অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

আ.লীগের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন বেনজীর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার জন্য এবং তাদের ক্ষমতায় রাখার জন্য পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেনজীর আহমেদ আওয়ামী লীগের লোক নন বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি যে মন্তব্য করেন, এর জবাবে ওই অভিযোগ করেন তিনি।

বুধবার (৬ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল।

বেনজীর আহমেদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বেনজীর সাহেব ছিলেন পুলিশ বাহিনীর প্রধান, র‍্যাবের প্রধান। তার বিরুদ্ধে যখন পত্রিকাগুলোতে তার অপকীর্তি, চুরি, দুর্নীতি বেরিয়ে আসছে, তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সে কি আওয়ামী লীগ করে!

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বেনজীর আহমেদ তার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন, এমন অভিযোগ তুলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তিনি (বেনজীর আহমেদ) র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তখন তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, সেই সরকারকেই, সেই দলকেই ভোট দিন, যারা উন্নয়ন করছে, উন্নয়ন করতে চাচ্ছে, আমরা উন্নয়নের পক্ষে আছি।’

বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘বিরোধী দলকে সে নিপীড়ন নির্যাতন করেছে। বেআইনিভাবে হত্যা করেছে। গুম করেছে, খুন করেছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়েছে। গায়েবি মামলা সেই (বেনজীরের দায়িত্ব পালনের সময়) সময়ের তৈরি ছিল।’

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে নিয়েও আলোচনা সভায় কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান আজিজ আহমেদের দুই ভাই তো চিহ্নিত সন্ত্রাসী, এটা জেনেও তাকে সেনাপ্রধান করেছিল। এরপর তাদের (আওয়ামী লীগের) নির্বাচনে পার করে নিয়েছিল।

জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক কাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যারা আমাদের রক্ষক ছিলেন, তারাই এখন ভক্ষক। তাদের দুর্নীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, সেটি ভয়াবহ।

জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে দুর্নীতি একটা আইন হয়ে গেছে। এখানে যত খুশি দুর্নীতি করো, কারও কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। এখানে জবাবদিহি কে করবে? বিরোধী দল নেই। নির্বাচনের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। তারা গোটা দেশকে ধ্বংস করেছে।’

দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিএনপির সহ–আইনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ প্রমুখ।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন: রিজভী

বিরোধীদলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তারা নতুন ফ্যাসিবাদের অভিযোগ তুলছে, অথচ তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।

৬ দিন আগে

জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগকে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ বলল বিএনপি

‘‘উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা’’

৬ দিন আগে

আওয়ামী লীগের বিচার না করলে রাস্তা খুঁজুন: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দ্বারা যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা অন্যায়। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি— আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।

৭ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: কর্মীদের ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে ‘ব্যবস্থা’ নেবে জামায়াত

ঢাকার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নেতাকর্মীদের দ্বারা তাদের ওপর যে হামলা-হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে, তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মীর ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে তার বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

৭ দিন আগে