
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় আব্দুল কুদ্দুস নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হামলাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কুদ্দুসকে তলব করে। তবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুলিশের ডাকে সাড়া দেননি তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে নালিশ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করে চলেছেন কুদ্দুস। তার এমন বেপারোয়া কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায় থানা পুলিশও অসহায় হয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত কুদ্দুস কুমিল্লার সদর উপজেলার ১ নম্বর কালীর বাজার উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক তারই আপন বড় ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন কুদ্দুস। সেসময় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছাত্রছায়ায় নিজের বড় ভাইয়ের পরিবারের নামে বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেন। গণঅভ্যত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ভোল পাল্টে হয়ে যান বিএনপি নেতা। এরপর থেকেই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে বড় ভাই বারেকের সঙ্গে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে কুদ্দুসের। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বসে। সালিশের সিদ্ধান্ত বারেক মেনে নিলেও কুদ্দুস মানেননি। ২০২০ সালে বারেক ও তার পরিবারের নামে প্রথম মামলা করেন কুদ্দুস। এর কয়েক দিন পর আরো একটি মামলা করেন। এই দুই মামলা খারিজ হলে আরো একটি করেন। এভাবে একটি মামলা খারিজ হলে আরেকটি মামলা করেন। এভাবেই এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা করেছেন কুদ্দুস। এর মধ্যে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে না পারায় ৬টি মামলা খারিজ হয়ে যায়। পরে কিছুদিন মামলা করা থেকে বিরত থাকলেও গত এপ্রিলে ফের মামলা করেন কুদ্দুস।
ভুক্তভোগী বারেকের অভিযোগ— গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী বারেক তার বসতবাড়ির সীমানার গাছ কাটতে গেলে বাধা দেন কুদ্দুস। এ সময় কুদ্দুস বলেন, ‘গাছ কাটলে কোপাইয়া ফানা ফানা করে ফেলমু’। সেসময় ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চান বারেক। পরে পুলিশ গিয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য দুইপক্ষকে ফাঁড়িতে যাওয়ার কথা বলে চলে যায়। পুলিশ যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে কুদ্দুস তার দলবল নিয়ে বারেকের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এতে বারেকের স্ত্রীর পা ভেঙে যায়। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য থানায় ডেকে দুপক্ষের সঙ্গে কথা বললেও কুদ্দুস কোনো সমাধানে আসেননি। এরপর দুই দফা পুলিশ দুইপক্ষকেই ফাঁড়িতে ডাকে। এ সময় কুদ্দুস ফাঁড়িতে যাননি।
এর আগে গত বছর কুরবানির ঈদের দিন কুদ্দুস বারেকের ঘরের পাশে গরুর নাড়ি-ভূড়ি রেখে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকতে না পেরে প্রতিবাদ করায় বারেককে প্রাণনাশের হুমকি দেন কুদ্দুস। এ ঘটনার সপ্তাহখানেকের মাথায় বারেক ও তার দুই ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দেন কুদ্দুস।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল সকালে ঝড়ে কুদ্দুসের একটি রেন্ট্রি কড়ই গাছ ভেঙে বারেকের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি। এ ঘটনায় সারা দিন পার হলেও গাছ সরানোর ব্যবস্থা নেয়নি কুদ্দুস। সেই সঙ্গে কোনো ক্ষতিপূরণও দেয়নি। উল্টো পরদিন গাছ সরাতে লোক পাঠান তিনি। পরে ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষতিপূরণ চাইলে গাছ না সরিয়ে তার লোকজন চলে যান। পরে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে গত ১ এপ্রিল পুলিশ সরেজমিনে গিয়ে দুইপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দুইদিন পর ফাঁড়িতে যেতে বলে। বারেক ও তার ছেলে মাহবুব গেলেও এদিনও যাননি কুদ্দুস। পরে পুলিশ ফোন করে না আসার কারণ জানতে চাইলে কুদ্দুস আসবেন না বলে পুলিশকে জানিয়ে দেন।
এ বিষয়ে নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবু তাহের বলেন, দুইপক্ষকেই ফাঁড়িতে ডাকা হয়। এক পক্ষ এলেও কুদ্দুস আসেননি। তিনি আসবেন না, সেটাও জানানি। পরে তাকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি ফাঁড়িতে যাব না’।
অন্যদিকে শুধু বারেকের ঘরেই নয়, কুদ্দুসের আরো একটি গাছ তার প্রতিবেশী কবিরের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ওই ঘরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশে রফেজা খাতুনের ঘরের পাশেও কুদ্দুসের রেন্ট্র কড়ই গাছ রয়েছে। ঝড় এলে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় রফেজার পরিবার থেকে বার বার বলার পরও কুদ্দুস বিষয়গুলো আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন তারা।
