দ্য উইককে মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনাকে বাইরে রেখেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য উইকের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দ্য উইক গত ১ ফেব্রুয়ারি এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর দলটির অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে অন্যতম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির বর্তমান মহাসচিব তিনি। আশির দশক থেকেই দলটির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য উইককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাইরে রেখেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপির সংস্কার পরিকল্পনা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ক্ষমতা কেন্দ্রভূত করার মাধ্যমে বর্তমান সংকট সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে তিনি প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। তাকে বাইরে রেখেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। প্রায় ১৫ বছর ধরে জনগণ কার্যকরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পারেনি। ১৮-৩০ বছর বয়সী এক পুরো প্রজন্ম নিরপেক্ষ ভোটের অভিজ্ঞতা পায়নি।’

আসন্ন নির্বাচনে জনগণের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রবল আকাঙ্ক্ষা আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। বড় ধরনের অস্থিরতা বা নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার মতো কোনো বাধা নেই। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারও নির্বাচনের প্রতি আন্তরিক।’

জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমরা একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। তখন ডানপন্থি ও বামপন্থি মিলিয়ে আমরা অনেকগুলো সমমনা রাজনৈতিক দল জোটে ছিলাম। ২০-২৪টি দল সেই লড়াইয়ে বিএনপির সঙ্গে একত্র হয়েছিল। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখায় আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, বিএনপি নির্বাচিত হলে জোটভুক্ত দলগুলো নিয়ে সরকার গঠন করবে এবং সেসব দল এতে অংশ নেবে যারা আমাদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। যারা ঐ লড়াইয়ে অংশ নেয়নি, তারা এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জাতীয় সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘না, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো চুক্তি নেই। তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় সরকারের অংশ হবে না।’

বিএনপি কেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট গঠন করেনি— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি। তবে এনসিপি অনেক বেশি আসন দাবি করেছিল, যা বাস্তবায়নযোগ্য ছিল না। আমাদের প্রার্থীরা ওই আসনগুলো থেকে জয়ী হবেন বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন প্রতীক নিয়ে এনসিপি প্রার্থীরা জিততে পারবেন কি না, তা আমরা নিশ্চিত ছিলাম না। বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রতীক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোটের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং মানুষ ভোট দিতে প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না।’

দীর্ঘ ১৭ বছর পরে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তারেক রহমান মানব উন্নয়নকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট নীতি প্রকাশ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষক কল্যাণ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। দেশে ফিরে প্রথম ভাষণে তিনি মানব উন্নয়নকে কেন্দ্র করে স্পষ্ট নীতি ও ভিশন উপস্থাপন করেছেন।’

‘তারেক রহমান নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের কল্যাণ ও বেকারদের কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ১৮ মাসের মধ্যে কমপক্ষে এক কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একক ব্যক্তির সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে ক্ষমতা এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারে নানা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,’— বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের চলমান টানাপোড়েন এবং তা নিরসনের উপায় প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রথমত, শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দুই দেশের পানি বণ্টন সংক্রান্ত সমস্যা আন্তরিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। এটি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়ত, বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় ন্যায্যভাবে পরিচালনা করা জরুরি।’

এ ছাড়া সম্প্রতি দুই দেশের ক্রিকেট সংক্রান্ত ঘটনা ‘অনভিপ্রেত’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয়’ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘এতে উভয়পক্ষেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে সঙ্গে সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, যেখানে সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মান এবং পারস্পরিক বিশ্বাসকে মূল প্রাধান্য দিতে হবে।’ এক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফর ইতিবাচক ইঙ্গিত ছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

অনৈতিকভাবে কেউ জয়ের চেষ্টা করলে কঠোর নজর রাখতে হবে: নজরুল ইসলাম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে—এটাই প্রত্যাশা। তবে কেউ যদি অনৈতিকভাবে জয়ের চেষ্টা করে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

৩ ঘণ্টা আগে

গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি তাদের ৩১ দফায় গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এটি তাদের ইশতেহারেও উল্লেখ আছে। গণমাধ্যমের জন্য একটি আলাদা সংস্কার কমিশন গঠন করে সেই সমস্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার কর

৩ ঘণ্টা আগে

ধর্মের নামে প্রতারণা কখনোই রাজনীতি হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব বলেন, চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন—জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামিক দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। তারা বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে- নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর; আল্লাহ তায়ালা তাকে জান

৪ ঘণ্টা আগে

বিএনপি সরকারে এলে এনসিপি কী করবে, দ্য উইককে জানালেন নাহিদ ইসলাম

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতিতে টিকে থাকতে নির্বাচনী সমঝোতা জরুরি। একই সঙ্গে সংসদে প্রবেশের জন্যও এটি প্রয়োজন। তাঁর বিশ্বাস, সীমিত আসন পেলেও জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে যে সংস্কারের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, তা এগিয়ে ন

৪ ঘণ্টা আগে