
টিম রাজনীতি ডটকম

পূর্ণ শক্তি নিয়ে ইরানে হামলা অব্যাহত রাখবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, তাদের কিছু ‘লক্ষ্য’ রয়েছে। সেগুলো যতক্ষণ না অর্জন হচ্ছে ততক্ষণ তারা অভিযান অব্যাহত রাখবেন।
সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প এমন বার্তা দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ অভিযান পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের সকল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে আরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এটিই একমাত্র পথ। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে এবং সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা সন্ত্রাসীদের ওপর সবচেয়ে শাস্তিমূলক আঘাত করবে।
ইরানের বিভিন্ন সংস্থাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি আবারও রেভ্যুলেশনারি গার্ডস ও ইরানি মিলিটারি পুলিশকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে আহ্বান জানাচ্ছি। এতে তারা সম্পূর্ণ দায়মুক্তি পাবে। তা না হলে নিশ্চিতভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। এটি নিশ্চিত মৃত্যু হবে, এটি সুন্দর হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে, অন্যদিকে পড়তে শুরু করেছে পুঁজিবাজারের সূচক।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেলের দাম বাড়ছে। এর মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) এশিয়ার জ্বালানি বাজার খোলার শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড ও নিম্যাক্স লাইট সুইট ওয়েল— দুই ধরনের তেলের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। পরে তা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রেখেছে।
সবশেষ তথ্য বলছে, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের প্রতি ব্যারেলের দাম প্রায় ৭৯ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছে গেছে, যা ৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে নিমেক্স লাইট সুইট অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭০ ডলারে, যা প্রায় আট দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে রোববারও (১ মার্চ) ব্রেন্ট ক্রুড তথা অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে খুব একটা সময় লাগবে না।
তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখীর প্রবতার মধ্যে এশিয়ার পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যচ্ছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক প্রায় ২ শতাংশ ও জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ বাজার সময়ের বাইরে লেনদেন হওয়া স্টক ফিউচারের বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে, যা ওয়াল স্ট্রিটে অস্থির দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ও নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি মধ্যপ্রাচ্যে ‘নিজেদের স্বার্থ রক্ষা’য় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। দেশ তিনটি এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের ‘বাছবিচারহীন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্ৎস বিবৃতিতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তেহরান যেন হামলা বন্ধ করে।
শনিবার ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশেও হামলা করে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি সুদীর্ঘ দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত। এ কারণেই ইরানের ওপর হামলার ঘটনাতেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছে। এমনকি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যায় ফ্রান্স সন্তোষও জানিয়েছে।
ইউরোপের এই তিন দেশ বলছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ও তাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আমাদের এবং এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নেব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের সক্ষমতা তাদের উৎসমুখেই ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।
কেবল ইউরোপের এই তিন দেশ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ দেশই চলমান যুদ্ধে ইরানের বিপক্ষে ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলাকে তারা ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে বিবৃতি দিয়েছে। চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানই কেবল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষ নেওয়ায় এবার লেবাননের বিরুদ্ধে হামলে পড়েছে ইসরায়েল। এরই মধ্যে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার কিছু আগে শহর জুড়ে হামলা চালায় ইসরায়েল। এ সময় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠতে হয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের।
এর আগে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সাইটে একযোগে নির্ভুলভাবে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত বলেছে, এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের জন্য হুমকি। তারা হিজবুল্লাহর হাতে উত্তর ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি হতে দেবে না।
ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এই গোষ্ঠী জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনীকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা করেছে তারা।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহর প্রজেক্টাইল হামলার জবাবে লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে তারা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর নিক্ষেপ করা প্রজেক্টাইল ইসরায়েলি ভূখণ্ডের উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে।
হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। গত শতকের আশির দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করার জন্য এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া শক্তি ইরান প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নতুন করে আরও এক দফা শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আইডিএফ এ হামলার কথা জানিয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আইডিএফ জানিয়েছে, সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবাহিনী এখন তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরেক দফা হামলা শুরু করেছে।