা… এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদা সম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ।’
তিনি বলেন, ‘এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর আটবারের মধ্যে সাতবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। কেবল ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে।
এ ছাড়া ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে আরেকজন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনও প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে পরে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল বলে মনে করেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘এবার হয়তো বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা তো নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল না। আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেইবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।’ এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা না থাকলেও জোটের মনোনয়ন সংগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপির রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতাটা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা, জনগণের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করে নাই।’
‘সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত। এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাদের ভোটাধিকার দিয়ে তার অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি,’ বলেন হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদের সদস্যরা কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে বা ‘ফ্লোর ক্রস’ করতে পারেন না। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি—
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
এই অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদেই পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ থাকছে না বলে অভিযোগ করেন অনেকে। সে কারণে সংবিধান থেকে ৭০ অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ার দাবিও বহু পুরনো।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক আযাদ বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলনটা ঘটত।’
নির্বাচনি ইশতেহারে ৭০ অনুচ্ছেদের আংশিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দলটির ইশতেহারে অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধনী বিল, আস্থা ভোট এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
আযাদ বলেন, ‘এ রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে যে বাধা, মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে— এটাকে আমরা উঠিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
‘এখানে সংসদ সদস্যগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী দিয়েছি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেত। তার প্যারালাল কোনো প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না,’ বলেন তিনি।
এর আগে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে জামায়াত জোটের এই প্রার্থী জয়ী হতেন বলেও মন্তব্য করেন আযাদ।
তিনি বলেন, ‘যদি সংস্কার হতো অলি সাহেব নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনাটা সমুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য। আমরা সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।’
এর আগে সোমবার বেলা ১১টার পর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যায়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা ও মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল।

রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত জেনেও কেন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, জয়-পরাজয় নয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সামনে আনতেই তাদের জোট প্রার্থী দিয়েছে। একই সঙ্গে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনি কর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে অলি আহমদের জন্য জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম নেওয়া হয়। এরপর নির্বাচন ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
এক সাংবাদিক জানতে চান, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত, এরপরও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিচ্ছে। জবাবে আযাদ বলেন, ‘এখানে জয়-পরাজয়টি বিষয় না; আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা… এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদা সম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ।’
তিনি বলেন, ‘এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সুস্থ ধারার রাজনীতিকে নিয়ে যেতে চাই। দেশকে পরিচালনা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর আটবারের মধ্যে সাতবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। কেবল ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে।
এ ছাড়া ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে আরেকজন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনও প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে পরে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাবনার জায়গা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল বলে মনে করেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘এবার হয়তো বলতে পারেন সেই সম্ভাবনাটা তো নেই। অর্থাৎ একানব্বইয়ে ভোটার সংখ্যার হিসাব-নিকাশে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল না। আমরা সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সেইবার সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে সব দল বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের প্রার্থী পরাজিত হতো। সেই সম্ভাবনা থেকে একানব্বইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা তৈরি হয়েছিল।’ এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা না থাকলেও জোটের মনোনয়ন সংগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপির রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতাটা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা, জনগণের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করে নাই।’
‘সেটা বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত। এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাদের ভোটাধিকার দিয়ে তার অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি,’ বলেন হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদের সদস্যরা কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে বা ‘ফ্লোর ক্রস’ করতে পারেন না। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি—
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
এই অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদেই পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ থাকছে না বলে অভিযোগ করেন অনেকে। সে কারণে সংবিধান থেকে ৭০ অনুচ্ছেদ বাদ দেওয়ার দাবিও বহু পুরনো।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক আযাদ বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলনটা ঘটত।’
নির্বাচনি ইশতেহারে ৭০ অনুচ্ছেদের আংশিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। তবে তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দলটির ইশতেহারে অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধনী বিল, আস্থা ভোট এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।
আযাদ বলেন, ‘এ রাষ্ট্রের ধাপে ধাপে যে বাধা, মানুষের অধিকার যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে— এটাকে আমরা উঠিয়ে দিতে চাই। এজন্য আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। সংসদেও বলেছি, সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
‘এখানে সংসদ সদস্যগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না। যদি ভোট দিতে পারতেন, আমাদের প্রার্থী দিয়েছি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধিরা একটা যোগ্য প্রার্থী এখানে পেত। তার প্যারালাল কোনো প্রার্থী তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসত না,’ বলেন তিনি।
এর আগে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে জামায়াত জোটের এই প্রার্থী জয়ী হতেন বলেও মন্তব্য করেন আযাদ।
তিনি বলেন, ‘যদি সংস্কার হতো অলি সাহেব নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনাটা সমুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য। আমরা সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।’
এর আগে সোমবার বেলা ১১টার পর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যায়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন, কামাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা ও মারজিয়া বেগম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়সাল।

রোববারের বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ঘিরে ধরেছিলেন সাংবাদিকরা। তারা বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে জানতে চান মন্ত্রীর কাছে। তবে খলিলুর রহমান বৈঠকের আলোচনা নিয়ে কিছু বলেননি। তিনিও কেবল জানিয়েছেন, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতীয় হাইকমিশনার। ওই বৈঠকের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে ব
২১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’
১ দিন আগে
রোববার (৯ আগস্ট) ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
১ দিন আগে
বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতভাবে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই লক্ষ্যে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকেই বিরোধী দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
২ দিন আগে