স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার: বিএনপির রূপরেখায় যুক্তরাজ্যের আদল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: বিএনপি

দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে দলীয় রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ক্ষমতায় গেলে বিএনপির আবার সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচসি) আদলে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা’ প্রবর্তন করা হবে।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ রূপরেখা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রূপরেখা তুলে ধরতে গিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশের স্বাস্থ্য খাতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরেন। বলেন, ১৯৭৮ সালে ‘আলমা আতা’ ঘোষণায় স্বাক্ষর দানের মাধ্যমে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রতিরোধ যে প্রতিকারের চেয়ে উত্তম, এই ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার যে মডেল দেশব্যাপী প্রবর্তন করেছিলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা আধুনিকায়নে সেটি ছিল যুগান্তকারী প্রথম পদক্ষেপ। সমন্বিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সক্ষম দৃঢ় একটি নবপ্রজন্ম সৃষ্টির পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করেছিলেন তিনি।

ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপির ক্ষমতায় গেলে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশের কম হবে না। প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ পল্লি স্বাস্থ্য কর্মীর ব্যবস্থা করা হবে। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা, শিক্ষা এবং গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মোশাররফ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখায় ২৬তম ধারায় স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী বিএনপি সবার জন্য স্বাস্থ্য নীতির ভিত্তিতে কল্যাণকামী উন্নত রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সবার জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেবে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা জাতীয় সর্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজের আলোকে সবার জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আওয়ামী শাসনামলে স্বাস্থ্য খাতে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়মসহ পদোন্নতি, বদলি, প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থারও দলীয়করণ করা হয়েছে। সমগ্র স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তীব্র বিদেশমুখিতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের হয়েছে অবনতি। স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে পড়েছে অনিরাপদ। সরকারি স্বাস্থ্য সেবার অধিক্ষেত্রে জনগণ উচ্চ মূল্যের বেসরকারি চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে বেশ কিছু স্বল্প মেয়াদি প্রস্তাবনা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে ইউনিয়ন সাব সেন্টার উন্নয়ন ও পর্যাপ্তসংখ্যক গ্রামীণ স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার গুণগত মান উন্নয়ন, জেনারেল ফিজিশিয়ানের অধীনে প্রত্যেক নাগরিককে একজন সরকারি রেজিস্টার্ড চিকিৎিসকের অধীনে রাষ্ট্রীয় খরচে সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বিদ্যমান দ্বিতীয় (জেলা ও সদর হাসপাতাল) ও তৃতীয় স্তরের বিষেশায়িত স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা।

মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু প্রস্তাবনাও তুলে ধরেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেন, স্বাস্থ্য কার্ড প্রবর্তন ও স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা প্রবর্তন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং স্বাস্থ্য পর্যটন উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যপরিকাঠামো নির্মাণ।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সব ক্ষেত্রেই সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা ক্রমাগত বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও পরিশীলনের মাধ্যমে বাস্তবধর্মী ও প্রয়োগযোগ্যভাবে বাস্তবায়নই সফলতার মূল কথা। এই বিবেচনায় উপস্থাপিত সংস্কার প্রস্তাবটি একটি ধারণাগত কাঠামো। চলমানভাবে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক পর্যালোচনা, অংশীজনের চাহিদা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের সমন্বয়ে যেকোনো সংস্কার প্রস্তাব জনকল্যাণে কার্যকরভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

জনকল্যাণমুখী একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবার মতামতকে পুনর্মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জনগণের কল্যাণে স্বাস্থ্যসংস্কার প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ— বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ‘পুরোপুরি নির্মূলে’ কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘দেশকে আবার ভিন্নভাবে তারা স্বৈরাচারের মধ্যে নিতে চায় কি না— আমাদের সেই চিন্তা করতে হবে। তাদের যে অতীত ইতিহাস, আমরা সবাই জানি। দেশবাসী সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামীতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, আমাদের সেভাবে কাজ করতে হবে।’

৭ ঘণ্টা আগে

বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে: জামায়াত আমির

তিনি বলেন, ‘আমরা কারো ন্যায্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ফিরতে পারি নাই। আমাদের তরি সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়করা এই তরি নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না।’

৮ ঘণ্টা আগে

বিএনপি রাজনীতিতে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হবে: এমপি বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাইকে পদদলিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে জনগণের কাছে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

৯ ঘণ্টা আগে

১ মে ঢাকায় সমাবেশ করবে শ্রমিক দল, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা শহরের যত শ্রমিক আছেন, তাদের মধ্য থেকে একভাগ শ্রমিককেও আমরা সংগঠিত করতে পারিনি। আমরা যদি দুই ভাগ লোককে সংগঠিত করতে পারি, তাহলে আমাদের শ্রমিক সমাবেশ সফল হবে।

১ দিন আগে