বিএনপি সরকারে এলে এনসিপি কী করবে, দ্য উইককে জানালেন নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৫০
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

নাহিদ ইসলাম এক জটিল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দলটিকে শুরু থেকেই বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি সংস্কারপন্থী শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু নির্বাচনী বাস্তবতায় এনসিপি জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামি দলের সঙ্গে জোটে যেতে ‘বাধ্য’ হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতিতে টিকে থাকতে নির্বাচনী সমঝোতা জরুরি। একই সঙ্গে সংসদে প্রবেশের জন্যও এটি প্রয়োজন। তাঁর বিশ্বাস, সীমিত আসন পেলেও জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে যে সংস্কারের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, তা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

দ্য উইক: আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি জোটের সম্ভাবনা কেমন?

নাহিদ ইসলাম: আমরা জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এনসিপি কতটি আসন পাবে, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ, আমরা নতুন দল, আগে কোনো নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নেই। তবে আমরা আশাবাদী, এনসিপি ও জোট ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে।

দ্য উইক: এই জোট কি শুধু নির্বাচনী, নাকি এর কোনো আদর্শিক ভিত্তিও আছে?

নাহিদ ইসলাম: এটি মূলত নির্বাচনী সমঝোতা, আসনভিত্তিক সমন্বয়। তবে কিছু বিষয়ে আমাদের মিল আছে। বড় একটি বিষয় হলো বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ জন্য একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে গণভোট হবে। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছি। যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করব। সংস্কার আমাদের অন্যতম প্রধান অ্যাজেন্ডা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরোধিতা, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান। আমরা মর্যাদাপূর্ণ ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি চাই। এসব বিষয়ে আমাদের একটি যৌথ কর্মসূচি আছে।

দ্য উইক: আপনারা ক্ষমতায় এলে কি বাংলাদেশ একটি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে?

নাহিদ ইসলাম: জামায়াত বলেছে, তারা উদার নীতির মধ্যেই থাকবে। যদি জোট সরকার গঠিত হয়, তাহলে তা ধর্মতান্ত্রিক হবে না। এটি হবে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয় অবশ্যই গুরুত্ব পাবে। এটি আমাদের মৌলিক অঙ্গীকার এবং এনসিপির অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল আদর্শের অংশ।

দ্য উইক: শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকার যে সমালোচনা রয়েছে, তার জবাব কী?

নাহিদ ইসলাম: বাংলাদেশের মানুষ নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব চায়। তথাকথিত অভিজ্ঞ দলগুলো, যেমন বিএনপি অতীতে খুব ভালো শাসন দিতে পারেনি। মানুষ ভিন্ন কিছু দেখতে চায়।

দ্য উইক: সমালোচকেরা বলেন, জামায়াত চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জবাব কী?

নাহিদ ইসলাম: আমাদের আলাদা ইশতেহার আছে। জামায়াত তাদের আগের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে এবং বলেছে, তারা পুরোনো মূল আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে না। তারা অন্তর্ভুক্তির কথা বলছে, এমনকি জাতীয় সরকারের কথাও বলছে। তবে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে আমাদের মূল অবস্থান যদি ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে এই জোট টিকে থাকবে না।

দ্য উইক: ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কি এনসিপিকে বড় জোটে যেতে প্রভাবিত করেছে?

নাহিদ ইসলাম: ওসমান হাদির হত্যার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো ষড়যন্ত্র করছে এবং জুলাইয়ের নেতাদের হত্যার মাধ্যমে টার্গেট করছে। শুরুতে আমরা এককভাবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আদর্শগতভাবে একা থাকার চেয়ে এসব শক্তির মোকাবিলা করা বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।

দ্য উইক: যারা এনসিপির কাছ থেকে স্বাধীন রাজনীতির প্রত্যাশা করেছিল, তাদের কাছে এই জোটকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

নাহিদ ইসলাম: এটি বাস্তব প্রয়োজন থেকে গড়া একটি নির্বাচনী জোট। আমরা যদি মিত্রদের সঙ্গে আমাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে তা দেশের জন্যই ভালো হবে। যদি আমাদের আদর্শিক অবস্থান পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আমরা পুনর্বিবেচনা করব। কিন্তু এই মুহূর্তে জুলাইয়ের শক্তিগুলোর সংসদে প্রবেশ ও নির্বাচনী রাজনীতিতে টিকে থাকা জরুরি।

দ্য উইক: এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এনসিপির ভেতরে কি মতভেদ ছিল?

নাহিদ ইসলাম: দলের ভেতরে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন ছিল। কেউ কেউ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন দল ছেড়ে গেছেন, তাঁরা মনে করেছেন এই সিদ্ধান্ত তাঁদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা তাঁদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং এখনো তাঁদের স্বাগত জানাই। এটি ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের নেওয়া একটি যৌথ সিদ্ধান্ত এবং অধিকাংশ সদস্যই এতে সমর্থন দিয়েছেন।

দ্য উইক: এনসিপির সাবেক কিছু নেতা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন...

নাহিদ ইসলাম: আমরা তাঁদের শুভকামনা জানাই। জুলাইয়ের নেতাদের সবাইকে এক দলেই থাকতে হবে, এমন নয়। তাঁরা যদি স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়াতে চান, তা করতেই পারেন।

দ্য উইক: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আপনি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

নাহিদ ইসলাম: একটি বড় অর্জন হলো, সংস্কারবিষয়ক গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া। সরকার অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জন-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তবু সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জাতি সব সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল। সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। পুরোনো প্রতিষ্ঠিত শক্তি এবং অভিজাত অলিগার্ক শ্রেণি দ্রুত আবার সংগঠিত হয়েছে। তারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা পুরোনো ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায়। এই লড়াই গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের জন্য চালিয়ে যেতে হবে।

দ্য উইক: বিএনপি যদি পরবর্তী সরকার গঠন করে, তাহলে এনসিপির অবস্থান কী হবে?

নাহিদ ইসলাম: জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে যেকোনো সরকার গঠিত হলে আমরা তা মেনে নেব। সংস্কার গণভোটে পাস হলে এবং সরকার তা বাস্তবায়ন করলে আমরা স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করব। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। সেগুলো নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। কে ক্ষমতায় আছে, তার চেয়ে জাতীয় ঐক্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্য উইক: ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আপনি কীভাবে দেখেন?

নাহিদ ইসলাম: আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চাই। তবে ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। সীমান্তে হত্যা, পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি প্রধান দাবি। যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রায় দেওয়া হয়েছে, সেই শেখ হাসিনা ও অন্যদের ভারত যদি ফেরত পাঠায়, তাহলে ভালো সম্পর্ক সম্ভব। তা না হলে সম্পর্ক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর রোববার, ঢাকা বলছে সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্স

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও ‘অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

১২ ঘণ্টা আগে

শপথের আগে জিয়া দম্পতির কবর জিয়ারত নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির

শপথ নেওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৩ ঘণ্টা আগে

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ মুখ, শপথ রাতে

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় নতুন যুক্ত হতে যাওয়া তিন পূর্ণ মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন— আবদুল মঈন খান, আন্দালিভ রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় আসতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

১৪ ঘণ্টা আগে

মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানাল ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড

ফ্রান্স দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর অবদানের কথাও উল্লেখ করে দূতাবাসটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর

১৮ ঘণ্টা আগে