
নাজমুল ইসলাম হৃদয়

আজ ১৭ আগস্ট, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। এই ছয় মাসে সরকারের নিজস্ব হিসাবে উন্নয়নের তালিকা লম্বা, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে অগ্রগতিও দৃশ্যমান। সরকার বলছে, এই ছয় মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলেই দাবি সরকারের।
তবে একই সময়ে নানা ইস্যু নিয়ে সরকারকে প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে। জ্বালানি সংকটের জের ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ধারাবাহিক মব সহিংসতাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে গতি নেই। শিক্ষা ও আর্থিক খাতেও সরকারে কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থানও সম্পূর্ণ মুখোমুখি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু কিছু খাতে সরকারের নানা উদ্যোগে সাফল্য মিললেও এখনো বহু পথ হাঁটার বাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী যেমন রেমিট্যান্সের প্রভাবে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া ও মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে এখনো সরকারের পদক্ষেপ খুব একটা দৃশ্যমান বলে মনে করছেন না তিনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘আগের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল’ মনে করলেও ‘সামনে আরও অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ বাকি রয়ে গেছে’ বলে মূল্যায়ন করেছেন।
শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী কাছে শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক মনে হলেও এখনো স্থায়ী একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গত মাসখানে সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা জ্বালানি খাতের সঙ্গে ইরান যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক প্রভাব সম্পর্কিত হলেও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সংকট মোকাবিলায় সাময়িক সমাধানের পথ বেছে নিলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।

তবে সার্বিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে সরকারকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি বলেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
ছয় মাস পরের চিত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে গত সপ্তাহেই দেশ সাক্ষী হয়েছে ইতিহাসের রেকর্ড লোডশেডিংয়ের। ছয় মাসে বিভিন্ন সময়ে মাজার ভাঙাসহ মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে নিয়মিত। ছাত্র সংগঠনগুলোসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সংঘর্ষ ঘটেছে দফায় দফায়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে পেয়েছিল, তা ছিল ভঙ্গুর ও রূপান্তরের মধ্যবর্তী অবস্থায়। ফেব্রুয়ারির প্রথম কার্যদিবসেই সরকার আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল করাকে তাদের অগ্রাধিকার ঘোষণা করে। রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তাও দেয়। সরকার ও বিরোধী দল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে যাবে— এমন প্রত্যয় জানায় সরকার।
জুলাই সনদ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে গৃহীত রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা। নতুন সরকারের সামনে দায় ছিল এই সনদ বাস্তবায়নের। তবে সরকারের যাত্রা শুরুর পর থেকেই এই সনদ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর বিরোধ চরমে ঠেকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই সনদের গণভোট। তাকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়। সনদ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই সনদ বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সংসদ সদস্যদের শপথের দিন বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সরকার বলছে, তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেটিই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। সই হওয়া ওই সনদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ছিল না বলেই তারা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তবে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার, তাতে বিরোধী দলকেও পাঁচজন সদস্য দিতে বলা হয়েছে। তবে বিরোধী দল এখনো ওই কমিটির জন্য কারও নাম জমা দেয়নি। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কারের দাবিতেই অনড়।
সংবিধান সংশোধনসহ নানা ইস্যুতেই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। এদিকে মাঠের রাজনীতিতেও বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সংঘাত ঘটেছে বিভিন্ন জায়গাতেই। দুই ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যেই অন্তত দুই দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে সারা দেশে।
নির্বাচনের মতো সংসদ শুরুর পরও জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবেই রাজনীতির মাঠে কর্মসূচি পালন করছে। বিরোধী দলীয় এই জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে এরই মধ্যে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ‘সরকার পতনের’ আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ৪টি লংমার্চের পাশাপাশি নভেম্বরে ঢাকায় ডাক দেওয়া হয়েছে মহাসমাবেশের।
বিরোধী দলগুলোর শুরু থেকেই জোটবদ্ধ ফরম্যাটে কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করাকে এই সময়ের একমাত্র বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন বলে মনে করছেন
ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। তবে তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এখনো হয়ে উঠতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই ছয় মাসে সরকার রাজনৈতিকভাবে খুব বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে হয় না।’
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নিয়ে অধ্যাপক সাব্বির বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ধরনের পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, বিশেষ করে জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে হয়তো কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেত।’ বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে রাখা বা পদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপের মধ্যেও নতুনত্ব কিছু খুঁজে পাননি তিনি।

গত ছয় মাসের সবচেয়ে বড় ঘটনাপ্রবাহ জড়িয়ে আছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণেরও আগের ঘটনা হলেও তার প্রভাব পুরো ছয় মাস জুড়ে বিস্তৃত।
বাংলাদেশ এই রায়ের ভিত্তিতে ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও উত্তেজনার একটি বড় উৎস। দিল্লিতে হাসিনার সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ভারত ‘হাসিনা কার্ড খেলে’ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও রাখতে পারে না, কারণ দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ছিল বাংলাদেশ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অবশ্য ছয় মাসে সে সম্পর্ক ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারত সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তারেক রহমানকে। সামনের সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
এর মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে, এ সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তবে শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবশেষ বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ নেই।
এদিকে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরই প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়াকে রীতি বানিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে এবার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নেন মালয়েশিয়াকে, সেখান থেকেই যান চীনে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার নতুন করে খোলার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে অনেকটাই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎসহ দেশটির সঙ্গে বিভিন্ন খাতের ১৭ সমঝোতা স্মারক সইকেও সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারত কী করবে, তার ওপর দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা নির্ভর করবে। এর বিপরীতে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সরকারের উদ্যোগ ভারতকেও চাপে রাখতে সহায়তা করতে পারে সরকারকে।
যাত্রা শুরুর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে সরকার। গত ১০ মার্চ এই কার্ডের পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একমাস পর বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন তথা পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) চালু করা হয় ‘কৃষক কার্ড’।
এর মধ্যে মার্চেই ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু করা হয় ‘ক্রীড়া কার্ড’। চলতি আগস্টের মধ্যেই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কথা রয়েছে। পাইপলাইনে রয়েছে ‘ই-হেলথ কার্ড’। এমন আরও বেশকিছু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সাধারণভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে’ বলে উল্লেখ করলেও এগুলো সাধারণ পরিবারে বাস্তবিক কী সুফল দেবে, তা মূল্যায়ন করে দেখার তাগিদ দিয়েছেন অধ্যাপক সাব্বির।
অর্থনৈতিক সূচকগুলোতেই গত ছয় মাসের সবচেয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি চোখে পড়ে বলে মনে করছেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এই ছয় মাসের মধ্যে সরকারের অন্যতম বড় ও দৃশ্যমান সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের অভূতপূর্ব বৃদ্ধিকে। এর ফলে রিজার্ভ বেড়েছে। এ ছাড়া এই ছয় মাসে মূল্যস্ফীতিও কমতে শুরু করেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা এই উল্লম্ফনের কারণ হিসেবে হুন্ডির বিরুদ্ধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছেন।
রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রভাব পড়েছে রিজার্ভেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে যার পরিমাণ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। জুলাই মাস শেষে রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম৬ পদ্ধতিতেও ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
মূল্যস্ফীতিতেও স্বস্তির লক্ষ্মণ দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ জুলাই মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরের পরে সর্বনিম্ন।
খাতা-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে তা স্বস্তি দিচ্ছে না সাধারণ ক্রেতাদের। অধ্যাপক শাহাদাত সিদ্দিকীও সতর্ক করে বলেন, ‘বিবিএসের সাড়ে সাত শ পণ্যের গড় সূচক কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও নিম্নআয়ের মানুষের নিত্যপণ্যের ঝুড়িতে উচ্চমূল্যের কারণে বাস্তব অস্বস্তি এখনো কাটেনি।’
অধ্যাপক শাহাদাত সিদ্দিকীর মতে, সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে কর্মসংস্থান প্রশ্নে। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশে কর্মসংস্থান তৈরি বা নতুন চাকরির বাজার তৈরির ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।’
জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ছে না বলে মন্তব্য অধ্যাপক শাহাদাতের। বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তার মূল্যায়ন, প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকারকে ব্যাপকভাবে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যা মূল্যস্ফীতিকে ফের উসকে দিতে পারে।
সরকারের দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের একটি নতুন কৌশলপত্র প্রণয়ন, যেখানে সৌরশক্তি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য ও জাতীয় গ্রিডের অন্তত ২০ শতাংশ চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এই উদ্যোগকে ‘উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসাযোগ্য’ বলে স্বীকার করেছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই প্রতি ইউনিট ৭ টাকায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে এবং একইসঙ্গে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।’ তবে এই কৌশলপত্র এখনো মূলত কাগুজে অঙ্গীকার, ফলে তা কতটা বাস্তবায়ন হবে তা সময়ই বলে দেবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারকে এলপিজি সংকট ও ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে তরল জ্বালানি আমদানিতে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ জুড়ে রীতিমতো এলএনজি সংকট শুরু হয়েছে। গ্যাসের অভাবে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে ব্যাপকভাবে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ নেই, ফিরে এসেছে মাটির চুলা। গ্যাস সংকটে বিদ্যুতের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাবে গত সপ্তাহেই রেকর্ড লোডশেডিংয়ের সাক্ষী হয়েছে দেশ।
এর আগেই জ্বালানি তেলের সংকটের মুখেও পড়তে হয়েছে দেশকে। সারা দেশেই সে সময় ফুয়েল স্টেশনগুলো ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গোপনে দ্বিগুণ, তিনগুণ দামে বিক্রি হয়েছে তেল। সরকার শুরুতে ‘না’ বললেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।
অধ্যাক শামসুলের মূল্যায়ন, সরকার সার্বিকভাবে জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ‘প্যারাসিটামল ব্যবস্থা’র মতো সাময়িক সমাধানের পথে হেঁটেছে, স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
বিদ্যুৎ খাতে এমনিতেই বছরে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন অধ্যাপক শামসুল আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ নির্ধারণ বা জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের প্রাক্কলন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর মূল্যায়ন, পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আরও অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ বাকি রয়ে গেছে। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান সাফল্য হলো নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে গুছিয়ে আনা। তবে বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো— অনেক জায়গায় মব ভায়োলেন্সের সময় পুলিশ সশরীরে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নীরব দর্শকের মতো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নও এখনো বাকি।’
স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএসের তথ্য, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অন্তত ১৩২টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৭১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু মার্চ-এপ্রিলেই ৬৯টি ঘটনায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। মার্চে সিলেটে বাউল গানের আসরে হামলা, ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা এই সময়ের আলোচিত দৃষ্টান্ত।
এদিকে গত কয়েক মাসে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের একাধিক জায়গায় বোমা কিংবা বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঠিক এক সপ্তাহ আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা, সুনির্দিষ্টভাবে আল-কায়েদার ‘সেল’ গঠনের মাধ্যমে তৎপরতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্য বলেছে, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।
এ বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইশফাক ইলাহী। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ও পরে জামিনে মুক্ত হওয়া জঙ্গি সদস্যদের কাছে এখনো অস্ত্র রয়ে গেছে। বিশেষত আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএসের সক্রিয়তা একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের অনেক ঘটনাকেই সরকারের সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।’
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারি ১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী চলার কথা। কিন্তু এই কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ ঘিরে আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে একাধিক জেলায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিয়োগ ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা দরজায় লাথি মারে ও চেয়ার-ফুলদানি ভাঙচুর করে। গাইবান্ধার ফুলছড়িতেও একই অভিযোগে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জেলার আরও তিন উপজেলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়।
অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এই প্রবণতাকে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ‘ক্ষমতার স্বাদ নেওয়ার একধরনের বেপরোয়া ও বিশৃঙ্খল মনস্তাত্ত্বিক ভাব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তার অভিমত, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সম্পৃক্ত করা দোষের কিছু নয়, যদি সরকার কঠোর মনিটরিং ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে তা পরিচালনা করে।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন খাতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল। সে অভিযোগকে অবশ্য অস্বীকার করার উপায়ও নেই। সরকার শুরুতেই দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নবনিযুক্ত এসব প্রশাসকের সবাই-ই দলীয় নেতা।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতাদেরই। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাতে দলীয় লোকজন নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও। তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন অনেকেই।
সরকার অবশ্য সরকারি চাকরিসহ সব ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি করেছে।
শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমকে সরাসরি ‘সফলতা’ বা ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে বিচার করতে রাজি নন। তার মূল্যায়ন, দীর্ঘদিন অগ্রাধিকার থেকে বিচ্যুত হয়ে থাকা শিক্ষা খাতকে ফিরিয়ে আনার একটি চেষ্টা এই সরকারের আমলে দেখা গেছে, যার প্রতিফলন বাজেটে প্রায় ৩ শতাংশ বরাদ্দ এবং তিন ধাপে ১২টি নীতিগত সংস্কারের রোডম্যাপ। ইএফটির মাধ্যমে স্বচ্ছ উপবৃত্তি বিতরণ এবং ২০০২ সাল থেকে বন্ধ থাকা লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর পেনশনের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগকে তিনি বিশেষভাবে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চাকে শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা, বিশেষত সংগীত শিক্ষক পদ পুনর্বহাল ও ‘নতুন কুঁড়ি’ ফিরিয়ে আনাকে ইতিবাচক মনে করছেন রাশেদা কে চৌধূরী। তার ভাষায়, ‘মায়েরাই বলছেন, তাদের সন্তানের ডিভাইস আসক্তি এখন কমে গেছে, যেহেতু সে গান-বাজনা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে।’
সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততার অভাব সরকারের রয়েছে বলেও মনে করেন রাশেদা কে চৌধূরী। দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ঝড়-বৃষ্টি-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের হাঁটু পানিতে নেমে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনাকে, যেখানে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বদলে পরে সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাপক ভুগ হয়েছে, যা শিক্ষা খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করেন তিনি।
তবে শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে রাশেদা কে চৌধূরী সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচনা করেছেন তাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি আইনি কাঠামোবদ্ধ স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন প্রসঙ্গে। রাজনীতি ডটকমে বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার আগে বিভিন্ন সম্মেলনে এই কমিশনের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু এই কমিশন গঠনের কোনো আলামত আমরা দেখছি না।

আজ ১৭ আগস্ট, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো। এই ছয় মাসে সরকারের নিজস্ব হিসাবে উন্নয়নের তালিকা লম্বা, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে অগ্রগতিও দৃশ্যমান। সরকার বলছে, এই ছয় মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বলেই দাবি সরকারের।
তবে একই সময়ে নানা ইস্যু নিয়ে সরকারকে প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে। জ্বালানি সংকটের জের ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ধারাবাহিক মব সহিংসতাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজস্ব আদায়ে গতি নেই। শিক্ষা ও আর্থিক খাতেও সরকারে কিছু সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থানও সম্পূর্ণ মুখোমুখি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু কিছু খাতে সরকারের নানা উদ্যোগে সাফল্য মিললেও এখনো বহু পথ হাঁটার বাকি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী যেমন রেমিট্যান্সের প্রভাবে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়া ও মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে এখনো সরকারের পদক্ষেপ খুব একটা দৃশ্যমান বলে মনে করছেন না তিনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘আগের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল’ মনে করলেও ‘সামনে আরও অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ বাকি রয়ে গেছে’ বলে মূল্যায়ন করেছেন।
শিক্ষাবিদ ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী কাছে শিক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচক মনে হলেও এখনো স্থায়ী একটি শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গত মাসখানে সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা জ্বালানি খাতের সঙ্গে ইরান যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক প্রভাব সম্পর্কিত হলেও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সংকট মোকাবিলায় সাময়িক সমাধানের পথ বেছে নিলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।

তবে সার্বিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে সরকারকে বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি বলেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
ছয় মাস পরের চিত্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে গত সপ্তাহেই দেশ সাক্ষী হয়েছে ইতিহাসের রেকর্ড লোডশেডিংয়ের। ছয় মাসে বিভিন্ন সময়ে মাজার ভাঙাসহ মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে নিয়মিত। ছাত্র সংগঠনগুলোসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সংঘর্ষ ঘটেছে দফায় দফায়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার যে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র হাতে পেয়েছিল, তা ছিল ভঙ্গুর ও রূপান্তরের মধ্যবর্তী অবস্থায়। ফেব্রুয়ারির প্রথম কার্যদিবসেই সরকার আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল করাকে তাদের অগ্রাধিকার ঘোষণা করে। রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তাও দেয়। সরকার ও বিরোধী দল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে যাবে— এমন প্রত্যয় জানায় সরকার।
জুলাই সনদ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে গৃহীত রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা। নতুন সরকারের সামনে দায় ছিল এই সনদ বাস্তবায়নের। তবে সরকারের যাত্রা শুরুর পর থেকেই এই সনদ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর বিরোধ চরমে ঠেকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই সনদের গণভোট। তাকে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়। সনদ অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে এই সনদ বাস্তবায়নে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সংসদ সদস্যদের শপথের দিন বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সরকার বলছে, তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেটিই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। সই হওয়া ওই সনদে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ছিল না বলেই তারা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তবে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার, তাতে বিরোধী দলকেও পাঁচজন সদস্য দিতে বলা হয়েছে। তবে বিরোধী দল এখনো ওই কমিটির জন্য কারও নাম জমা দেয়নি। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কারের দাবিতেই অনড়।
সংবিধান সংশোধনসহ নানা ইস্যুতেই সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। এদিকে মাঠের রাজনীতিতেও বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সংঘাত ঘটেছে বিভিন্ন জায়গাতেই। দুই ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যেই অন্তত দুই দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে সারা দেশে।
নির্বাচনের মতো সংসদ শুরুর পরও জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলো ১১ দলীয় ঐক্য হিসেবেই রাজনীতির মাঠে কর্মসূচি পালন করছে। বিরোধী দলীয় এই জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে এরই মধ্যে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ‘সরকার পতনের’ আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ৪টি লংমার্চের পাশাপাশি নভেম্বরে ঢাকায় ডাক দেওয়া হয়েছে মহাসমাবেশের।
বিরোধী দলগুলোর শুরু থেকেই জোটবদ্ধ ফরম্যাটে কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করাকে এই সময়ের একমাত্র বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন বলে মনে করছেন
ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ। তবে তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এখনো হয়ে উঠতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই ছয় মাসে সরকার রাজনৈতিকভাবে খুব বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মনে হয় না।’
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন নিয়ে অধ্যাপক সাব্বির বলেন, ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ধরনের পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, বিশেষ করে জুলাই সনদ যদি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে হয়তো কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেত।’ বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে রাখা বা পদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপের মধ্যেও নতুনত্ব কিছু খুঁজে পাননি তিনি।

গত ছয় মাসের সবচেয়ে বড় ঘটনাপ্রবাহ জড়িয়ে আছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণেরও আগের ঘটনা হলেও তার প্রভাব পুরো ছয় মাস জুড়ে বিস্তৃত।
বাংলাদেশ এই রায়ের ভিত্তিতে ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও উত্তেজনার একটি বড় উৎস। দিল্লিতে হাসিনার সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ভারত ‘হাসিনা কার্ড খেলে’ বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও রাখতে পারে না, কারণ দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ছিল বাংলাদেশ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অবশ্য ছয় মাসে সে সম্পর্ক ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। বিএনপি দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারত সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তারেক রহমানকে। সামনের সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
এর মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করে, এ সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যেতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তবে শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবশেষ বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ নেই।
এদিকে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরই প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়াকে রীতি বানিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে এবার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নেন মালয়েশিয়াকে, সেখান থেকেই যান চীনে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার নতুন করে খোলার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে অনেকটাই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎসহ দেশটির সঙ্গে বিভিন্ন খাতের ১৭ সমঝোতা স্মারক সইকেও সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারত কী করবে, তার ওপর দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা নির্ভর করবে। এর বিপরীতে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সরকারের উদ্যোগ ভারতকেও চাপে রাখতে সহায়তা করতে পারে সরকারকে।
যাত্রা শুরুর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে সরকার। গত ১০ মার্চ এই কার্ডের পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একমাস পর বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন তথা পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) চালু করা হয় ‘কৃষক কার্ড’।
এর মধ্যে মার্চেই ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু করা হয় ‘ক্রীড়া কার্ড’। চলতি আগস্টের মধ্যেই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর কথা রয়েছে। পাইপলাইনে রয়েছে ‘ই-হেলথ কার্ড’। এমন আরও বেশকিছু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সাধারণভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে’ বলে উল্লেখ করলেও এগুলো সাধারণ পরিবারে বাস্তবিক কী সুফল দেবে, তা মূল্যায়ন করে দেখার তাগিদ দিয়েছেন অধ্যাপক সাব্বির।
অর্থনৈতিক সূচকগুলোতেই গত ছয় মাসের সবচেয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি চোখে পড়ে বলে মনে করছেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন সিদ্দিকী। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘এই ছয় মাসের মধ্যে সরকারের অন্যতম বড় ও দৃশ্যমান সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের অভূতপূর্ব বৃদ্ধিকে। এর ফলে রিজার্ভ বেড়েছে। এ ছাড়া এই ছয় মাসে মূল্যস্ফীতিও কমতে শুরু করেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা এই উল্লম্ফনের কারণ হিসেবে হুন্ডির বিরুদ্ধে কড়াকড়ি ও ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছেন।
রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রভাব পড়েছে রিজার্ভেও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে যার পরিমাণ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। জুলাই মাস শেষে রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম৬ পদ্ধতিতেও ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
মূল্যস্ফীতিতেও স্বস্তির লক্ষ্মণ দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ জুলাই মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরের পরে সর্বনিম্ন।
খাতা-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে তা স্বস্তি দিচ্ছে না সাধারণ ক্রেতাদের। অধ্যাপক শাহাদাত সিদ্দিকীও সতর্ক করে বলেন, ‘বিবিএসের সাড়ে সাত শ পণ্যের গড় সূচক কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও নিম্নআয়ের মানুষের নিত্যপণ্যের ঝুড়িতে উচ্চমূল্যের কারণে বাস্তব অস্বস্তি এখনো কাটেনি।’
অধ্যাপক শাহাদাত সিদ্দিকীর মতে, সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে কর্মসংস্থান প্রশ্নে। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশে কর্মসংস্থান তৈরি বা নতুন চাকরির বাজার তৈরির ক্ষেত্রে এখনো দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।’
জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ছে না বলে মন্তব্য অধ্যাপক শাহাদাতের। বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তার মূল্যায়ন, প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকারকে ব্যাপকভাবে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে, যা মূল্যস্ফীতিকে ফের উসকে দিতে পারে।
সরকারের দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নের একটি নতুন কৌশলপত্র প্রণয়ন, যেখানে সৌরশক্তি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য ও জাতীয় গ্রিডের অন্তত ২০ শতাংশ চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এই উদ্যোগকে ‘উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসাযোগ্য’ বলে স্বীকার করেছেন। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই প্রতি ইউনিট ৭ টাকায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে এবং একইসঙ্গে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।’ তবে এই কৌশলপত্র এখনো মূলত কাগুজে অঙ্গীকার, ফলে তা কতটা বাস্তবায়ন হবে তা সময়ই বলে দেবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারকে এলপিজি সংকট ও ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে তরল জ্বালানি আমদানিতে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ জুড়ে রীতিমতো এলএনজি সংকট শুরু হয়েছে। গ্যাসের অভাবে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে ব্যাপকভাবে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ নেই, ফিরে এসেছে মাটির চুলা। গ্যাস সংকটে বিদ্যুতের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাবে গত সপ্তাহেই রেকর্ড লোডশেডিংয়ের সাক্ষী হয়েছে দেশ।
এর আগেই জ্বালানি তেলের সংকটের মুখেও পড়তে হয়েছে দেশকে। সারা দেশেই সে সময় ফুয়েল স্টেশনগুলো ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গোপনে দ্বিগুণ, তিনগুণ দামে বিক্রি হয়েছে তেল। সরকার শুরুতে ‘না’ বললেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।
অধ্যাক শামসুলের মূল্যায়ন, সরকার সার্বিকভাবে জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় ‘প্যারাসিটামল ব্যবস্থা’র মতো সাময়িক সমাধানের পথে হেঁটেছে, স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
বিদ্যুৎ খাতে এমনিতেই বছরে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও সরকারের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন অধ্যাপক শামসুল আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ নির্ধারণ বা জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তি নিয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের প্রাক্কলন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর মূল্যায়ন, পরিস্থিতি আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল হলেও আরও অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ বাকি রয়ে গেছে। রাজনীতি ডটকমকে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান সাফল্য হলো নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে গুছিয়ে আনা। তবে বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো— অনেক জায়গায় মব ভায়োলেন্সের সময় পুলিশ সশরীরে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও নীরব দর্শকের মতো নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নও এখনো বাকি।’
স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএসের তথ্য, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অন্তত ১৩২টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৭১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু মার্চ-এপ্রিলেই ৬৯টি ঘটনায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। মার্চে সিলেটে বাউল গানের আসরে হামলা, ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা এই সময়ের আলোচিত দৃষ্টান্ত।
এদিকে গত কয়েক মাসে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের একাধিক জায়গায় বোমা কিংবা বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঠিক এক সপ্তাহ আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা, সুনির্দিষ্টভাবে আল-কায়েদার ‘সেল’ গঠনের মাধ্যমে তৎপরতা বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্য বলেছে, তাদের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।
