শর্ত না মানলে আবারও বোমা ফেলব— ইরানকে নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
জি৭ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে কাঠামোগত সমঝোতা হলেও সেটি এখনো চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতার শর্ত তার পছন্দ না হলে বা ইরান প্রতিশ্রুতি না মানলে আবারও সামরিক হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি এটি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবারও গুলি চালাব, তাদের ওপর বোমা ফেলব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবারও তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলব।’

চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছেছে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে উভয় পক্ষ একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করবে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই সমঝোতাকে তিনি এখনো চূড়ান্ত বলে মনে করছেন না।

ট্রাম্পের লক্ষ্য কতটা অর্জিত?

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখা, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে আনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দুর্বল করা এবং ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত করাই ছিল অভিযানের উদ্দেশ্য।

কিন্তু বর্তমানে সমঝোতার পরও ইরানের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এখনো হস্তান্তর করা হয়নি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও অক্ষত রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধের বিষয়টিও বর্তমান চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, সমঝোতার মূল শর্তগুলোর একটি হলো— ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউরেনিয়ামের মজুত অপসারণ বা ধ্বংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনায় নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।

সমালোচনার মুখেও পড়তে পারেন ট্রাম্প

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ করার এ উদ্যোগ ট্রাম্পকে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থি অংশের সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে। কারণ যুদ্ধের শুরুতে যেসব লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই এখনও পূরণ হয়নি।

এদিকে যুদ্ধবিরতির অন্যতম বড় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে লেবাননকে ঘিরে। ইরান বলছে, স্থায়ী সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননেও সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং ইসরায়েলকে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল এরই মধ্যেই জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান বজায় রাখবে এবং প্রয়োজন হলে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর অধিকার সংরক্ষণ করবে।

এ ইস্যুতেই ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর ভবিষ্যৎ এখনো অনেকটাই নির্ভর করছে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

লেবাননে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল ৪ জনের

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যখন একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দক্ষিণ লেবানন দখল রাখার ঘোষণা এবং এই নতুন হামলায় অঞ্চলটিতে আবারও চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

১৪ ঘণ্টা আগে

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জি-৭ নেতাদের

জি-৭ সম্মেলনের এই বিশেষ অধিবেশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রেসিডেন্ট জেলেঙ্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও'র সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সামাজি

১৪ ঘণ্টা আগে

ইরানে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা, অর্ধেকের বেশি অর্থের প্রতিশ্রুতি

১৮ ঘণ্টা আগে

হরমুজ প্রণালিই ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র— সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

তিনটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সংঘাত ইরানকে বুঝিয়ে দিয়েছে— হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে অচল করে দিলেই বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কা দেওয়া সম্ভব। ফলে যুদ্ধ শেষ হলেও ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে এই কৌশল

১ দিন আগে
শর্ত না মানলে আবারও বোমা ফেলব— ইরানকে নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের