ইরান জানিয়েছে বিপর্যয়ের মধ্যে আছে: ট্রাম্প

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ১৫
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাকে জানিয়েছে যে দেশটি বর্তমানে 'রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ে'র মধ্যে রয়েছে এবং নিজেদের নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কারণ, তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে 'সন্তুষ্ট নন' ট্রাম্প।

ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দুই মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধ শেষ না হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথ সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা হবে।

তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান চান বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত এক মার্কিন কর্মকর্তা।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, "ইরান আমাদের জানিয়েছে যে তারা এখন 'রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ে'র মধ্যে রয়েছে। তারা চায় আমরা যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দিই, যাতে তারা তাদের নেতৃত্ব পরিস্থিতি গুছিয়ে নিতে পারে।"

তবে ইরান কীভাবে এই বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু জানাননি।

সৌদি আরবে উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার সৌদি আরবে বৈঠকে বসেছেন উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা। এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো যে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে, সে বিষয়ে যৌথ প্রতিক্রিয়া নির্ধারণই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য।

এদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামলা কমে এলেও পুনরায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীগুলো।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের করা পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছিল। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। কিন্তু ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলে চুক্তিটি ভেঙে পড়ে।

শান্তি উদ্যোগে অনিশ্চয়তা

হাজারো প্রাণহানি, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী এই সংঘাত নিরসনের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে, যখন গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সপ্তাহের শেষদিকে দুই দফা ইসলামাবাদ সফর করেন। এছাড়া তিনি ওমান সফরের পর সোমবার রাশিয়ায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়ার সমর্থন পান।

আবারও বাড়ছে তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, ইরান যুদ্ধজনিত বড় ধরনের বিঘ্ন মে মাসে শেষ হলেও ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে জ্বালানি মূল্য।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে তেল রপ্তানিকারক জোট এবং এর প্রধান প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব বড় ধাক্কায় পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানি তেলবাহী অন্তত ছয়টি ট্যাংকার মার্কিন অবরোধের কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তবে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকেই সম্ভাব্য নৌ অবরোধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তাই 'উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই'।

তিনি জানান, উপসাগরীয় বন্দরনির্ভরতা কমাতে ইরান উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলীয় বাণিজ্য করিডর ব্যবহার করছে।

ইরান চেম্বার অব কমার্সের অর্থনীতিবিদ রেজা রোস্তামি জানান, বেসরকারি খাত বর্তমানে কাস্পিয়ান সাগরের চারটি বন্দর এবং তুরস্ক ও তুর্কমেনিস্তান হয়ে রেলপথ ব্যবহার করছে। এ ছাড়া ওমান ও পাকিস্তানের বন্দর ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

শিপিং ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্টান কেপলার ও সিনম্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছে। এর একটিও বৈশ্বিক বাজারের জন্য তেল বহন করছিল না।

যুদ্ধ বন্ধে চাপের মুখে ট্রাম্প

নিজ দেশে জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় যুদ্ধ বন্ধে দেশীয় চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। কারণ, এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের কাছে তিনি বারবার ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আরাগচি যে প্রস্তাব ইসলামাবাদে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে ধাপে ধাপে আলোচনার পরিকল্পনা ছিল এবং শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যু বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়।

প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যাতে আবার যুদ্ধ শুরু করতে না পারে, সে নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। এরপর সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হবে।

সবশেষে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের 'অধিকার নিশ্চিতে' যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো না কোনো স্বীকৃতি চাইছে তেহরান।

রাজনীতি/আইআর

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

৫১ অভিবাসন প্রত্যাশী নিয়ে লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, ১১ লাশ উদ্ধার

ইউরোপে উদ্দেশে রওনা হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা গত সপ্তাহে লিবিয়া উপকূলে ডুবে গিয়ে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘আবরিন’। এ দুর্ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা এবং নিখোঁজদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের হদিস মেলেনি।

৭ ঘণ্টা আগে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বড় সুবিধা পাবে আইআরজিসির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের দৃষ্টিতে যাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটিতে পরিণত হতে পারে।

৯ ঘণ্টা আগে

‘বিশ্বাসঘাতক’ ট্রাম্পের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় ক্ষোভ, এককভাবে লড়াইয়ের পক্ষে ইসরায়েলিরা

৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবেও কঠিন হয়ে উঠেছে। দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন এই নেতা এখন ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এখনও তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।

১০ ঘণ্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন উইটকফ ও আরাগচি

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন ইরান যুদ্ধ চুক্তিকে একটি স্থায়ী আঞ্চলিক চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা আবারও জোরদার হয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়েই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে এক্সিওসের বরাতে জানিয়ে

১২ ঘণ্টা আগে