
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) ব্যবসা এবং ওয়াশিংটনের ‘চিরশত্রু’ ইরানের শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ একই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সুবিধা ভোগ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো স্টার্টআপ ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে’র পেছনে মূল অর্থ জোগানদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করা দুই ধনকুবেরের ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।
রয়টার্স কর্তৃক ব্লকচেইন ডেটা বিশ্লেষণের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যকার সাংঘর্ষিক অবস্থানকে নতুন করে বড় বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ইরানি লেনদেনের অংক ২.৩ বিলিয়ন ডলার
রয়টার্সের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘নোবিটেক্স’ (Nobitex) ক্রিপ্টো ধনকুবের জাস্টিন সান ও চ্যাংপেং ঝাওয়ের প্রতিষ্ঠিত ব্লকচেইন যথাক্রমে— ‘ট্রন’ (Tron) এবং ‘বিএনবি চেইন’ (BNB Chain)-এর মাধ্যমে অন্তত ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টো লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ট্রন ও বিএনবি চেইন নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীরা এই ব্লকচেইনগুলো ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি বা মাশুল প্রদান করে থাকেন, যা মূলত একটি সুরক্ষিত ও জালিয়াতিমুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান হিসেবে কাজ করে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীনও ইরানের অর্থ এই দুটি ডিজিটাল খতিয়ানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই লেনদেনের নেপথ্যে থাকা দুই শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক জাস্টিন সান এবং বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের মালিক চ্যাংপেং ঝাও— উভয়েই ক্রিপ্টো ফার্ম ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে’র অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আস্থাভাজন অংশীদার।
‘নাটকীয় পরিহাস’ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প পরিবার ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ নোবিটেক্সের এই ‘ট্রন’ এবং ‘বিএনবি’ ব্লকচেইন ব্যবহারের বিষয়টি জানত— এমন কোনো প্রমাণ অবশ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ট্রাম্পের বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ইন্টারনেট এনফোর্সমেন্ট দপ্তরের সাবেক প্রধান জন রিড স্টার্ক এই পরিস্থিতিকে একটি ‘নাটকীয় পরিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব গোষ্ঠী এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ক্রিপ্টো অর্থায়ন করছে, তারা আসলে তারাই— যাদেরকে প্রেসিডেন্ট স্বয়ং যুদ্ধে পরাজিত করার চেষ্টা করছেন।’
তবে এই অভিযোগ বা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পর্ক খোঁজার এই অদ্ভুত চেষ্টা পুরোপুরি হাস্যকর।’ অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড লিবার্টির এক নারী মুখপাত্র জানিয়েছেন, নোবিটেক্সের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা মার্কিন আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি কোনোভাবেই ট্রন ব্লকচেইন নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করে না।’
কারা এই নোবিটেক্সের নিয়ন্ত্রক?
রয়টার্স গত ১ মে এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, নোবিটেক্স এক্সচেঞ্জটি ইরানের একটি প্রভাবশালী পরিবারের দুই ভাইয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাদের সাথে দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে এই এক্সচেঞ্জটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য ইরানের একটি সমান্তরাল আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নোড বা ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোবিটেক্সের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অন্যতম।
২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নোবিটেক্স এবং বাইন্যান্স এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রায় ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন হয়েছিল, যার সিংহভাগই ছিল ট্রনের ক্রিপ্টোকারেন্সি। নোবিটেক্স মূলত তাদের গ্রাহকদের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং পরিচয় গোপন রেখে লেনদেনের জন্য ট্রন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছিল।
