
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

জুলাই অভ্যুত্থানে যাদের অবদান ছিল তাদের বাদ দিয়ে কোনো অবদান না রাখা ‘গুপ্ত’দের ক্ষমতায়ন করার মধ্য দিয়েই দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঘটেছে বলে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বলেছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া, জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদকে আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া, আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘মবে’র শাসন প্রতিষ্ঠাতা, উগ্র ডানপন্থিদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো নানা ঘটনার মধ্য দিয়েও আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এমন মন্তব্য করেন মাহফুজ আলম। ক্ষোভ ঝরানো এ পোস্টে শারীরিকভাবে নয়, বরং আদর্শগত দিক থেকে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর তার পেছনে যেসব ঘটনাপ্রবাহকে নিয়ামক মনে করেন, সেগুলোই একের পর এক লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি।
মাহফুজ এমন একটি দিনে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন যেদিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা আনন্দবাজারে জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বরাবরের মতোই বলেছেন, অভ্যুত্থান নয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে মূলত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়েছে তাকে। তবে তিনি মাথা উঁচু করে শিগগিরই ফিরবেন দেশের মাটিতে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার এ সাক্ষাৎকারই মাহফুজকে ‘আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে পোস্ট দিতে উসকে দিয়েছে, যে পোস্টটি তিনি শুরু করেছেন এমন একটি প্রশ্ন দিয়ে— ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই?’ এরপর তিনি লিখেছেন, ‘(আওয়ামী) লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’
এরপর একে একে ২০টি ঘটনার উল্লেখ করেছেন মাহফুজ, যে ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আদর্শগতভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ’২৪ কে ’৭১-এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি।’
‘মব কালচার’ ও উগ্র ডানপন্থিদের উত্থানের প্রসঙ্গও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের ‘মজলুমগণ’। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে।”
পোস্টে মাহফুজ আরও লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে ‘মজলুমগণ’ চুপ ছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেকুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেওয়া হইসিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। সেই সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাহফুজ লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ‘ঐকমত্য কমিশন’ নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে ‘বিএনপি ও *’ অন্তরীণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর ‘বিএনপি ও *’ ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিল অন্তরীণ।’
“লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা ‘প্রযোজিত’ হলো।”
আমলাতন্ত্রের হাতে অনেক কিছু লাগাম ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমেও অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার পালা শুরু হয় বলেও উল্লেখ করেছেন মাহফুজ। লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো, যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামাত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল, যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেওয়া হইছিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের তাত্ত্বিক এই নেতা আরও লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এ দেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতো রিগ্রেসিভ কালচার ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল ‘মজলুমগণ’। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইছিল কিচেন ক্যাবিনেট।”
‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বলতে মূলত মাহফুজ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের ছোট একটি অংশকে বুঝিয়েছেন, যে অংশটি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিজেরা গ্রহণ করত এবং সে সিদ্ধান্তই পরে উপদেষ্টা পরিষদে পাস করিয়ে নেওয়া হতো। প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের গুটিকয়েক সদস্য এই ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ তথা সরকারের মধ্যে থাকা সরকার হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্র। মাহফুজ এই ‘কিচেন ক্যাবিনেটে’র নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার ‘গল্প’ আরেকদিন বলবেন বলে ব্র্যাকেটে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও নানা ঘটনাপ্রবাহকেও আওয়ামী লীগের ফেরার সঙ্গে তুলনা করেছেন মাহফুজ। লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো এবং বিএনপি-জামায়াতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইবুনাল, বিশ্ববিদ্যালয়, ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হলো।’
শেষ পয়েন্টে সাবেক এই উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশান গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’
লিখিত পয়েন্টের মধ্যে এটি শেষে উল্লেখ করলেও পোস্টের শেষে ‘চলমান...’ (টু বি কন্টিনেউড) লিখেছেন মাহফুজ। পোস্টের শেষে ‘পুনশ্চ’ দিয়ে নিজেকে নিয়েও কিছু রসিকতা করেছেন। লিখেছেন, ‘মূল কথাই বলা হয়নি। লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।’
নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থি বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস অ্যান্ড দোজ বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ— সবার পক্ষ থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের এ বার্তা প্রচার করেছেন বলে মাহফুজ ‘সারকাজম’ অব্যাহত রাখেন তার পোস্টে।
ফেসবুক দুনিয়ার একদম তাজা ‘ট্রেন্ড’ অনুসরণ করতেও ভোলেননি মাহফুজ আলম। পোস্টটি তিনি শেষ করেছেন সেই ‘ট্রেন্ডি’ ও ‘ভাইরাল’ সংলাপ দিয়েই— ‘কী, রাগ করলা? পড়ো ইন্নালিল্লাহ!’
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করে বারবার আলোচনায় এসেছেন মাহফুজ আলম। আওয়ামী লীগের পতন ঘটনানো জুলাই অভ্যুত্থানের তাত্ত্বিক নেতা বলা হয় তাকে। ওই আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে তাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন।
ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২০ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে নিয়োগ পান মাহফুজ। পরে নভেম্বরে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। শুরুতে দপ্তর না পেলেও পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন (গত বছরের ১০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
অভ্যুত্থানের নেতৃত্বস্থানীয়দের গড়ে তোলা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে মাহফুজের যোগ দেওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দলটিতে যোগ দেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। পরে এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘অল্টারনেটিভস’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন তিনি।
উপদেষ্টা থাকার সময়েও মাহফুজ ‘বিতর্ক’ জন্ম দেওয়া নানা স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ফেসবুক প্রোফাইলে। এসব স্ট্যাটাসে খোলাখুলিই জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। সমালোচনা করেছেন এনসিপিরও। যে অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ তিনি ছিলেন, সেই সরকারের নানা কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। এবার আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ নিয়ে এ ‘বিস্ফোরক’ স্ট্যাটাস দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে মাহফুজ এ পোস্ট দেওয়ার পর ছড়িয়ে পড়তে দেরি হয়নি। এখন পর্যন্ত তার পোস্টে রিয়্যাকশন পড়েছে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি। পোস্টটি শেয়ার করেছেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ।
মাহফুজ আলমের এ পোস্টে কমেন্টও পড়েছে প্রচুর। অনেকেই মাহফুজের পোস্টের ঢঙের সঙ্গে মিলিয়ে কোন কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের আদর্শগত প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, তা নিজেদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তুলে ধরেছেন। অনেকে তার স্ট্যাটাস শেয়ার করে তার সমালোচনাও করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার সময় সেই সরকারের সমালোচনা না করা বা সরকার থেকে সরে না দাঁড়ানোর জন্য।
মাহফুজ এর আগে কয়েকবার পোস্ট দিয়েও কিছু সময় পর সরিয়ে নিয়েছেন। সেসব ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে কেউ কেউ তার পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, পোস্টটি কতক্ষণ ফেসবুকে থাকবে, তা বলা মুশকিল। প্রায় চার ঘণ্টা হয়ে গেলেও অবশ্য মাহফুজ এবার তার পোস্টটি সরিয়ে নেননি।

জুলাই অভ্যুত্থানে যাদের অবদান ছিল তাদের বাদ দিয়ে কোনো অবদান না রাখা ‘গুপ্ত’দের ক্ষমতায়ন করার মধ্য দিয়েই দেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ঘটেছে বলে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বলেছেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া, জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদকে আমলাতন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া, আইনের শাসনের পরিবর্তে ‘মবে’র শাসন প্রতিষ্ঠাতা, উগ্র ডানপন্থিদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো নানা ঘটনার মধ্য দিয়েও আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এমন মন্তব্য করেন মাহফুজ আলম। ক্ষোভ ঝরানো এ পোস্টে শারীরিকভাবে নয়, বরং আদর্শগত দিক থেকে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি। আর তার পেছনে যেসব ঘটনাপ্রবাহকে নিয়ামক মনে করেন, সেগুলোই একের পর এক লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি।
মাহফুজ এমন একটি দিনে এই স্ট্যাটাস দিয়েছেন যেদিন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা আনন্দবাজারে জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বরাবরের মতোই বলেছেন, অভ্যুত্থান নয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে মূলত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়েছে তাকে। তবে তিনি মাথা উঁচু করে শিগগিরই ফিরবেন দেশের মাটিতে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার এ সাক্ষাৎকারই মাহফুজকে ‘আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে পোস্ট দিতে উসকে দিয়েছে, যে পোস্টটি তিনি শুরু করেছেন এমন একটি প্রশ্ন দিয়ে— ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই?’ এরপর তিনি লিখেছেন, ‘(আওয়ামী) লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে। কীভাবে ফিরল, সে গল্পই বলব আজ।’
এরপর একে একে ২০টি ঘটনার উল্লেখ করেছেন মাহফুজ, যে ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আদর্শগতভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ’২৪ কে ’৭১-এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি।’
‘মব কালচার’ ও উগ্র ডানপন্থিদের উত্থানের প্রসঙ্গও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের ‘মজলুমগণ’। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে।”
পোস্টে মাহফুজ আরও লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে ‘মজলুমগণ’ চুপ ছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেকুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেওয়া হইসিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। সেই সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাহফুজ লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ‘ঐকমত্য কমিশন’ নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে ‘বিএনপি ও *’ অন্তরীণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর ‘বিএনপি ও *’ ঠেকাতে জামাতকে কোলে নিল অন্তরীণ।’
“লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা ‘প্রযোজিত’ হলো।”
