কোটা ও পেনশন আন্দোলনে বিএনপির নৈতিক সমর্থন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১৭: ১০

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন এবং সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যাহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আন্দোলনে বিএনপি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সমর্থনের কথা জানান।

তিনি বলেন, এ দুটি আন্দোলন ‘ন্যায্য’ ও ‘যৌক্তিক’ মনে করে বিএনপি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা হয়। সেখানে ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক যৌক্তিক আন্দোলনে দলের নৈতিক সমর্থনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সাধারণ ছাত্রসমাজের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমরা একমত। আইন ও বিচার বিভাগের দোহাই দিয়ে ছাত্রসমাজের যৌক্তিক দাবিগুলো দমানোর সব অপচেষ্টাই ব্যর্থ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ, ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে জনগণের ন্যায়সংগত আন্দোলন কখনোই দমানো যায় না।’

বিএনপি কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভর করছে কি না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি তো একটি রাজনৈতিক দল। দেশের ভেতরে যা হচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া তো বিএনপিকে দিতেই হবে। এটা ছাত্রদের আন্দোলন। এখানে বিএনপির সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই বলে ন্যায্য আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন করব না?’

তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ কিছু ক্ষেত্রে কোটা থাকতে পারে। সেটা কিছুতেই ৫৬ শতাংশ নয়, বড় জোর ৫ থেকে ১০ শতাংশ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ আছে। এমনিতেই মুক্তিযোদ্ধা নেই, প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আমাদের বয়সের যাঁরা আছেন, তাঁদের সন্তানেরা আছেন, তাঁরা পাবেন, সেটাতে আপত্তি নেই আমাদের। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার নাম করে যে কাউকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে, হাজার হাজার সার্টিফিকেট দিয়ে...সেটা অযৌক্তিক।’

কোটাবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল মন্তব্য করেন, ৫৬ শতাংশ কোটাব্যবস্থা বহাল রেখে প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় জাতি হিসেবে টিকে থাকা প্রায়অসম্ভব।

ফখরুল বলেন, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি—কোনো শ্রেণিতেই কোটাপদ্ধতি মেধা বিকাশে সহায়ক হতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

আন্দোলনে সমর্থন

বিএনপির মহাসচিব পেনশন স্কিম প্রত্যাহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন সমর্থনেরও ব্যাখ্যা দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে আমি (শিক্ষক-কর্মকর্তা) যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতাম, সেগুলো থেকে আমাকে সরিয়ে নিচে নিয়ে যাবেন, সেটা তো হয় না। শিক্ষকদের বিষয়টি সংবেদনশীল এই কারণে যে তাঁদের তো অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। অন্যান্যদের চুরিচামারি, দুর্নীতি ইত্যাদি ইত্যাদি থাকতে পারে, তাঁদের তো সেটা নেই।তাঁদের বেতনের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব অবিলম্বে পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগকে ‘পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি’ বলল বিএনপি

‘‘উনাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা’’

৬ দিন আগে

আওয়ামী লীগের বিচার না করলে রাস্তা খুঁজুন: জামায়াত আমির

শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দ্বারা যত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারও প্রতি কোনো প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা অন্যায়। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি— আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।

৭ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: কর্মীদের ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে ‘ব্যবস্থা’ নেবে জামায়াত

ঢাকার ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নেতাকর্মীদের দ্বারা তাদের ওপর যে হামলা-হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে, তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো কর্মীর ‘সম্পৃক্ততা’ পেলে তার বিরুদ্ধে ‘সাংগঠনিক ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।

৭ দিন আগে

সাংবাদিকদের ওপর ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলা’য় নিন্দা ও প্রতিবাদ ছাত্রদলের

রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ‘জামায়াত নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কায়দায় বর্বরোচিত হামলা এবং লাঞ্ছনা’ অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ, গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তা

৭ দিন আগে