
বিবিসি বাংলা

ইরানে দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভের ১৪তম দিনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী একটি কঠোর ভাষার বিবৃতি দিয়েছে।
সেখানে তারা কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েল ও "সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো" মিলেই জননিরাপত্তা ভেঙে দেওয়ার "ষড়যন্ত্র" করছে।
বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা "জাতীয় স্বার্থ, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পদ" রক্ষায় "অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর" সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।
এই বিবৃতির অর্থ কি সেনাবাহিনী রাস্তায় নামবে?
সেনাবাহিনী তাদের এই সাম্প্রতিক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, "অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীকে" কিভাবে সহযোগিতা করবে- সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।
সেটা বোঝার জন্য অতীতে গণ আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ধরন পর্যালোচনা করা যেতে পারে, যাতে ধারণা পাওয়া যায় এই সহযোগিতা কীভাবে বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ইরানের রাজপথে জনবিক্ষোভ চলাকালে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ওই বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিক্ষোভ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি জানান, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী "পরিবহন, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য" সহায়তা দিতে ভূমিকা পালন করেছিল।
হাসান রুহানির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাবাহিনীর লজিস্টিক সহায়তার কথা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি এই বাহিনীর সশস্ত্র ইউনিটগুলোর কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "যখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত জনবল থাকে না, তখন আমরা সংবেদনশীল স্থান ও এলাকা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দেই, যাতে পুলিশ বাহিনী অন্যান্য জায়গায় কাজ করতে পারে।"
এই বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের মূল কারণ ছিল "জনবলের ঘাটতি"।
তাদের দায়িত্ব ছিল "সংবেদনশীল স্থান ও এলাকা রক্ষা করা", যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় নিয়োজিত হতে পারে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কৌশলগত স্থাপনা ও সরকারি সম্পদ" রক্ষার জন্য তারা "অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীকে" সাহায্য করবে।
এর মানে হতে পারে সেনাবাহিনী আগে সংবেদনশীল স্থাপনা ও সরকারি ভবনগুলো রক্ষা করবে, তারপর নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় নামবে।
এই ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের মতোই সংবেদনশীল স্থানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পেছনে মূল কারণ হতে পারে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং তাদের সরকারি স্থাপনাগুলোর দুর্বলতা।
এসব সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে এর একটি অংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব যদি সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়, তাহলে বাস্তব অর্থেই রাস্তায় মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কি স্বাভাবিক ঘটনা?
গণবিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীকে সরাসরি ব্যবহার করা ইরানি সরকারের "স্বাভাবিক" চর্চা বলে মনে হলেও আসলে তা নয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভ যখন শেষের দিকে- যে বিক্ষোভ প্রথমবারের মতো ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই বিক্ষোভ দমনে পুলিশকে সাহায্য করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী।
তবে বাস্তবে তারা সহায়তা করেছে কিনা, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সে সময় সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি পুলিশ বাহিনীর তৎকালীন প্রধান হোসেইন আশতারিকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, "যদি প্রয়োজন হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী কমরেডরা তোমাদের গর্বিত পুলিশ বাহিনীর বীরদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে। তাদের মুখোমুখি দাঁড়াবে যারা শয়তানের দ্বারা বিভ্রান্ত।"
ওই বার্তায় আরও বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী "ঘোষিত যেকোনো অভিযান বাস্তবায়নে" সেনাবাহিনী "পুরোপুরি প্রস্তুত" রয়েছে।
সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের বার্তাকে অনেকেই এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সেনাবাহিনী বিক্ষোভ দমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। তবে সে সময় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি এমন হস্তক্ষেপকে প্রয়োজনীয় মনে করেননি।
অন্যদিকে, পার্সিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৪০১ সালের (খ্রিষ্টীয় ২০২২ সালের মার্চ) বিক্ষোভ চলাকালে সেনা কমান্ডাররা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দেখা যায়।
আন্দোলন শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদোলরহিম মুসাভি বলেন, "সশস্ত্র বাহিনী একে অপরকে সমর্থন করে।"
তিনি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে "হিসাব চুকিয়ে নেওয়ার" হুমকি দেন।
কিছু সময় পর সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর তৎকালীন কমান্ডার কিওমার্স হেইদারি বিক্ষোভকারীদের "মাছি" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, আলি খামেনি যদি "আঘাত হানার নির্দেশ দেন", তাহলে "এই দেশে তাদের আর কোনো জায়গা থাকবে না।"
তবে ওই সময় সেনাবাহিনী সরাসরি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করেছে, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও বিক্ষোভের শুরুতে সরকারপক্ষীয় কিছু গণমাধ্যম জানায়, স্থলবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট মুসলিম জাভিদি মেহর "দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাহায্য করার সময়" নিহত হয়েছেন।
কীভাবে ওই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি যদি সত্যিই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেটিকে ১৪০১ সালের বিক্ষোভে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের একটি প্রাথমিক বা সীমিত ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ২০০৯ সালের বিক্ষোভ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজধানী তেহরানে সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের জুলাইয়ে, তৎকালীন সময়ে বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল গণমাধ্যমকর্মী হাসান আব্বাসি সেনাবাহিনীকে এমন একটি বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, "যারা নিজেদের ব্যারাকে নীরব থাকে, আর যদি এই দেশ দখলও করে নেয়, তবু কোনো শব্দ করে না।"
অল্প কয়েকজন শ্রোতাদের সামনে দেওয়া এই বিতর্কিত বক্তব্যটি কয়েক বছর পর, ২০১৬ সালের অগাস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং তা সেনা কমান্ডারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
তবে তাদের কোনো বক্তব্যেই ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এই প্রতিক্রিয়াগুলোর একটিতে তৎকালীন স্থলবাহিনী প্রধান আহমদ রেজা পুরদাস্তান বলেন, হাসান আব্বাসির মন্তব্য "সংস্থা ও বাহিনীগুলোর দায়িত্ব ও মিশন সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা ছাড়াই করা হয়েছে।"
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সে সময় পর্যন্ত রাস্তায় নামা বা বিক্ষোভ দমনে অংশ নেওয়াকে সেনাবাহিনী তাদের "মিশনের" অংশ হিসেবে বিবেচনা করত না।
বর্তমান আইন কি রাজপথে সেনাবাহিনী ব্যবহারের অনুমতি দেয়?
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবিধানের ১৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং শাসনব্যবস্থা রক্ষা করা।"
এই নীতির আলোকে দেখা যায়, শুধু বহুল আলোচিত "ভৌগোলিক অখণ্ডতা" রক্ষাই নয়, বরং "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা" রক্ষা করাও সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এর ভিত্তিতে বলা যায়, সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এমনভাবে তা তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার" বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
যেহেতু ইরানি সরকার রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের তাদের শাসন ব্যবস্থার শত্রু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, তাই প্রয়োজনের সময়ে তাদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকা সরকার অবশ্যম্ভাবীভাবে বৈধ বলে মনে করে।
সংবিধানের ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দায়িত্ব হলো "বিপ্লব ও তার অর্জনসমূহ রক্ষা করা।"
ফলে আইআরজিসির জন্য নির্ধারিত "বিপ্লব ও তার অর্জন রক্ষা" করার দায়িত্বটি, অন্তত দেশের অভ্যন্তরে, সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা রক্ষা" করার দায়িত্ব থেকে খুব একটা আলাদা নয়।
অন্যভাবে বললে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসকরা যদি চান যে সেনাবাহিনীও আইআরজিসির মতো রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সক্রিয়ভাবে জড়িত হোক, তাহলে সংবিধানের ১৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং "শাসনব্যবস্থা রক্ষার" দায়িত্বের দোহাই দিয়ে তারা সহজেই এমন হস্তক্ষেপকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
তবে বাস্তবে, শাসকদের মধ্যে কখনোই এমন ইচ্ছা ছিল না।
রাস্তায় সেনাবাহিনী ব্যবহারের বিষয়ে কি সরকার উদ্বিগ্ন?
ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা বরাবরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সেনাবাহিনীকে একটি সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।
তবে বাস্তবে বর্তমান সেনাবাহিনীকে, উদাহরণ হিসেবে, ইরান-ইরাক যুদ্ধকালীন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
যেখানে বহু কর্মকর্তা ও নন-কমিশন্ড অফিসার পাহলভি আমলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন।
এ কথাও ভুলে যাওয়ার উপায় নেই যে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের ৪৭ বছর পর বিপ্লবের আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় কেউই আর বাহিনীতে নেই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা অবসরপ্রাপ্ত।
অর্থাৎ, হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিকে বাদ দিলে, সেনাবাহিনীর প্রায় সব কর্মকর্তা ও নন-কমিশন্ড অফিসারই ইসলামি প্রজাতন্ত্র আমলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং পুরোপুরি আদর্শিকভাবে গড়ে ওঠা।
তবু এসবের পরও মনে হয়, ইরানি সরকার সেনাবাহিনীর ওপর ততটা আস্থা রাখে না, যতটা তারা নিজেদের "বিপ্লবী প্রতিষ্ঠানগুলোর" ওপর রাখে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে দেখা যায় সরকারি প্রচারণায় সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অবস্থানের বিশাল পার্থক্যে, এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সরকারি বর্ণনাতেও।
অন্যদিকে, অসন্তুষ্ট নাগরিকদের চোখে সেনাসদস্যদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি "বিপ্লবী প্রতিষ্ঠানগুলোর" প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক আলাদা।
এই পার্থক্যটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের কড়া কড়া স্লোগানে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড ও বাসিজের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে ধারণা করা যায়, ইরানি শাসকদের দৃষ্টিতে বিক্ষোভরত জনগণকে মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
বিশেষ করে এ কারণে যে, এসব বাহিনী নগরভিত্তিক দমনমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষিত নয় এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সময়ের মতোই এদের একটি বড় অংশ বাধ্যতামূলক সেনা সেবায় নিয়োজিত সৈনিক, যাদের সরকারের প্রতি আনুগত্যের মাত্রা অনিশ্চিত।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, "জনবল সংকট" চরম আকার ধারণ না করলে এবং "সংবেদনশীল স্থান ও এলাকার" পতন নিয়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর উদ্বেগ না থাকলে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহারে আগ্রহী নয়।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সরকারি ভবনে হামলার সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগটি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানে দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভের ১৪তম দিনে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী একটি কঠোর ভাষার বিবৃতি দিয়েছে।
সেখানে তারা কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েল ও "সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো" মিলেই জননিরাপত্তা ভেঙে দেওয়ার "ষড়যন্ত্র" করছে।
বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা "জাতীয় স্বার্থ, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পদ" রক্ষায় "অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর" সঙ্গে একযোগে কাজ করবে।
এই বিবৃতির অর্থ কি সেনাবাহিনী রাস্তায় নামবে?
সেনাবাহিনী তাদের এই সাম্প্রতিক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, "অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীকে" কিভাবে সহযোগিতা করবে- সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।
সেটা বোঝার জন্য অতীতে গণ আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ধরন পর্যালোচনা করা যেতে পারে, যাতে ধারণা পাওয়া যায় এই সহযোগিতা কীভাবে বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
২০১৯ সালের নভেম্বরে ইরানের রাজপথে জনবিক্ষোভ চলাকালে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ওই বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিক্ষোভ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আবদোলরেজা রহমানি ফাজলি জানান, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী "পরিবহন, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য" সহায়তা দিতে ভূমিকা পালন করেছিল।
হাসান রুহানির সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাবাহিনীর লজিস্টিক সহায়তার কথা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি এই বাহিনীর সশস্ত্র ইউনিটগুলোর কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "যখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত জনবল থাকে না, তখন আমরা সংবেদনশীল স্থান ও এলাকা রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দেই, যাতে পুলিশ বাহিনী অন্যান্য জায়গায় কাজ করতে পারে।"
এই বক্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের মূল কারণ ছিল "জনবলের ঘাটতি"।
তাদের দায়িত্ব ছিল "সংবেদনশীল স্থান ও এলাকা রক্ষা করা", যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় নিয়োজিত হতে পারে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কৌশলগত স্থাপনা ও সরকারি সম্পদ" রক্ষার জন্য তারা "অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীকে" সাহায্য করবে।
এর মানে হতে পারে সেনাবাহিনী আগে সংবেদনশীল স্থাপনা ও সরকারি ভবনগুলো রক্ষা করবে, তারপর নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় নামবে।
এই ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের মতোই সংবেদনশীল স্থানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পেছনে মূল কারণ হতে পারে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং তাদের সরকারি স্থাপনাগুলোর দুর্বলতা।
এসব সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে এর একটি অংশের নিরাপত্তার দায়িত্ব যদি সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়, তাহলে বাস্তব অর্থেই রাস্তায় মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কি স্বাভাবিক ঘটনা?
গণবিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীকে সরাসরি ব্যবহার করা ইরানি সরকারের "স্বাভাবিক" চর্চা বলে মনে হলেও আসলে তা নয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভ যখন শেষের দিকে- যে বিক্ষোভ প্রথমবারের মতো ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই বিক্ষোভ দমনে পুলিশকে সাহায্য করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী।
তবে বাস্তবে তারা সহায়তা করেছে কিনা, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সে সময় সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি পুলিশ বাহিনীর তৎকালীন প্রধান হোসেইন আশতারিকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, "যদি প্রয়োজন হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী কমরেডরা তোমাদের গর্বিত পুলিশ বাহিনীর বীরদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে। তাদের মুখোমুখি দাঁড়াবে যারা শয়তানের দ্বারা বিভ্রান্ত।"
ওই বার্তায় আরও বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ অনুযায়ী "ঘোষিত যেকোনো অভিযান বাস্তবায়নে" সেনাবাহিনী "পুরোপুরি প্রস্তুত" রয়েছে।
সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কের বার্তাকে অনেকেই এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সেনাবাহিনী বিক্ষোভ দমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। তবে সে সময় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি এমন হস্তক্ষেপকে প্রয়োজনীয় মনে করেননি।
অন্যদিকে, পার্সিয়ান পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৪০১ সালের (খ্রিষ্টীয় ২০২২ সালের মার্চ) বিক্ষোভ চলাকালে সেনা কমান্ডাররা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দেখা যায়।
আন্দোলন শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদোলরহিম মুসাভি বলেন, "সশস্ত্র বাহিনী একে অপরকে সমর্থন করে।"
তিনি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে "হিসাব চুকিয়ে নেওয়ার" হুমকি দেন।
কিছু সময় পর সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর তৎকালীন কমান্ডার কিওমার্স হেইদারি বিক্ষোভকারীদের "মাছি" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, আলি খামেনি যদি "আঘাত হানার নির্দেশ দেন", তাহলে "এই দেশে তাদের আর কোনো জায়গা থাকবে না।"
তবে ওই সময় সেনাবাহিনী সরাসরি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করেছে, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
যদিও বিক্ষোভের শুরুতে সরকারপক্ষীয় কিছু গণমাধ্যম জানায়, স্থলবাহিনীর এক লেফটেন্যান্ট মুসলিম জাভিদি মেহর "দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাহায্য করার সময়" নিহত হয়েছেন।
কীভাবে ওই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে তিনি যদি সত্যিই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকেন, তাহলে সেটিকে ১৪০১ সালের বিক্ষোভে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের একটি প্রাথমিক বা সীমিত ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে।
অন্যদিকে, ২০০৯ সালের বিক্ষোভ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজধানী তেহরানে সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীকে ব্যবহারের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
২০১০ সালের জুলাইয়ে, তৎকালীন সময়ে বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল গণমাধ্যমকর্মী হাসান আব্বাসি সেনাবাহিনীকে এমন একটি বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, "যারা নিজেদের ব্যারাকে নীরব থাকে, আর যদি এই দেশ দখলও করে নেয়, তবু কোনো শব্দ করে না।"
অল্প কয়েকজন শ্রোতাদের সামনে দেওয়া এই বিতর্কিত বক্তব্যটি কয়েক বছর পর, ২০১৬ সালের অগাস্টে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় এবং তা সেনা কমান্ডারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
তবে তাদের কোনো বক্তব্যেই ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এই প্রতিক্রিয়াগুলোর একটিতে তৎকালীন স্থলবাহিনী প্রধান আহমদ রেজা পুরদাস্তান বলেন, হাসান আব্বাসির মন্তব্য "সংস্থা ও বাহিনীগুলোর দায়িত্ব ও মিশন সম্পর্কে জ্ঞান ও সচেতনতা ছাড়াই করা হয়েছে।"
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, সে সময় পর্যন্ত রাস্তায় নামা বা বিক্ষোভ দমনে অংশ নেওয়াকে সেনাবাহিনী তাদের "মিশনের" অংশ হিসেবে বিবেচনা করত না।
বর্তমান আইন কি রাজপথে সেনাবাহিনী ব্যবহারের অনুমতি দেয়?
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবিধানের ১৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হলো "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং শাসনব্যবস্থা রক্ষা করা।"
এই নীতির আলোকে দেখা যায়, শুধু বহুল আলোচিত "ভৌগোলিক অখণ্ডতা" রক্ষাই নয়, বরং "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা" রক্ষা করাও সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
এর ভিত্তিতে বলা যায়, সংবিধান প্রণয়নের সময় থেকেই এমনভাবে তা তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার" বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
যেহেতু ইরানি সরকার রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের তাদের শাসন ব্যবস্থার শত্রু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, তাই প্রয়োজনের সময়ে তাদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা থাকা সরকার অবশ্যম্ভাবীভাবে বৈধ বলে মনে করে।
সংবিধানের ১৫০ নম্বর অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দায়িত্ব হলো "বিপ্লব ও তার অর্জনসমূহ রক্ষা করা।"
ফলে আইআরজিসির জন্য নির্ধারিত "বিপ্লব ও তার অর্জন রক্ষা" করার দায়িত্বটি, অন্তত দেশের অভ্যন্তরে, সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত "ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা রক্ষা" করার দায়িত্ব থেকে খুব একটা আলাদা নয়।
অন্যভাবে বললে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসকরা যদি চান যে সেনাবাহিনীও আইআরজিসির মতো রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সক্রিয়ভাবে জড়িত হোক, তাহলে সংবিধানের ১৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং "শাসনব্যবস্থা রক্ষার" দায়িত্বের দোহাই দিয়ে তারা সহজেই এমন হস্তক্ষেপকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরতে পারেন।
তবে বাস্তবে, শাসকদের মধ্যে কখনোই এমন ইচ্ছা ছিল না।
রাস্তায় সেনাবাহিনী ব্যবহারের বিষয়ে কি সরকার উদ্বিগ্ন?
ইরানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা বরাবরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সেনাবাহিনীকে একটি সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।
তবে বাস্তবে বর্তমান সেনাবাহিনীকে, উদাহরণ হিসেবে, ইরান-ইরাক যুদ্ধকালীন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
যেখানে বহু কর্মকর্তা ও নন-কমিশন্ড অফিসার পাহলভি আমলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলেন।
এ কথাও ভুলে যাওয়ার উপায় নেই যে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের ৪৭ বছর পর বিপ্লবের আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় কেউই আর বাহিনীতে নেই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা অবসরপ্রাপ্ত।
অর্থাৎ, হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিকে বাদ দিলে, সেনাবাহিনীর প্রায় সব কর্মকর্তা ও নন-কমিশন্ড অফিসারই ইসলামি প্রজাতন্ত্র আমলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং পুরোপুরি আদর্শিকভাবে গড়ে ওঠা।
তবু এসবের পরও মনে হয়, ইরানি সরকার সেনাবাহিনীর ওপর ততটা আস্থা রাখে না, যতটা তারা নিজেদের "বিপ্লবী প্রতিষ্ঠানগুলোর" ওপর রাখে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে দেখা যায় সরকারি প্রচারণায় সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অবস্থানের বিশাল পার্থক্যে, এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সরকারি বর্ণনাতেও।
অন্যদিকে, অসন্তুষ্ট নাগরিকদের চোখে সেনাসদস্যদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি "বিপ্লবী প্রতিষ্ঠানগুলোর" প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক আলাদা।
এই পার্থক্যটি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের কড়া কড়া স্লোগানে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে, বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ড ও বাসিজের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে ধারণা করা যায়, ইরানি শাসকদের দৃষ্টিতে বিক্ষোভরত জনগণকে মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
বিশেষ করে এ কারণে যে, এসব বাহিনী নগরভিত্তিক দমনমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রশিক্ষিত নয় এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের সময়ের মতোই এদের একটি বড় অংশ বাধ্যতামূলক সেনা সেবায় নিয়োজিত সৈনিক, যাদের সরকারের প্রতি আনুগত্যের মাত্রা অনিশ্চিত।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, "জনবল সংকট" চরম আকার ধারণ না করলে এবং "সংবেদনশীল স্থান ও এলাকার" পতন নিয়ে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর উদ্বেগ না থাকলে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহারে আগ্রহী নয়।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সরকারি ভবনে হামলার সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগটি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়া ইরান সরকার বলেছে, তারা ‘যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। একই সঙ্গে তারা ‘আলোচনার পথও খোলা রেখেছে’ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
১৬ ঘণ্টা আগে
চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই প্রথম দেশ হিসেবে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সম্প্রতি মাস্ক নিজে ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের জনগণকে ফ্রিতে স্টারলিংক ইন্টারনেট প্রদান করা হবে। তবে ইরান সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংযোগে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় (মুসলিম) সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি) বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।
১ দিন আগে
নিহত তিন তরুণ হলেন— ১৮/১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ জিবরায়েল মুখতার, ফারহান প্যাটেল ও মুহাম্মদ দানিয়াল আসগর আলী এবং পঞ্চাশোর্ধ ট্যাক্সিচালক মোসরাব আলী।
১ দিন আগে