এ বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইশফাক ইলাহী। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ও পরে জামিনে মুক্ত হওয়া জঙ্গি সদস্যদের কাছে এখনো অস্ত্র রয়ে গেছে। বিশেষত আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএসের সক্রিয়তা একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ের অনেক ঘটনাকেই সরকারের সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।’
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য চালু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারি ১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী চলার কথা। কিন্তু এই কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ ঘিরে আগস্টের প্রথম দুই সপ্তাহে একাধিক জেলায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় নিয়োগ ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা দরজায় লাথি মারে ও চেয়ার-ফুলদানি ভাঙচুর করে। গাইবান্ধার ফুলছড়িতেও একই অভিযোগে ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জেলার আরও তিন উপজেলায় বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়।
অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এই প্রবণতাকে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ‘ক্ষমতার স্বাদ নেওয়ার একধরনের বেপরোয়া ও বিশৃঙ্খল মনস্তাত্ত্বিক ভাব’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তার অভিমত, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সম্পৃক্ত করা দোষের কিছু নয়, যদি সরকার কঠোর মনিটরিং ও সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে তা পরিচালনা করে।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন খাতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল। সে অভিযোগকে অবশ্য অস্বীকার করার উপায়ও নেই। সরকার শুরুতেই দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নবনিযুক্ত এসব প্রশাসকের সবাই-ই দলীয় নেতা।
পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতাদেরই। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাতে দলীয় লোকজন নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও। তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন অনেকেই।
সরকার অবশ্য সরকারি চাকরিসহ সব ধরনের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি করেছে।
শিক্ষাবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমকে সরাসরি ‘সফলতা’ বা ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে বিচার করতে রাজি নন। তার মূল্যায়ন, দীর্ঘদিন অগ্রাধিকার থেকে বিচ্যুত হয়ে থাকা শিক্ষা খাতকে ফিরিয়ে আনার একটি চেষ্টা এই সরকারের আমলে দেখা গেছে, যার প্রতিফলন বাজেটে প্রায় ৩ শতাংশ বরাদ্দ এবং তিন ধাপে ১২টি নীতিগত সংস্কারের রোডম্যাপ। ইএফটির মাধ্যমে স্বচ্ছ উপবৃত্তি বিতরণ এবং ২০০২ সাল থেকে বন্ধ থাকা লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর পেনশনের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগকে তিনি বিশেষভাবে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চাকে শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা, বিশেষত সংগীত শিক্ষক পদ পুনর্বহাল ও ‘নতুন কুঁড়ি’ ফিরিয়ে আনাকে ইতিবাচক মনে করছেন রাশেদা কে চৌধূরী। তার ভাষায়, ‘মায়েরাই বলছেন, তাদের সন্তানের ডিভাইস আসক্তি এখন কমে গেছে, যেহেতু সে গান-বাজনা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে।’
সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততার অভাব সরকারের রয়েছে বলেও মনে করেন রাশেদা কে চৌধূরী। দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ঝড়-বৃষ্টি-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের হাঁটু পানিতে নেমে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনাকে, যেখানে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের বদলে পরে সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাপক ভুগ হয়েছে, যা শিক্ষা খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করেন তিনি।
তবে শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে রাশেদা কে চৌধূরী সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচনা করেছেন তাদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি আইনি কাঠামোবদ্ধ স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন প্রসঙ্গে। রাজনীতি ডটকমে বলেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার আগে বিভিন্ন সম্মেলনে এই কমিশনের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু এই কমিশন গঠনের কোনো আলামত আমরা দেখছি না।

বক্তব্যে বিরোধী দলের কাছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সমাধানের প্রস্তাবনা আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বিরোধী দল তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান দিলে সরকার তা গ্রহণ করবে। তবে বিরোধী দল যদি তা না পারে, তাহলে বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করার জন্য তাদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের।
২ দিন আগে
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় বিএনপি মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এখন রিজভীই রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে। দীর্ঘদিনের এমন একজন ত্যাগী নেতার দলের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীর
২ দিন আগে
আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের গেজেটভুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে অনেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আবার বঞ্চিতদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ফ্যাসিবাদী শক্তি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বিএনপির অনেক লোককে বাদ দিয়েছে। আমরা তাদের মূল্যায়ন করব।
২ দিন আগে
এই চারজনের মধ্যে রয়েছেন বহুল পরিচিত মুখ দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান। রয়েছেন চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম (ডোনার) এবং মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
২ দিন আগে