কুদ্দুসের যত অপকর্ম
কুদ্দুসের এমন বেপরোয়া হওয়ার যাত্রাটা শুরু ২০০৬ সালে। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ মার্চ নিজের মা শামসুন্নাহার ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লুৎফা বেগমকে বেধড়ক পেটান তিনি। এ সময় উপস্থিত লোকজন বাধা দিলে তাদেরও মারধর করেন। ঘটনা পর তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় বেশ কয়েকবার জেল খাটেন কুদ্দুস। এরপর ২০০৭ সালের ২৯ জুন রাতে রফেজা খাতুন নামে এক নারীর ওপর এডিস নিক্ষেপ করেন কুদ্দুস। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রফেজা খাতুনের মামলায় জেল খাটেন তিনি। একই বছর রাতের আঁধারে রফেজার ধানি জমি থেকে সব ধান কেটে নিয়ে আসেন কুদ্দুস ও তার লোকজন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরেই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবেশি এক নারীর ঘরে আগুন দেন কুদ্দুস। এ সময় আগুন নেভাতে বালতি ভরে পানি নিয়ে সবাই এগিলে গেলেও কুদ্দুস যান রামদা নিয়ে। পরে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শুধু তাই নয়, একই বছর বিদ্যুতের পিলারের টাকা নিয়ে রশিদ নামে তার এক প্রতিবেশীকে মারধর করেন কুদ্দুস। রশিদের ছোট ভাই মনির এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে রামদা দিয়ে ধাওয়া দেন তিনি। পরে মধ্যরাতে কুদ্দুসকে ধরে নিয়ে যান মনিরের লোকজন। এ ছাড়া আলী আশ্রাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তার ছেলে শাহজালালকে ধরে নিয়ে বাঁশের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটান কুদ্দুস। বিষয়টি সালিশে মিমাংসা হলেও কিছুদিন পর আলী আশ্রাফকে একা পেয়ে রামদা দিয়ে ধাওয়া দেন তিনি। এ সময় আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে কুদ্দুস পালিয়ে যান।
এ ছাড়া বছর ছয়েক আগে নিজের ছোট ভাই আব্দুর রবকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন কুদ্দুস। এ সময় আব্দুর রবকে বাঁচাতে বারেক এগিলে গেলে তাকেও কুদ্দুস মারধর করেন। কুদ্দুসের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। কেউ তার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নানা সময়ে কুদ্দুস আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। জোর করে আমার জমি দখল করে রেখেছে। আমার জমিতে গাছ লাগিয়েছে, সেই গাছ কটাতে যাওয়ায় আমার পরিবারের ওপর হামলা করে। শুধু তাই নয়, আমার ও আমার ছেলে-মেয়ের নামে সাতটি মিথ্যা মামলা করেছে। এর মধ্যে একটি জায়গা সংক্রান্ত মামলা। এই মামলায় আদালতের রায় আমার পক্ষে এলেও সেই জায়গায় থাকা গাছ কাটতে দিচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, কুদ্দুসের অত্যাচারে শুধু আমি নই, এলাকার অনেকেই অতিষ্ঠ। কেউ কোনো কিছুর প্রতিবাদ করলে তাকে রামদা নিয়ে কোপাতে যায়। নানাভাবে হুমকি দেয়। এ কারণে অনেকেই তার ভয়ে কোনো কথা বলে না। এখন বিএনপির কমিটিতে পদ পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কুদ্দুস খুবই দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে মারার জন্য তেড়ে আসে। এ কারণে লোকজন ভয়ে কিছু বলে না।
এদিকে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, কুদ্দুসের অপকর্মে আমরা বিব্রতবোধ করি। সে এক সময় আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপিতে এসে পদ ভাগিয়ে নেন। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা তার এই বেপরোয়া আচরণের বিষয়ে জানলেও কোন শক্তির কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে আব্দুল কুদ্দুসকে ফোন করা হলেও তিনি বলেন, ‘আমি নামাজ পর কথা বলব’। এরপর কয়েকবার কল হলেও তার ফোনে কল যায়নি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো শুনেছি। আগামী শনিবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাব। দুইপক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করব।
জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছিল। তাদের জিডি করতে বলা হয়েছে। জিডি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় আব্দুল কুদ্দুস নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হামলাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কুদ্দুসকে তলব করে। তবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুলিশের ডাকে সাড়া দেননি তিনি। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে নালিশ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করে চলেছেন কুদ্দুস। তার এমন বেপারোয়া কর্মকাণ্ডে ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায় থানা পুলিশও অসহায় হয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত কুদ্দুস কুমিল্লার সদর উপজেলার ১ নম্বর কালীর বাজার উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক তারই আপন বড় ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন কুদ্দুস। সেসময় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছাত্রছায়ায় নিজের বড় ভাইয়ের পরিবারের নামে বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করেন। গণঅভ্যত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ভোল পাল্টে হয়ে যান বিএনপি নেতা। এরপর থেকেই আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে বড় ভাই বারেকের সঙ্গে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে কুদ্দুসের। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বসে। সালিশের সিদ্ধান্ত বারেক মেনে নিলেও কুদ্দুস মানেননি। ২০২০ সালে বারেক ও তার পরিবারের নামে প্রথম মামলা করেন কুদ্দুস। এর কয়েক দিন পর আরো একটি মামলা করেন। এই দুই মামলা খারিজ হলে আরো একটি করেন। এভাবে একটি মামলা খারিজ হলে আরেকটি মামলা করেন। এভাবেই এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা করেছেন কুদ্দুস। এর মধ্যে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ দিতে না পারায় ৬টি মামলা খারিজ হয়ে যায়। পরে কিছুদিন মামলা করা থেকে বিরত থাকলেও গত এপ্রিলে ফের মামলা করেন কুদ্দুস।
ভুক্তভোগী বারেকের অভিযোগ— গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভুক্তভোগী বারেক তার বসতবাড়ির সীমানার গাছ কাটতে গেলে বাধা দেন কুদ্দুস। এ সময় কুদ্দুস বলেন, ‘গাছ কাটলে কোপাইয়া ফানা ফানা করে ফেলমু’। সেসময় ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চান বারেক। পরে পুলিশ গিয়ে বিষয়টি মিমাংসার জন্য দুইপক্ষকে ফাঁড়িতে যাওয়ার কথা বলে চলে যায়। পুলিশ যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে কুদ্দুস তার দলবল নিয়ে বারেকের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এতে বারেকের স্ত্রীর পা ভেঙে যায়। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য থানায় ডেকে দুপক্ষের সঙ্গে কথা বললেও কুদ্দুস কোনো সমাধানে আসেননি। এরপর দুই দফা পুলিশ দুইপক্ষকেই ফাঁড়িতে ডাকে। এ সময় কুদ্দুস ফাঁড়িতে যাননি।
এর আগে গত বছর কুরবানির ঈদের দিন কুদ্দুস বারেকের ঘরের পাশে গরুর নাড়ি-ভূড়ি রেখে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকতে না পেরে প্রতিবাদ করায় বারেককে প্রাণনাশের হুমকি দেন কুদ্দুস। এ ঘটনার সপ্তাহখানেকের মাথায় বারেক ও তার দুই ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দেন কুদ্দুস।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল সকালে ঝড়ে কুদ্দুসের একটি রেন্ট্রি কড়ই গাছ ভেঙে বারেকের ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি। এ ঘটনায় সারা দিন পার হলেও গাছ সরানোর ব্যবস্থা নেয়নি কুদ্দুস। সেই সঙ্গে কোনো ক্ষতিপূরণও দেয়নি। উল্টো পরদিন গাছ সরাতে লোক পাঠান তিনি। পরে ভুক্তভোগী পরিবার ক্ষতিপূরণ চাইলে গাছ না সরিয়ে তার লোকজন চলে যান। পরে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে গত ১ এপ্রিল পুলিশ সরেজমিনে গিয়ে দুইপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দুইদিন পর ফাঁড়িতে যেতে বলে। বারেক ও তার ছেলে মাহবুব গেলেও এদিনও যাননি কুদ্দুস। পরে পুলিশ ফোন করে না আসার কারণ জানতে চাইলে কুদ্দুস আসবেন না বলে পুলিশকে জানিয়ে দেন।
এ বিষয়ে নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবু তাহের বলেন, দুইপক্ষকেই ফাঁড়িতে ডাকা হয়। এক পক্ষ এলেও কুদ্দুস আসেননি। তিনি আসবেন না, সেটাও জানানি। পরে তাকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি ফাঁড়িতে যাব না’।
অন্যদিকে শুধু বারেকের ঘরেই নয়, কুদ্দুসের আরো একটি গাছ তার প্রতিবেশী কবিরের ঘরের ওপর পড়ে। এতে ওই ঘরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশে রফেজা খাতুনের ঘরের পাশেও কুদ্দুসের রেন্ট্র কড়ই গাছ রয়েছে। ঝড় এলে ভেঙে পড়ার শঙ্কায় রফেজার পরিবার থেকে বার বার বলার পরও কুদ্দুস বিষয়গুলো আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন তারা।
কুদ্দুসের যত অপকর্ম
কুদ্দুসের এমন বেপরোয়া হওয়ার যাত্রাটা শুরু ২০০৬ সালে। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই বছরের ১০ মার্চ নিজের মা শামসুন্নাহার ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লুৎফা বেগমকে বেধড়ক পেটান তিনি। এ সময় উপস্থিত লোকজন বাধা দিলে তাদেরও মারধর করেন। ঘটনা পর তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় বেশ কয়েকবার জেল খাটেন কুদ্দুস। এরপর ২০০৭ সালের ২৯ জুন রাতে রফেজা খাতুন নামে এক নারীর ওপর এডিস নিক্ষেপ করেন কুদ্দুস। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রফেজা খাতুনের মামলায় জেল খাটেন তিনি। একই বছর রাতের আঁধারে রফেজার ধানি জমি থেকে সব ধান কেটে নিয়ে আসেন কুদ্দুস ও তার লোকজন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরেই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবেশি এক নারীর ঘরে আগুন দেন কুদ্দুস। এ সময় আগুন নেভাতে বালতি ভরে পানি নিয়ে সবাই এগিলে গেলেও কুদ্দুস যান রামদা নিয়ে। পরে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শুধু তাই নয়, একই বছর বিদ্যুতের পিলারের টাকা নিয়ে রশিদ নামে তার এক প্রতিবেশীকে মারধর করেন কুদ্দুস। রশিদের ছোট ভাই মনির এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে রামদা দিয়ে ধাওয়া দেন তিনি। পরে মধ্যরাতে কুদ্দুসকে ধরে নিয়ে যান মনিরের লোকজন। এ ছাড়া আলী আশ্রাফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তার ছেলে শাহজালালকে ধরে নিয়ে বাঁশের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটান কুদ্দুস। বিষয়টি সালিশে মিমাংসা হলেও কিছুদিন পর আলী আশ্রাফকে একা পেয়ে রামদা দিয়ে ধাওয়া দেন তিনি। এ সময় আলী আশ্রাফের পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে কুদ্দুস পালিয়ে যান।
এ ছাড়া বছর ছয়েক আগে নিজের ছোট ভাই আব্দুর রবকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন কুদ্দুস। এ সময় আব্দুর রবকে বাঁচাতে বারেক এগিলে গেলে তাকেও কুদ্দুস মারধর করেন। কুদ্দুসের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। কেউ তার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছে না বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল বারেক বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নানা সময়ে কুদ্দুস আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। জোর করে আমার জমি দখল করে রেখেছে। আমার জমিতে গাছ লাগিয়েছে, সেই গাছ কটাতে যাওয়ায় আমার পরিবারের ওপর হামলা করে। শুধু তাই নয়, আমার ও আমার ছেলে-মেয়ের নামে সাতটি মিথ্যা মামলা করেছে। এর মধ্যে একটি জায়গা সংক্রান্ত মামলা। এই মামলায় আদালতের রায় আমার পক্ষে এলেও সেই জায়গায় থাকা গাছ কাটতে দিচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, কুদ্দুসের অত্যাচারে শুধু আমি নই, এলাকার অনেকেই অতিষ্ঠ। কেউ কোনো কিছুর প্রতিবাদ করলে তাকে রামদা নিয়ে কোপাতে যায়। নানাভাবে হুমকি দেয়। এ কারণে অনেকেই তার ভয়ে কোনো কথা বলে না। এখন বিএনপির কমিটিতে পদ পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কুদ্দুস খুবই দুষ্টু প্রকৃতির লোক। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ। তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে মারার জন্য তেড়ে আসে। এ কারণে লোকজন ভয়ে কিছু বলে না।
এদিকে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, কুদ্দুসের অপকর্মে আমরা বিব্রতবোধ করি। সে এক সময় আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বিএনপিতে এসে পদ ভাগিয়ে নেন। স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা তার এই বেপরোয়া আচরণের বিষয়ে জানলেও কোন শক্তির কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে আব্দুল কুদ্দুসকে ফোন করা হলেও তিনি বলেন, ‘আমি নামাজ পর কথা বলব’। এরপর কয়েকবার কল হলেও তার ফোনে কল যায়নি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো শুনেছি। আগামী শনিবার ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাব। দুইপক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করব।
জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছিল। তাদের জিডি করতে বলা হয়েছে। জিডি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে নুসরাতকে নিজের ‘সহযোদ্ধা’ উল্লেখ করে মনিরা শারমিন জানিয়েছেন, এমপি কে হবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন; বরং তার এই লড়াইটা শিক্ষিত তরুণদের রাজনীতিতে আসার পথ সুগম করার জন্য।
১ দিন আগে
চিঠিতে লিখেছেন, ‘মামলা শুনানি না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমের প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া আবশ্যক। যেহেতু দল আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন দিয়েছে, সেহেতু হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের জন্য নির্বাচন কমিশনার অপেক্ষা করা উচিত। অন্যথায় আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হব।’
২ দিন আগে
সরকারের অনেক আমলা বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে পারপাস সার্ভ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
২ দিন আগে
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে আটকের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা এলাকা। এ ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের থানা ঘেরাও এবং পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে বাস চলাচল।
২ দিন আগে