সরকারের কেউ কেউ অন্য ইস্যুতে বেশি মনোযোগী: তারেক রহমান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

এখনো কেন বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম চলছে প্রশ্ন রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কিন্তু জনগণের অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তাহলে কি সরকারের কেউ কেউ অন্য কোন ইস্যুতে বেশি মনোযোগী? নাকি সরকার পারছে না?

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ প্রাঙ্গণে শিক্ষক কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণের দাবিতে আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার ও নির্বাচন দুটোরই পক্ষে। দুটোই অত্যন্ত জরুরি। সংস্কার নাকি নির্বাচন এই বিষয় নিয়ে কেউ কেউ কুতর্ক করার অপচেষ্টা করেছেন। আমরা যদি দেশের বিবাদমান পরিস্থিতি দেখি তাহলে সেটি ভিন্ন। দেশের কোটি কোটি পরিবারের কাছে এই মুহুর্তে নির্বাচন ও সংস্কারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সংসার পরিচালনা করা। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অপরদিকে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া ভ্যাটের বোঝা। ফলে কৃষক, মজুর, শ্রমিক এমনকি নিম্ন আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছেও সংসার টেকানোই অনেক ক্ষেত্রে দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবারে চলছে নিরব হাহাকার। কিভাবে জনগণের নিত্যদিনের দুর্দশা লাঘব করা যায়, কিভাবে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে জনগণের হাতের নাগালে রাখা যায়, কিভাবে জনগণকে ফ্যাসিস্টের আদলে মিথ্যা মামলা থেকে রেহায় দেয়া যায়, কিভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করা সম্ভব, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সামনে অগ্রাধিকার তালিকায় এই বিষয়গুলো থাকা অত্যন্ত জরুরী।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ বিশ্বাস করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মত একটি নির্দলীয়, অরাজনৈতিক সরকারের পক্ষেই বাজার সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে জনগণকে মুক্তি দেয়া সহজ। তাহলে এখন প্রশ্ন, অন্তর্বর্তী সরকার এতদিনেও কেন বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। জনগণের উপর কেন উলটো ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এখনো কেন বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম চলছে? এমন পরিস্থিতে কিন্তু জনগণের অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, তাহলে কি সরকারের কেউ কেউ অন্য কোন ইস্যুতে বেশি মনোযোগী? নাকি সরকার পারছে না?

অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বে আমরা মনে করি এই সরকার কে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ হাজারও শহীদের রক্ত মারিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে।

দেশের ছাত্র-তরূণরা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। এসব তরুনরায় গত দেড় দশকে ভোট দিতে পারেনি। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার বঞ্চিত এসব তরুণরা কেউ যদি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে অবশ্যই বিএনপি সে উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। তবে রাজনৈতিক দল গঠন করতে গিয়ে কেউ যদি রাষ্ট্রীয় অথবা প্রশাসনিক সহায়তা নেন তাহলে সেটা জনগণকে হতাশ করবে। অন্যরাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের আচরণ, বক্তব্য, মন্তব্য যদি ঝগড়া সুলভ হয় সেটিও জনগণের কাছে হবে অনাকাঙ্ক্ষিত।

তারেক রহমান বলেন, অবশ্যই, আজকের তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। অতীত থেকে বের হয়ে এসে, তারুণ্য নতুন পথ রচনা করবে তবে কোন প্রশ্নবিদ্ধ পথে নয়। পথটি অবশ্যই হওয়া উচিত স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে জনগণের পক্ষে কোন বিষয় নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি অথবা অযথা কুতর্ক আমি সময়ের অপচয় বলে মনে করি। একই সঙ্গে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জনগণ যদি বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের ব্যর্থতা ধৈর্য ধরে মেনে নিতে পারে তাহলে যারা সরকারে রয়েছেন তাদের ধৈর্য এবং সহনশীলতা আরও অনেক বেশি থাকা জরুরী বলে আমরা মনে করি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি মনে করে জনগণকে নিয়ে রাজনীতি নয়, বরং জনগণের জন্যই রাজনীতি। এই জন্য বিএনপি যে কোন মূল্যে দেশের জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায়। নির্বাচন হচ্ছে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান কার্যকরী হাতিয়ার। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার অর্থ নিজেদের অজান্তেই পরাজিত, পলায়নরত ফ্যাসিস্টদের শক্তিশালী করা।

শিক্ষক সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ইআরআই চেয়ারম্যান ড. আ ন ম ইহসানুল হক মিলন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইতিহাসে দুই মাসে কোনো সরকার এত অজনপ্রিয় হয়েছে কি না—নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন

ইতিহাসে আর কোনো সরকার দুই মাসের ব্যবধানে এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

৯ ঘণ্টা আগে

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ‘পুরোপুরি নির্মূলে’ কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কি না— আমাদের সেই চিন্তা করতে হবে। তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, আমাদের সেভাবে কাজ করতে হবে।’

১০ ঘণ্টা আগে

বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে: জামায়াত আমির

তিনি বলেন, ‘আমরা কারো ন্যায্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ফিরতে পারি নাই। আমাদের তরি সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়করা এই তরি নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না।’

১১ ঘণ্টা আগে

বিএনপি রাজনীতিতে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হবে: এমপি বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাইকে পদদলিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে জনগণের কাছে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

১২ ঘণ্টা আগে