আমলাতন্ত্রের হাতে অনেক কিছু লাগাম ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমেও অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার পালা শুরু হয় বলেও উল্লেখ করেছেন মাহফুজ। লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো, যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামাত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল, যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেওয়া হইছিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের তাত্ত্বিক এই নেতা আরও লিখেছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এ দেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতো রিগ্রেসিভ কালচার ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল ‘মজলুমগণ’। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইছিল কিচেন ক্যাবিনেট।”
‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বলতে মূলত মাহফুজ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের ছোট একটি অংশকে বুঝিয়েছেন, যে অংশটি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিজেরা গ্রহণ করত এবং সে সিদ্ধান্তই পরে উপদেষ্টা পরিষদে পাস করিয়ে নেওয়া হতো। প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের গুটিকয়েক সদস্য এই ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ তথা সরকারের মধ্যে থাকা সরকার হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্র। মাহফুজ এই ‘কিচেন ক্যাবিনেটে’র নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার ‘গল্প’ আরেকদিন বলবেন বলে ব্র্যাকেটে উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও নানা ঘটনাপ্রবাহকেও আওয়ামী লীগের ফেরার সঙ্গে তুলনা করেছেন মাহফুজ। লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো এবং বিএনপি-জামায়াতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইবুনাল, বিশ্ববিদ্যালয়, ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হলো।’
শেষ পয়েন্টে সাবেক এই উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশান গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’
লিখিত পয়েন্টের মধ্যে এটি শেষে উল্লেখ করলেও পোস্টের শেষে ‘চলমান...’ (টু বি কন্টিনেউড) লিখেছেন মাহফুজ। পোস্টের শেষে ‘পুনশ্চ’ দিয়ে নিজেকে নিয়েও কিছু রসিকতা করেছেন। লিখেছেন, ‘মূল কথাই বলা হয়নি। লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের।’
নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থি বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস অ্যান্ড দোজ বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ— সবার পক্ষ থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের এ বার্তা প্রচার করেছেন বলে মাহফুজ ‘সারকাজম’ অব্যাহত রাখেন তার পোস্টে।
ফেসবুক দুনিয়ার একদম তাজা ‘ট্রেন্ড’ অনুসরণ করতেও ভোলেননি মাহফুজ আলম। পোস্টটি তিনি শেষ করেছেন সেই ‘ট্রেন্ডি’ ও ‘ভাইরাল’ সংলাপ দিয়েই— ‘কী, রাগ করলা? পড়ো ইন্নালিল্লাহ!’
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করে বারবার আলোচনায় এসেছেন মাহফুজ আলম। আওয়ামী লীগের পতন ঘটনানো জুলাই অভ্যুত্থানের তাত্ত্বিক নেতা বলা হয় তাকে। ওই আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে তাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন।
ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ২০ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে নিয়োগ পান মাহফুজ। পরে নভেম্বরে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। শুরুতে দপ্তর না পেলেও পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন (গত বছরের ১০ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
অভ্যুত্থানের নেতৃত্বস্থানীয়দের গড়ে তোলা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে মাহফুজের যোগ দেওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দলটিতে যোগ দেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। পরে এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘অল্টারনেটিভস’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন তিনি।
উপদেষ্টা থাকার সময়েও মাহফুজ ‘বিতর্ক’ জন্ম দেওয়া নানা স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ফেসবুক প্রোফাইলে। এসব স্ট্যাটাসে খোলাখুলিই জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। সমালোচনা করেছেন এনসিপিরও। যে অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ তিনি ছিলেন, সেই সরকারের নানা কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। এবার আওয়ামী লীগের ‘ফেরা’ নিয়ে এ ‘বিস্ফোরক’ স্ট্যাটাস দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে মাহফুজ এ পোস্ট দেওয়ার পর ছড়িয়ে পড়তে দেরি হয়নি। এখন পর্যন্ত তার পোস্টে রিয়্যাকশন পড়েছে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি। পোস্টটি শেয়ার করেছেন আড়াই হাজারের বেশি মানুষ।
মাহফুজ আলমের এ পোস্টে কমেন্টও পড়েছে প্রচুর। অনেকেই মাহফুজের পোস্টের ঢঙের সঙ্গে মিলিয়ে কোন কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের আদর্শগত প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, তা নিজেদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তুলে ধরেছেন। অনেকে তার স্ট্যাটাস শেয়ার করে তার সমালোচনাও করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারে থাকার সময় সেই সরকারের সমালোচনা না করা বা সরকার থেকে সরে না দাঁড়ানোর জন্য।
মাহফুজ এর আগে কয়েকবার পোস্ট দিয়েও কিছু সময় পর সরিয়ে নিয়েছেন। সেসব ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে কেউ কেউ তার পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, পোস্টটি কতক্ষণ ফেসবুকে থাকবে, তা বলা মুশকিল। প্রায় চার ঘণ্টা হয়ে গেলেও অবশ্য মাহফুজ এবার তার পোস্টটি সরিয়ে নেননি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
১ দিন আগে
এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দুপুর ১টায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হারানোর পর কুষ্টিয়া শহরে বিভিন্ন ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুর জন্য হাসানুল হক ইনুকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ ট্রাইব্যুনাল নিজেরাই বলেছেন, তারা ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগষ্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্
২ দিন আগে
মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে কর আরোপ উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এর প্রত্যেকটি কর্মসূচি হচ্ছে এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে। আর এ লক্ষ্যেই আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। দেশের মানুষ এখন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য প
৩ দিন আগে