গবেষক ও ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ রিচ স্যান্ডার্স বলেন, রয়টার্সের পাওয়া ২.৩ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি মূলত দৃশ্যমান ওয়ালেট অ্যাড্রেসের ওপর ভিত্তি করে করা। প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ট্র্যাকিং ও ইন্টারসেপ্ট এড়াতে ইরানি কোম্পানিটি প্রতিনিয়ত তাদের ওয়ালেট অ্যাড্রেস পরিবর্তন করে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাফাই
বিএনবি চেইন এবং বাইন্যান্সের মুখপাত্ররা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাইন্যান্স সরাসরি বিএনবি চেইন নিয়ন্ত্রণ করে না। বিএনবি চেইনের মুখপাত্র আনা নিকোয়ারা বলেন, ‘এটি একটি পাবলিক ব্লকচেইন যা একটি স্বাধীন বৈশ্বিক কমিউনিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি কোনো এক্সচেঞ্জ বা কোম্পানি নয় এবং এটি বাইন্যান্সও নয়।’ তবে আবুধাবির কর্পোরেট রেকর্ড বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও এখনো বিএনবি চেইন টেকনোলজি হোল্ডিংয়ের একমাত্র তালিকাভুক্ত শেয়ারহোল্ডার।
এদিকে ট্রনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা কেবল একটি প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি ব্যবহারকারী বা লেনদেনের ওপর নজরদারি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কাজ করে শত শত মিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন ফান্ড ফ্রিজ করেছেন। নোবিটেক্সও সরকারের সাথে সরাসরি সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল ও ট্রাম্পের ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি
ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ৫০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের স্টেবলকয়েন ‘টেথার’ ক্রয় করে। পরবর্তীতে এর মধ্য থেকে প্রায় ৩৪.৭ কোটি ডলার নোবিটেক্সে পাঠানো হয়। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই টেথারকে অন্য কয়েনে রূপান্তর করে বিএনবি চেইনসহ বিভিন্ন ব্লকচেইনে ঘুরিয়ে আবার নোবিটেক্সে নিয়ে আসে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প পরিবার এবং তাদের ক্রিপ্টো সহযোগীদের ভাগ্য বদলে যেতে শুরু করে। গত বছর ওয়ার্ল্ড লিবার্টি যখন বিনিয়োগকারী সংকটে ভুগছিল, তখন ট্রনের প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন সান কোম্পানিটির লাখ লাখ ডলারের ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়ালের নিজস্ব টোকেন ‘WLFI’ কিনে এর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দাঁড় করান। বর্তমানে সানের ঝুলিতে থাকা ট্রাম্পের টোকেনের মূল্য প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, আবুধাবির একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘MGX’ যখন বাইন্যান্সে ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কেনে, তখন বাইন্যান্সের অনুরোধে সেই লেনদেন করা হয় ট্রাম্পের ওয়ার্ল্ড লিবার্টির নিজস্ব স্টেবলকয়েন ‘USD1’-এর মাধ্যমে। এই চুক্তির ফলে ট্রাম্প পরিবার প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার লভ্যাংশ পাচ্ছে। এর পরপরই ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওয়ের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যর্থতার ফেডরেল সাজা মওকুফ বা ক্ষমা করে দেন। যদিও আইনজীবীদের দাবি, এই ক্ষমার সাথে ক্রিপ্টো ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন প্রশাসন ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং এসইসি জাস্টিন সানের বিরুদ্ধে থাকা জালিয়াতির মামলা মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কোনো প্রকার দোষ স্বীকার ছাড়াই খারিজ করেছে। বর্তমানে বাইন্যান্সের কাছে ট্রাম্পের নিজস্ব ক্রিপ্টো টোকেনের প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের তহবিল রয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারিবারিক ক্রিপ্টোকারেন্সি (ডিজিটাল মুদ্রা) ব্যবসা এবং ওয়াশিংটনের ‘চিরশত্রু’ ইরানের শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ একই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সুবিধা ভোগ করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো স্টার্টআপ ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে’র পেছনে মূল অর্থ জোগানদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করা দুই ধনকুবেরের ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।
রয়টার্স কর্তৃক ব্লকচেইন ডেটা বিশ্লেষণের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যকার সাংঘর্ষিক অবস্থানকে নতুন করে বড় বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ইরানি লেনদেনের অংক ২.৩ বিলিয়ন ডলার
রয়টার্সের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘নোবিটেক্স’ (Nobitex) ক্রিপ্টো ধনকুবের জাস্টিন সান ও চ্যাংপেং ঝাওয়ের প্রতিষ্ঠিত ব্লকচেইন যথাক্রমে— ‘ট্রন’ (Tron) এবং ‘বিএনবি চেইন’ (BNB Chain)-এর মাধ্যমে অন্তত ২৩০ কোটি (২.৩ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টো লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ট্রন ও বিএনবি চেইন নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীরা এই ব্লকচেইনগুলো ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ফি বা মাশুল প্রদান করে থাকেন, যা মূলত একটি সুরক্ষিত ও জালিয়াতিমুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান হিসেবে কাজ করে।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীনও ইরানের অর্থ এই দুটি ডিজিটাল খতিয়ানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই লেনদেনের নেপথ্যে থাকা দুই শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক জাস্টিন সান এবং বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের মালিক চ্যাংপেং ঝাও— উভয়েই ক্রিপ্টো ফার্ম ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালে’র অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আস্থাভাজন অংশীদার।
‘নাটকীয় পরিহাস’ ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প পরিবার ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ নোবিটেক্সের এই ‘ট্রন’ এবং ‘বিএনবি’ ব্লকচেইন ব্যবহারের বিষয়টি জানত— এমন কোনো প্রমাণ অবশ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ট্রাম্পের বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ইন্টারনেট এনফোর্সমেন্ট দপ্তরের সাবেক প্রধান জন রিড স্টার্ক এই পরিস্থিতিকে একটি ‘নাটকীয় পরিহাস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব গোষ্ঠী এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ক্রিপ্টো অর্থায়ন করছে, তারা আসলে তারাই— যাদেরকে প্রেসিডেন্ট স্বয়ং যুদ্ধে পরাজিত করার চেষ্টা করছেন।’
তবে এই অভিযোগ বা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউজ। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে ইরানের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পর্ক খোঁজার এই অদ্ভুত চেষ্টা পুরোপুরি হাস্যকর।’ অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড লিবার্টির এক নারী মুখপাত্র জানিয়েছেন, নোবিটেক্সের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা মার্কিন আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি কোনোভাবেই ট্রন ব্লকচেইন নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করে না।’
কারা এই নোবিটেক্সের নিয়ন্ত্রক?
রয়টার্স গত ১ মে এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, নোবিটেক্স এক্সচেঞ্জটি ইরানের একটি প্রভাবশালী পরিবারের দুই ভাইয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাদের সাথে দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে এই এক্সচেঞ্জটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য ইরানের একটি সমান্তরাল আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নোড বা ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোবিটেক্সের ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অন্যতম।
২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নোবিটেক্স এবং বাইন্যান্স এক্সচেঞ্জের মধ্যে প্রায় ৭.৮ বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো লেনদেন হয়েছিল, যার সিংহভাগই ছিল ট্রনের ক্রিপ্টোকারেন্সি। নোবিটেক্স মূলত তাদের গ্রাহকদের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং পরিচয় গোপন রেখে লেনদেনের জন্য ট্রন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে আসছিল।
গবেষক ও ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ রিচ স্যান্ডার্স বলেন, রয়টার্সের পাওয়া ২.৩ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি মূলত দৃশ্যমান ওয়ালেট অ্যাড্রেসের ওপর ভিত্তি করে করা। প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ট্র্যাকিং ও ইন্টারসেপ্ট এড়াতে ইরানি কোম্পানিটি প্রতিনিয়ত তাদের ওয়ালেট অ্যাড্রেস পরিবর্তন করে।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাফাই
বিএনবি চেইন এবং বাইন্যান্সের মুখপাত্ররা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বাইন্যান্স সরাসরি বিএনবি চেইন নিয়ন্ত্রণ করে না। বিএনবি চেইনের মুখপাত্র আনা নিকোয়ারা বলেন, ‘এটি একটি পাবলিক ব্লকচেইন যা একটি স্বাধীন বৈশ্বিক কমিউনিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি কোনো এক্সচেঞ্জ বা কোম্পানি নয় এবং এটি বাইন্যান্সও নয়।’ তবে আবুধাবির কর্পোরেট রেকর্ড বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও এখনো বিএনবি চেইন টেকনোলজি হোল্ডিংয়ের একমাত্র তালিকাভুক্ত শেয়ারহোল্ডার।
এদিকে ট্রনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা কেবল একটি প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি ব্যবহারকারী বা লেনদেনের ওপর নজরদারি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কাজ করে শত শত মিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন ফান্ড ফ্রিজ করেছেন। নোবিটেক্সও সরকারের সাথে সরাসরি সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল ও ট্রাম্পের ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি
ক্রিপ্টো বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ৫০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের স্টেবলকয়েন ‘টেথার’ ক্রয় করে। পরবর্তীতে এর মধ্য থেকে প্রায় ৩৪.৭ কোটি ডলার নোবিটেক্সে পাঠানো হয়। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই টেথারকে অন্য কয়েনে রূপান্তর করে বিএনবি চেইনসহ বিভিন্ন ব্লকচেইনে ঘুরিয়ে আবার নোবিটেক্সে নিয়ে আসে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প পরিবার এবং তাদের ক্রিপ্টো সহযোগীদের ভাগ্য বদলে যেতে শুরু করে। গত বছর ওয়ার্ল্ড লিবার্টি যখন বিনিয়োগকারী সংকটে ভুগছিল, তখন ট্রনের প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন সান কোম্পানিটির লাখ লাখ ডলারের ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়ালের নিজস্ব টোকেন ‘WLFI’ কিনে এর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দাঁড় করান। বর্তমানে সানের ঝুলিতে থাকা ট্রাম্পের টোকেনের মূল্য প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, আবুধাবির একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘MGX’ যখন বাইন্যান্সে ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কেনে, তখন বাইন্যান্সের অনুরোধে সেই লেনদেন করা হয় ট্রাম্পের ওয়ার্ল্ড লিবার্টির নিজস্ব স্টেবলকয়েন ‘USD1’-এর মাধ্যমে। এই চুক্তির ফলে ট্রাম্প পরিবার প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার লভ্যাংশ পাচ্ছে। এর পরপরই ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওয়ের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ব্যর্থতার ফেডরেল সাজা মওকুফ বা ক্ষমা করে দেন। যদিও আইনজীবীদের দাবি, এই ক্ষমার সাথে ক্রিপ্টো ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে মার্কিন প্রশাসন ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং এসইসি জাস্টিন সানের বিরুদ্ধে থাকা জালিয়াতির মামলা মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কোনো প্রকার দোষ স্বীকার ছাড়াই খারিজ করেছে। বর্তমানে বাইন্যান্সের কাছে ট্রাম্পের নিজস্ব ক্রিপ্টো টোকেনের প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের তহবিল রয়েছে।
রাজনীতি/আইআর

বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পরদিন হিজরি মাসের চাঁদ দেখা যায়। সে হিসাবে বাংলাদেশে ১৯ মে শুরু হতে পারে জিলহজ মাস, ঈদুল আজহার প্রথম দিন হতে পারে ২৮ মে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে এ কমিটি।
১৭ ঘণ্টা আগে
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ-এ অবস্থিত সালিশি আদালত (কোর্ট অব আরবিট্রেশন) সাম্প্রতিক যে রায় দিয়েছে, ভারত মানবে না ভারত। সালিশি আদালতের এই রায়কে ‘বেআইনিভাবে গঠিত’ আদালতের রায় আখ্যা দিয়ে তা ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
২০ ঘণ্টা আগে
ক্যাসিডি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, তা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ট্রাম্পের নিজেরই এক পোস্টে স্পষ্ট হয়েছে। লেটলোকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি কাসিডির পরাজয় নিয়ে উষ্মা ও খোঁচা দিয়ে তিনি লিখেছেন, 'যে মানুষটি তাকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছিল, তার প্রতি ক্যাসিডির এই বেইমানি এখন একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।
২১ ঘণ্টা আগে
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও তীব্র জনঅসন্তোষের মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট সময়ে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে ইতোমধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেনতিনি। আজ রোববার কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবা
১ দিন আগে