
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ভাণ্ডারের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশটির প্রমাণিত ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তিটির কাঠামো, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নেবে— এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্ব বাড়বে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। দেশটির সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় এই পরিমাণ অনেক কম।
রয়টার্স লিখেছে, নতুন এই চুক্তি কার্যকর হলে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ব্যাপকভাবে বাড়বে। দেশটির তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন কাজ করছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তার নির্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসার অংশীদারত্বে ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ খরচ হবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। চুক্তিটির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে এসব তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকবে।
ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব কোম্পানির মধ্যে বিশেষ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইজারা দেওয়ার একটি মডেল বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আওতায় তেলক্ষেত্রগুলো মার্কিন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে নিলামের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলায় এর বিরুদ্ধে আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। কারণ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেলশিল্পের কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এখনো রাষ্ট্রের হাতে।
ট্রাম্প চুক্তিটির কাঠামো, কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে— এসব বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের হাতে আসা একটি তালিকায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট তেলক্ষেত্রগুলো অরিনোকো বেল্ট ও লেক মারাকাইবো অঞ্চলে অবস্থিত।
মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম খরচের তেল পাবে। এর ফলে পেট্রলের দামও কমতে পারে।
ভেনেজুয়েলার জন্যও চুক্তিটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে বলে জানান রুবিও। তার ভাষ্য, এতে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হন। শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। এতে দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে সরকার ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার কর রাজস্ব পাবে।
এক বিবৃতিতে রদ্রিগেজ বলেন, এসব বিনিয়োগ শুধু ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নেই অবদান রাখবে না; বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ভারসাম্য আনতেও ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে কি না, তা মূল্যায়ন করা কঠিন।
স্বল্পমেয়াদে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম কমাতে পারবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইজারা নেওয়ার এমন কোনো নজিরও নেই বলে জানান তিনি।
ভেনেজুয়েলায় বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার যেসব কারণ রয়েছে, নতুন পরিকল্পনা সেগুলো দূর করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গোল্ডউইন। তার মতে, এই ধরনের ব্যবস্থা বড় পরিসরে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করবে— এমনটা মনে করা কঠিন।
এর পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এবং তেলশিল্পে সরকারের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর থেকেই ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের একটি স্থিতিশীল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে দেশটির তেলশিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের বাড়তি দাম নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ রয়েছে। কম দামে তেলের সরবরাহ এবং উৎপাদন বাড়ানো হলে এ ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) পুনরায় পূরণ করার উপায়ও খুঁজছে। দেশটির এই মজুতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সংরক্ষিত থাকে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন তেল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তার তেলশিল্প জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএকে (PDVSA) শিল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের আমলে সরকার তেলশিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে।
এর অংশ হিসেবে বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তী সময়ে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের পরিচালিত প্রকল্পসহ বিদেশি কোম্পানির বেশ কিছু সম্পদও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল ভাণ্ডারের এক-পঞ্চমাংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশটির প্রমাণিত ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তিটির কাঠামো, কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নেবে— এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এর ফলে দেশের অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্ব বাড়বে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। দেশটির সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় এই পরিমাণ অনেক কম।
রয়টার্স লিখেছে, নতুন এই চুক্তি কার্যকর হলে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ব্যাপকভাবে বাড়বে। দেশটির তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন কাজ করছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তার নির্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসার অংশীদারত্বে ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ খরচ হবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। চুক্তিটির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে এসব তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকবে।
ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দেওয়ার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব কোম্পানির মধ্যে বিশেষ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইজারা দেওয়ার একটি মডেল বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আওতায় তেলক্ষেত্রগুলো মার্কিন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে নিলামের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলায় এর বিরুদ্ধে আইনি ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। কারণ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেলশিল্পের কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ এখনো রাষ্ট্রের হাতে।
ট্রাম্প চুক্তিটির কাঠামো, কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এতে যুক্ত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে— এসব বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের হাতে আসা একটি তালিকায় দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট তেলক্ষেত্রগুলো অরিনোকো বেল্ট ও লেক মারাকাইবো অঞ্চলে অবস্থিত।
মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম খরচের তেল পাবে। এর ফলে পেট্রলের দামও কমতে পারে।
ভেনেজুয়েলার জন্যও চুক্তিটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে বলে জানান রুবিও। তার ভাষ্য, এতে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হন। শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। এতে দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে সরকার ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার কর রাজস্ব পাবে।
এক বিবৃতিতে রদ্রিগেজ বলেন, এসব বিনিয়োগ শুধু ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নেই অবদান রাখবে না; বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ভারসাম্য আনতেও ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে কি না, তা মূল্যায়ন করা কঠিন।
স্বল্পমেয়াদে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম কমাতে পারবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
গোল্ডউইন গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিসের প্রেসিডেন্ট ডেভিড গোল্ডউইন বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইজারা নেওয়ার এমন কোনো নজিরও নেই বলে জানান তিনি।
ভেনেজুয়েলায় বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার যেসব কারণ রয়েছে, নতুন পরিকল্পনা সেগুলো দূর করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গোল্ডউইন। তার মতে, এই ধরনের ব্যবস্থা বড় পরিসরে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করবে— এমনটা মনে করা কঠিন।
এর পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এবং তেলশিল্পে সরকারের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর থেকেই ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের একটি স্থিতিশীল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে দেশটির তেলশিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের বাড়তি দাম নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ রয়েছে। কম দামে তেলের সরবরাহ এবং উৎপাদন বাড়ানো হলে এ ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) পুনরায় পূরণ করার উপায়ও খুঁজছে। দেশটির এই মজুতে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সংরক্ষিত থাকে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন তেল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তার তেলশিল্প জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিডিভিএসএকে (PDVSA) শিল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। পরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের আমলে সরকার তেলশিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে।
এর অংশ হিসেবে বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তী সময়ে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসের পরিচালিত প্রকল্পসহ বিদেশি কোম্পানির বেশ কিছু সম্পদও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের ‘নিশ্চিত পরাজয়’ আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘আধিপত্যের জয়ধ্বনি’ নিয়ে যে যুদ্ধের শুরু, ছয় মাস পর এখন ‘ইরানের জয়ধ্বনি’ আর যুক্তরাষ্ট্রের ‘নৈতিক পরাজয়ে’র দৃশ্যটিই বাস্তবসম্মত। তবে ছয় মাস পেরিয়ে এসে এখন আর ‘কে জিতল’ এই যুদ্ধের মূল জিজ্ঞাসা নয়, বরং প্রশ্ন হলো— কে কত দিন এখনক
১৪ ঘণ্টা আগে
নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় ৩২০, মার্কিন ৯০, ইউক্রেনীয় ৫৫, মালয়েশীয় ৫১, অস্ট্রেলীয় ৩৯, ব্রিটিশ ৩৩ এবং কানাডীয় ২৫ নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জার্মানি, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, লাটভিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও স্পেনের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকেরও নিখোঁজ থা
১৮ ঘণ্টা আগে
আইএফআরসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেপালে জরুরি সহায়তায় জন্য তারা আড়াই কোটি সুইস ফ্রাঁ (প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বা তিন কোটি ১০ লাখ ডলার) অর্থায়নের আবেদন জানিয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
ছয় মাসের যুদ্ধের শেষে ইসরায়েল একটি অদ্ভুত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিল, সেই দেশই এখন দেখতে পাচ্ছে— যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকে আর আগের জায়গায় রাখতে চাইছে না।
২০ ঘণ্টা আগে