চুক্তি না হলে ‘ধ্বংস’ করা হতে পারে ইরানকে— জাতিসংঘে বললেন ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে বক্তব্য রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে তিনি ‘ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস’ করার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে— এমন ‘বিশ্বাসে’র কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তার ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধের সম্ভাব্য পরবর্তী পরিণতি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ভাষণের পর দ্বিতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। এর আগে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন— চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে আবার গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করা হবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস করব এবং সেটা দ্রুত করব, তাদের আর কখনো মানুষ ও দেশ ধ্বংস করার সুযোগ না দিয়ে? নাকি তাদের এমন অবস্থায় নিয়ে যাব, যেখান থেকে তাদের বেঁচে থাকার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কোনো আশাই থাকবে না?’

এরপরই অবশ্য তিনি যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলেন। ট্রাম্পের দাবি, আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে। ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তি করব। কারণ, তাদের জন্য সেটা না করার কোনো অর্থ হয় না,’— বলেন তিনি।

তবে নির্বাচনের সঙ্গে তার ইরান নীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, চুক্তির পথে যাওয়া, নাকি আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো— ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার সামনে এমন ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে।

ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না— জাতিসংঘের মঞ্চে আবারও সেই অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প। এ বক্তব্যের পর সম্মেলনকক্ষে সংক্ষিপ্ত করতালির মধ্যে তিনি বলেন, একসময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘দাদাগিরি’ করত, কিন্তু এখন আর সেই অবস্থানে নেই। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা, পরমাণু কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ না করা এবং ‘সন্ত্রাসে’ সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত দেশটির ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা’ কার্যকর করতে হবে।

চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাস পরও ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দূর হয়নি। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরান-সম্পৃক্ত শক্তিগুলোর তৎপরতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিওর ভাষ্য, এমন আলোচনা হলে তার মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।

এআই নিয়ন্ত্রণ নয়, ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ট্রাম্প

ভাষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস যেখানে এআইয়ের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান, ট্রাম্প সেখানে এআইয়ের বিকাশে বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন এআই প্রতিযোগিতায় চীনের চেয়ে অনেক এগিয়ে এবং শিল্পবিপ্লবের চেয়েও বড় হতে পারে— এমন প্রযুক্তির বিকাশ থামানো উচিত হবে না। এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ নামে উল্লেখ করার প্রস্তাবও দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শুধু সুপারইন্টেলিজেন্সকে উৎসাহিত করব। আমরা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করে আটকে রাখব না।’ তবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির ওপর নজর রাখা হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘যে এআই জিতবে, যে সুপারইন্টেলিজেন্স জিতবে, সে-ই জিতবে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প

ভাষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)ও তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। আদালটিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ ও ‘বেপরোয়া’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে এর সদস্য দেশগুলোকে সংস্থাটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তার প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আগের তদন্ত নিয়ে ওয়াশিংটনের বিরোধ রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ‘শেষ করার’ প্রতিশ্রুতি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও নিজের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে দাবি করে তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটবে এবং তা অনেকের ধারণার চেয়েও দ্রুত হতে পারে।

‘আমরা ওই যুদ্ধটিও শেষ করব,’— বলেন ট্রাম্প। তবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে যুদ্ধ বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তার প্রচেষ্টা স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।

সূত্র: রয়টার্স, এপি, আনাদোলু এজেন্সি

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

নেপালে আকস্মিক বন্যা: মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। তার মতে, এবারের বন্যায় প্রাণহানি ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

৭ ঘণ্টা আগে

জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প, আলোচনায় ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধ

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনের শুরুতেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। এরপর দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক মিলিয়ে অন্তত ১১ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

৭ ঘণ্টা আগে

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে চাপ দিতে পারেন জিনপিং

চীন নিয়মিতই তাইওয়ান ইস্যুকে তাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করে। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিও চীন বারবার জানিয়ে আসছে।

১০ ঘণ্টা আগে

সৌদি আরবকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি সরকার যেন আগামীতে ওই ধরনের হামলা প্রতিহত করতে পারে, সেজন্য তারা সৌদি বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহায়তা করবেন।

১১ ঘণ্টা আগে
Advertisement