
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বৈরুত-তেল আবিব যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, নিজেদের লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর প্রতি আবারও প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, চার মাস ধরে চলা এই আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে প্রধান শর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর দুই দিন পর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তেহরানের সমর্থনে তারা এই পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লেবানিজ টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল মায়াদিন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাত থামবে না।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীকে অবশ্যই তাদের দখল করা সমস্ত ভূখণ্ড থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।’
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত ছিল না এবং হিজবুল্লাহকেও সেই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেল আবিব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সেখানে তাদের সামরিক অভিযানও স্থগিত করবে না।

শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর দুটি বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এর মধ্যে সম্প্রতি ইসরায়েলের দখলে নেওয়া ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছের একটি হামলাও রয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
যুদ্ধবিরতির খাতা কলমে, মাঠে পালটাপালটি হামলা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মহসেন রেজাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধে হিজবুল্লাহ বিশাল আত্মত্যাগ করেছে এবং তারা আমাদের প্রধান মিত্র। সুতরাং, আমরা হিজবুল্লাহর পাশে আছি এবং তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘মেহরে’র বরাত দিয়ে রেজাই ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে পুনরায় হামলা চালানোর যে হুমকি ইসরায়েল দিচ্ছে, তার পরিণতি ভালো হবে না। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এই পাপিষ্ঠ সরকারকে আবারও সতর্ক করছি যেন তারা লেবানন ত্যাগ করে। তাদের জানা উচিত, যেকোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে লেবানন।’

অন্যদিকে, লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহর মিত্র নাবিহ বেরি শুক্রবার জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী যদি একই সঙ্গে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যায়, তবে তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে সম্মত আছেন।
তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই নিয়ে ভিন্ন সুরও দেখা গেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, ইরান তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে লেবাননকে ‘দাবার গুটি’ বানাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রয়টার্স বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলোকে ট্রাম্প নিজেই পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ না বলে ‘তুলনামূলক কম মাত্রায় গোলাগুলি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। আর এই কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে লেবানন, গাজা, উত্তর ইসরায়েল এবং কুয়েতের সাধারণ বাসিন্দাদের রকেট ও বিমান হামলার নিচে দিন কাটাতে হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তারা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন বাহিনী সেখানে ‘সামুদ্রিক হয়রানি এবং বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ে’র চেষ্টা করছিল। এর আগে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে এবং ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়া যেকোনো জাহাজকে তারা অবরুদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘ইরানি বাহিনী মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে কোনো আক্রমণ বা গুলি চালায়নি। এমন কিছু করা হলে তা সরাসরি যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হতো।’
এদিকে ওমানের ‘মিনা আল ফাহাল’ তেল টার্মিনালে একটি ড্রোন হামলার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাময়িকভাবে তেল লোডিং বন্ধ রাখতে হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সেখানে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পালটাপালটি শর্তে ঝুলে আছে সমঝোতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর, তেহরান পালটা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের তুলনায় খুবই কমে এসেছে। অথচ বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুট দিয়েই সরবরাহ করা হতো। এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং সামগ্রিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) শুক্রবার জানিয়েছে, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এই যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মূলত পরোক্ষ আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাই এখন তাদের লক্ষ্য, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলোকে ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান চাচ্ছে— তাদের আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেলের রাজস্বের ছাড়, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশে একটি ‘অজনপ্রিয় যুদ্ধ’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
তবে ইরানের এই অবস্থানকে আরও কঠোরভাবে তুলে ধরে দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবাই শুক্রবার বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের আইনগত অধিকার। তিনি মন্তব্য করেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে বুঝতেই পারেননি যে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমাটি কোনো অস্ত্র নয়, সেটি হলো হরমুজ প্রণালি’।”
রাজনীতি/আইআর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বৈরুত-তেল আবিব যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর, নিজেদের লেবানিজ মিত্র হিজবুল্লাহর প্রতি আবারও প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, চার মাস ধরে চলা এই আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে প্রধান শর্ত হিসেবে জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর দুই দিন পর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তেহরানের সমর্থনে তারা এই পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লেবানিজ টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল মায়াদিন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই সংঘাত থামবে না।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীকে অবশ্যই তাদের দখল করা সমস্ত ভূখণ্ড থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে।’
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই চুক্তিতে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত ছিল না এবং হিজবুল্লাহকেও সেই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের বিমান ও স্থল হামলা অব্যাহত রেখেছে। তেল আবিব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না এবং সেখানে তাদের সামরিক অভিযানও স্থগিত করবে না।

শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর দুটি বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এর মধ্যে সম্প্রতি ইসরায়েলের দখলে নেওয়া ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গের কাছের একটি হামলাও রয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
যুদ্ধবিরতির খাতা কলমে, মাঠে পালটাপালটি হামলা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মহসেন রেজাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রতিক যুদ্ধে হিজবুল্লাহ বিশাল আত্মত্যাগ করেছে এবং তারা আমাদের প্রধান মিত্র। সুতরাং, আমরা হিজবুল্লাহর পাশে আছি এবং তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘মেহরে’র বরাত দিয়ে রেজাই ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে পুনরায় হামলা চালানোর যে হুমকি ইসরায়েল দিচ্ছে, তার পরিণতি ভালো হবে না। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এই পাপিষ্ঠ সরকারকে আবারও সতর্ক করছি যেন তারা লেবানন ত্যাগ করে। তাদের জানা উচিত, যেকোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে লেবানন।’

অন্যদিকে, লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহর মিত্র নাবিহ বেরি শুক্রবার জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী যদি একই সঙ্গে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যায়, তবে তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সরিয়ে নিতে সম্মত আছেন।
তবে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই নিয়ে ভিন্ন সুরও দেখা গেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, ইরান তাদের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে লেবাননকে ‘দাবার গুটি’ বানাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রয়টার্স বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলোকে ট্রাম্প নিজেই পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ না বলে ‘তুলনামূলক কম মাত্রায় গোলাগুলি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। আর এই কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই চলতি সপ্তাহে লেবানন, গাজা, উত্তর ইসরায়েল এবং কুয়েতের সাধারণ বাসিন্দাদের রকেট ও বিমান হামলার নিচে দিন কাটাতে হয়েছে।
শুক্রবার ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তারা সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তেহরানের দাবি, মার্কিন বাহিনী সেখানে ‘সামুদ্রিক হয়রানি এবং বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ে’র চেষ্টা করছিল। এর আগে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে এবং ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়া যেকোনো জাহাজকে তারা অবরুদ্ধ করা অব্যাহত রাখবে।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘ইরানি বাহিনী মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে কোনো আক্রমণ বা গুলি চালায়নি। এমন কিছু করা হলে তা সরাসরি যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হতো।’
এদিকে ওমানের ‘মিনা আল ফাহাল’ তেল টার্মিনালে একটি ড্রোন হামলার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাময়িকভাবে তেল লোডিং বন্ধ রাখতে হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সেখানে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পালটাপালটি শর্তে ঝুলে আছে সমঝোতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর, তেহরান পালটা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়।
বর্তমানে এই নৌপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের তুলনায় খুবই কমে এসেছে। অথচ বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই রুট দিয়েই সরবরাহ করা হতো। এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং সামগ্রিক সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) শুক্রবার জানিয়েছে, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এই যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মূলত পরোক্ষ আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাই এখন তাদের লক্ষ্য, যেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলোকে ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তুলে রাখা হচ্ছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান চাচ্ছে— তাদের আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তেলের রাজস্বের ছাড়, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশে একটি ‘অজনপ্রিয় যুদ্ধ’ নিয়ে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
তবে ইরানের এই অবস্থানকে আরও কঠোরভাবে তুলে ধরে দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবাই শুক্রবার বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের আইনগত অধিকার। তিনি মন্তব্য করেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প আসলে বুঝতেই পারেননি যে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমাটি কোনো অস্ত্র নয়, সেটি হলো হরমুজ প্রণালি’।”
রাজনীতি/আইআর

এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত বা বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি উল্লেখ করে সেন্টকম জানায়, পর্দার আড়ালে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক এই মুখোমুখি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আবারও চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
মার্কিন সূত্র জানায়, ওই ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারির উদ্দেশ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। বর্তমানে অঞ্চলটিতে উত্তেজনার কারণে প্রণালির স্বাভাব
৭ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্দেশে লেখা এই চিঠিতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই খোলা চিঠি নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
১৭ ঘণ্টা আগে
নাইজারের উত্তরাঞ্চলে সাহারা মরুভূমির এক প্রত্যন্ত এলাকায় একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ার পর তীব্র তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে মাত্র দুইজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে