শেখ সাদীকে উদ্ধৃত করে মির্জা আব্বাস— বে আদব বে নসিব

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বুধবার মতিঝিলের ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মাঠে গণজমায়েতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। ছবি: ভিডিও থেকে

নির্বাচনে অনভিজ্ঞরা বিএনপিকে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। কিছু তরুণের আচরণে শালীনতার অভাব দেখা যাচ্ছে, যা রাজনীতির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ সময় প্রখ্যাত ফার্সি কবি শেখ সাদীকে উদ্ধৃত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, আমি শেখ সাদীর কবিতার একটি লাইন বলতে চাই— ‘বা আদব বা নসিব, বে আদব বে নসিব’। অর্থাৎ, আদব-কায়দা থাকলে কপাল ভালো থাকে, আর বেয়াদব হয় হতভাগা, তাদের কপাল সবসময়ই খারাপ থাকে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মাঠে এক গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

কারও নাম উল্লেখ না করলেও মির্জা আব্বাস এমন উক্তি তারই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ইঙ্গিত করে বলেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এ আসনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই মির্জা আব্বাসকে নিয়ে নানা ‘আক্রমণাত্মক’ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শুরু থেকেই মির্জা আব্বাসকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘গডফাদার’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন নাসীর। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মালিবাগের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ‘ডিম হামলা’র শিকার হন তিনি। এ ঘটনাতেও তিনি সরাসরি মির্জা আব্বাসকে দায়ী করেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে।

বুধবার সকালে গণসংযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফের তোপ দাগেন মির্জা আব্বাসের প্রতি। তিনি বলেন, ‘আমি আজ মিডিয়ার সামনে বলে গেলাম, বাংলাদেশে যদি ক্রিমিনাল র‍্যাংকিং করা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অন্যতম গডফাদার ও ক্রিমিনাল নম্বর ওয়ান মির্জা আব্বাস। আজ আমি বেঁচে আছি, বলে গেলাম। মরার পরে আপনারা প্রমাণ পাবেন, বাংলাদেশের এক নম্বর ক্রিমিনাল মির্জা আব্বাস।’

বুধবার দুপুরের গণজমায়েতে অবশ্য মির্জা আব্বাস নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের ‘উসকানি’তে পা না দিয়ে শান্ত থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিপক্ষের সঙ্গে কোনো বিবাদে যাবে না। বিএনপি বিজয় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কোনো উসকানিমূলক কথা বা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে সেই বিজয় নষ্ট করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিএনপির কর্মীরা উচ্ছৃঙ্খল নয়। বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাদের নির্বাচনি অভিজ্ঞতা নেই, তারাই বিএনপিকে হেয় করার চেষ্টা করছে।

সবাইকে সংযম রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, নির্বাচনি পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে তা হতে হবে উৎসবমুখর। রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও সবাইকে সংযম বজায় রাখতে হবে।

গণজমায়েতে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু পক্ষ অসাধু উদ্দেশ্যে দেশকে দুর্বল করে রাখতে চায়। তবে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে জনগণ এর জবাব দেবে। বিএনপির সামনে কোনো দল টিকে থাকতে পারবে না— এ বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বাগেরহাটে ৬ বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

বহিষ্কৃত ছয় নেতা হলেন, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও মেহেবুবুল হক কিশোর, বাগেরহাট পৌরসভার অন্তর্গত ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান টুটুল, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শেখ রফিকুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রনি মিনা ও যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শেখ সোহেল হোসেন।

৯ ঘণ্টা আগে

‘বিএনপির হাতেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ইতিহাস’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, সামরিক স্বৈরশাসকের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুনরায় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের অবসানের পর বাংলাদেশ যখন আবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে, তখন নগর বিএনপির ওপর জনগণ আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১ দিন আগে

তারেক রহমানের সম্মতিতে মির্জা আব্বাসের নির্দেশে পাটওয়ারীর ওপর হামলা: নাহিদ

এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেছেন, এ হামলা ঘটেছে মির্জা আব্বাসের নির্দেশে, যিনি ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী তথা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতিদ্বন্দ্বী। নাহিদের অভিযোগ, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতি রয়েছে এ হামলায়। আর দলীয় এমন সম্মতি ও নির্দেশে ‘ছাত্রদলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী-ক্যাডাররা পরিকল্পনা করে

১ দিন আগে

চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস

প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু ও আত্মীয়স্বজন আছে। আমার যত ভক্ত আছে, তোমাদের তত আত্মীয়স্বজনও নেই। যে যা-ই বলুক, আমি কারও ফাঁদে পা দেব না। আমি আমার ভোট চাইব, তোমরাও চাও। এলাকার জন্য কী করেছ আর কী করবে, তা বলো। তোমরা

১ দিন আগে